ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

চাঁদপুরের ইলিশ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। দেশের ইলিশ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে অনেক দিন থেকে। সরকার এবং মৎস্যজীবীদের সঠিক পদক্ষেপের কারণে ইলিশের উৎপাদন অনেকগুণ বেড়েছে। উৎপাদন বাড়লেও বাজারজাতকরণের সমস্যা থাকায় বাজারে ইলিশের দাম অস্থিতিশীল। বিশেষ করে সংরক্ষণ এবং যথাসময়ে বাজারে প্রেরণের সীমাবদ্ধতা এ ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।

  1. ক)

    পুনঃরপ্তানি কী?

    (1)
  2. খ)

    আইন কীভাবে ব্যবসায়কে নিয়ন্ত্রণ করে?

    (2)
  3. গ)

    কোন পরিবেশ বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদনে ভূমিকা রেখেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাজারে ইলিশের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য করণীয় দিকগুলো উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাতকরণ বা অপরিবর্তিত অবস্থায় পুনরায় অন্য কোনো দেশে রপ্তানি করাকে পুনঃরপ্তানি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন মূলত ব্যবসায় পরিচালনার নিয়মকানুন নির্ধারণ, অনৈতিক কার্যকলাপ রোধ এবং ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে ব্যবসায়কে নিয়ন্ত্রণ করে।

    বাণিজ্যিক আইন, কোম্পানি আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ইত্যাদির মাধ্যমে সরকার ব্যবসায়ের পরিবেশ শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখে। আইন অসাধু ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন বা ভেজাল পণ্য বিক্রয় থেকে বিরত রাখে। এভাবে আইন ব্যবসায়ের পরিধি, দায়বদ্ধতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ অর্থনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদনে মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

    একটি দেশের ভূ-প্রকৃতি, নদী-নালা, জলবায়ু, সাগর, নদ-নদীর পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয়, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। ব্যবসায়ের অন্যান্য পরিবেশ প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে।

    বাংলাদেশের নদীমাতৃক ভৌগোলিক অবস্থান এবং পদ্মা-মেঘনা অববাহিকা ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রদান করে। চাঁদপুরের মেঘনা নদীর পানির গুণগত মান, স্রোত ও খাদ্যের প্রাপ্যতা ইলিশের প্রাচুর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দীপকে ইলিশের যে বিপুল উৎপাদন ও বিশ্বব্যাপী খ্যাতির কথা বলা হয়েছে, তার মূল ভিত্তি হলো দেশের নদ-নদী কেন্দ্রিক এই প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক পরিবেশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাজারে ইলিশের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও দক্ষ সরবরাহ চেইন গড়ে তোলা আবশ্যক।

    উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, সরকার ও মৎস্যজীবীদের প্রচেষ্টায় ইলিশের উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ এবং যথাসময়ে বাজারে প্রেরণের সীমাবদ্ধতার কারণে বাজারে ইলিশের দাম অস্থিতিশীল থাকে। এ সমস্যা সমাধানে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা প্রয়োজন:

    ১. আধুনিক হিমাগার স্থাপন: ইলিশ দ্রুত পচনশীল পণ্য। ইলিশ আহরণ অঞ্চলে পর্যাপ্ত ও আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপন করতে হবে, যাতে মৌসুমের অতিরিক্ত ইলিশ নষ্ট না হয়ে দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করা যায়।

    ২. উন্নত ও দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা: আহরিত ইলিশ যাতে দ্রুততম সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য বিশেষায়িত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা আইসড যানবাহন এবং নিরবচ্ছিন্ন লজিস্টিক নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে হবে।

    ৩. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: ইলিশের বাজার থেকে সিন্ডিকেট ও ফড়িয়াদের প্রভাব দূর করে জেলেদের সরাসরি বাজারের সাথে যুক্ত করতে হবে, যাতে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা যায়।

    ৪. বাজার তদারকি ও তথ্যের প্রাপ্যতা: সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ ও চাহিদার সঠিক পরিসংখ্যান বজায় রাখা জরুরি।

    অতএব, যথাযথ সংরক্ষণ সুবিধার বিস্তার ও কার্যকর বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে চাহিদামাফিক সরবরাহ নিশ্চিত হয়ে বাজারে ইলিশের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন