গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • নারায়নগঞ্জ কলেজ • নারায়নগঞ্জ কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

মৌমিতার বয়স ৬ মাস। সে খুব দ্রুত ওজন ও উচ্চতায় বাড়ছে। মৌমিতার খালা তার মাকে বললেন, “মৌমিতার প্রতি অধিক যত্নশীল হও। কেননা শৈশবের বিকাশ অনেক সংকটময়।”

  1. ক)

    বর্ধনের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    পরিপক্বতা ও শিক্ষণ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মৌমিতা তার জীবনের কোন সময়কাল অতিক্রম করছে? এ সময়কালের দৈহিক বিকাশ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মৌমিতার খালার উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আকার, আয়তন, ওজন ও উচ্চতার পরিমাপযোগ্য পরিবর্তনকে বর্ধন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিপক্বতা হলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যের স্বাভাবিক ক্রমবিকাশ, আর শিক্ষণ হলো অভিজ্ঞতা ও অনুশীলনের মাধ্যমে আচরণের পরিবর্তন। পরিপক্বতা ছাড়া কোনো শিক্ষণ সম্ভব নয়; যেমন শিশুর পায়ের পেশি ও হাড় উপযুক্ত পরিপক্বতা লাভ না করলে তাকে জোর করে হাঁটানো শেখানো যায় না। আবার পরিপক্বতা আসার পর সঠিক শিক্ষণ ও অনুশীলন না থাকলে দক্ষতা পূর্ণতা পায় না। তাই পরিপক্বতা ও শিক্ষণ পরস্পর গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মৌমিতা তার জীবনের ‘শৈশবকাল’ (Infancy/Babyhood - বিশেষত প্রারম্ভিক শৈশব বা শিশু বয়স) অতিক্রম করছে।

    এ সময়কালের দৈহিক বিকাশের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
    ১. দ্রুত বৃদ্ধি: জন্মের পর প্রথম বছরে শিশুর ওজন ও উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ে।
    ২. শারীরিক অনুপাতের পরিবর্তন: শরীরের তুলনায় মাথার অনুপাত ধীরে ধীরে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে শুরু করে এবং হাত-পায়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।
    ৩. দাঁত ওঠা: সাধারণত ৫ থেকে ৬ মাস বয়সে শিশুর অস্থায়ী বা দুধদাঁত ওঠা শুরু হয়।
    ৪. পেশির নিয়ন্ত্রণ ও সঞ্চালন: ঘাড় শক্ত হওয়া, উপুড় হওয়া, নিজে নিজে বসতে চেষ্টা করা এবং কোনো বস্তু হাত দিয়ে ধরার মতো সঞ্চালনমূলক দক্ষতার সূচনা এ বয়সেই ঘটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মৌমিতার খালার উক্তিটি—“শৈশবের বিকাশ অনেক সংকটময়”—সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    মানবজীবনের সামগ্রিক বিকাশের ভিত্তি রচিত হয় শৈশবে। শৈশবকালীন দৈহিক, মানসিক ও সংবেদনশীল বিকাশ পরবর্তী জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। এ সময়টিকে সংকটময় বলার কারণসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. দ্রুত বর্ধন ও পুষ্টির চাহিদা: শৈশবে শারীরিক বৃদ্ধির গতি তীব্র থাকায় এ সময়ে সুষম ও পরিপূরক খাবারের অভাব ঘটলে শিশু অপুষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে পারে।
    ২. সংবেদনশীলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: শৈশবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে না ওঠায় শিশুরা সহজেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে, যা অসতর্কতায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
    ৩. মস্তিষ্কের বিকাশ: জীবনের প্রথম কয়েক বছরে মস্তিষ্কের অধিকাংশ বিকাশ ঘটে। এ সময়ে উদ্দীপনা, যত্ন ও অনুকূল পরিবেশ না পেলে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
    ৪. মানসিক নিরাপত্তা ও বন্ধন: মা ও পরিবারের সান্নিধ্য শিশুর মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার ভিত্তি স্থাপন করে। এ সময় অবহেলার শিকার হলে শিশুর আবেগীয় ও সামাজিক বিকাশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    সুতরাং, শৈশবের কোনো ত্রুটি পরবর্তী জীবনে অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করতে পারে বিধায় খালার এই সতর্কতা ও উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন