বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

আশফাক সাহেব নিজের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার একমাত্র ছেলে তন্ময়ের জন্য তিনি একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিয়ের প্রস্তাব মেনে নেন। মেয়েটি মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী এবং উচ্চশিক্ষিত। তবে, বিয়ের অনুষ্ঠানের পূর্বমুহূর্তে মেয়েটি জানতে পারে, আশফাক সাহেব তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পণ হিসেবে একটি বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছেন। তখন মেয়েটি পরিবারের সকলের আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেই সামনে এসে যোষণা করে, "একজন মানুষের মর্যাদা এবং সম্পর্ক অর্থের উপর নির্ভরশীল হতে পারে না। আমি এমন কোনো সম্পর্কে জড়াতে চাই না, যেখানে আত্মসম্মান নেই।" মেয়েটি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

  1. ক)

    'অপরিচিতা' গল্পে কথকের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ।'-উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আশফাকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? সাদৃশ্যের কারণ বুঝিয়ে দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্য কতটা প্রতিফলিত হয়েছে বলে তুমি মনে কর, তা নিজের ভাষায় বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'অপরিচিতা' গল্পে কথকের নাম অনুপম।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'একে তো বরের হাট মহার্ঘ, তাহার পরে ধনুক-ভাঙা পণ'—উক্তিটি দ্বারা তৎকালীন সমাজে সৎপাত্রের সংকট এবং সেই সুযোগে বরপক্ষের মাত্রাতিরিক্ত ও অনমনীয় পণ দাবির বাস্তবতাকে বোঝানো হয়েছে।

    তৎকালীন বাঙালি সমাজে কন্যার জন্য উপযুক্ত ও শিক্ষিত বরের খুব অভাব ছিল। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বরপক্ষ কঠোর ও চড়া পণ দাবি করত। শম্ভুনাথ সেন কল্যাণীর জন্য ভালো পাত্র খুঁজতে গিয়ে দেখছিলেন একদিকে ভালো বরের অভাব, অন্যদিকে বরপক্ষের অতিরিক্ত ও আপসহীন পণের দাবি, যা পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আশফাক সাহেবের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য রয়েছে।

    'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামা ছিলেন লোভী, স্বার্থপর এবং বৈষয়িক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি। বিয়ের আসরে তিনি কনের গহনা খাঁটি কি না তা যাচাই করার জন্য স্যাকরা নিয়ে আসেন এবং পণের প্রতিটি পয়সা ও গহনার নিখুঁত হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিতে দ্বিধাবোধ করেননি। কন্যার পরিবারের সম্মান ও অনুভূতির চেয়ে তাঁর কাছে অর্থ-সম্পদের লোভই ছিল প্রধান।

    উদ্দীপকের আশফাক সাহেবও ছেলের বিয়ের পূর্বমুহূর্তে কনেপক্ষের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং একটি বড় অঙ্কের অর্থ বা পণ দাবি করেছেন। তিনি মানবিক মর্যাদা ও সম্পর্কের চেয়ে পার্থিব অর্থ-সম্পদকে বড় করে দেখেছেন। অনুপমের মামার মতোই তাঁর মধ্যে অর্থলিপ্সা এবং সম্পর্কের চেয়ে অর্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা বিদ্যমান থাকায় উভয় চরিত্রের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্য অর্থাৎ যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আত্মমর্যাদাবোধের প্রকাশ গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'অপরিচিতা' গল্পের মূল সুর হলো যৌতুক প্রথার নির্মমতা এবং এই কুপ্রথার বিরুদ্ধে নারীর আত্মমর্যাদাবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবাদ। গল্পে শম্ভুনাথ সেন যখন বরপক্ষের লোভ ও অসম্মানজনক আচরণে বিয়ে ভেঙে দেন, পরবর্তীকালে কল্যাণীও সেই প্রতিবাদী মনোভাব বজায় রেখে আত্মনির্ভরশীল হয়ে নারীশিক্ষায় ব্রতী হয় এবং চিরকুমারীর ব্রত গ্রহণ করে। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্কে জড়ানো যে অসম্ভব, কল্যাণীর চরিত্র তারই প্রতীক।

    উদ্দীপকের পাত্রী চরিত্রটিও আশফাক সাহেবের পণ দাবির মুখে নতি স্বীকার করেনি। সে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করে যে, আত্মমর্যাদাহীন কোনো সম্পর্কে সে জড়াবে না এবং বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এ ঘটনাটি সরাসরি 'অপরিচিতা' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য—যৌতুকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও মানবিক মর্যাদাকে ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়াকে তুলে ধরে।

    অতএব, পণপ্রথাকে ধিক্কার জানিয়ে আত্মসম্মান রক্ষা করার যে বক্তব্য 'অপরিচিতা' গল্পের প্রাণ, তা উদ্দীপকে পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন