উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
রবিন সাহেব দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। সাত বছর আগে তিনি দেশে ফিরে তার সঞ্চিত অর্থ দিয়ে পৈতৃক ভূমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। তার জমি কমলালেবু উৎপাদনে খুব উপযোগী। ২০১৭ সালে তিনি শ্রম ও মূলধন বাবদ ৫,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৭ মে. টন কমলালেবু উৎপাদন করেন। ২০১৮ সালে তিনি একই জমিতে ৫,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৮ মে. টন, ২০১৯ সালে ৬,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৯.২ মে. টন,২০২০ সালে ৬,৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ মে. টন এবং ২০২১ সালের ৭,০০,০০০ টাকা বিনিয়র করে১০-১৫ মে. টন কমলালেবু উৎপাদন করেন।
- ক)(1)
ভূমি কি?
- খ)(2)
শ্রমিক ও শ্রম অবিচ্ছিন্ন- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
রবিনের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ উৎপাদনের কোন উপকরণের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে একই জমিতে উপকরণ বাড়ালেও এর প্রান্তিক উৎপাদন কি ক্রমান্বয়ে বাড়ে? বিষয়টি ভূমির প্রান্তিক উৎপাদন বিধির আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রকৃতির সকল দান যা মানুষের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে থেকে উৎপাদন কার্যে সাহায্য করে এবং যার সরবরাহ সীমাবদ্ধ, তাকে ভূমি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রমিক ও শ্রম পরস্পর অবিচ্ছিন্ন, কারণ শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক শক্তির বহিঃপ্রকাশই হলো শ্রম। শ্রমকে কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকের দেহ থেকে পৃথক করে সংরক্ষণ বা অন্যত্র স্থানান্তর করা যায় না। শ্রম বিক্রি করতে হলে শ্রমিককে সশরীরে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে হয়। তাই শ্রমিক ও তার শ্রম সম্পূর্ণ অবিচ্ছেদ্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রবিনের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ উৎপাদনের 'মূলধন' উপকরণের অন্তর্গত।
মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত যে সম্পদ সরাসরি ভোগের কাজে ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় অধিকতর সম্পদ বা উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাকে মূলধন বলে। অর্থ যখন সঞ্চয় থেকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হয়, তখন তা মূলধনে রূপ নেয়।
উদ্দীপকে রবিন সাহেব বিদেশে দীর্ঘদিন চাকরি করে যে অর্থ সঞ্চয় করেছিলেন, দেশে ফিরে তিনি তা কমলালেবু উৎপাদনের জমিতে বিনিয়োগ করেন। এখানে সঞ্চিত অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি উৎপাদক মূলধন হিসেবে ভূমির উন্নয়ন ও কমলালেবু চাষে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং, রবিনের সঞ্চিত অর্থ উৎপাদনের উপকরণ হিসেবে মূলধনের অন্তর্ভুক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে একই জমিতে উপকরণ বাড়ালেও এর প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ে না, বরং হ্রাস পায়। বিষয়টি ভূমির ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির অনুরূপ।
ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ জমিতে অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে পরিবর্তনশীল উপকরণ (যেমন: শ্রম ও মূলধন) সমান বা নির্দিষ্ট হারে বাড়াতে থাকলে মোট উৎপাদন বাড়লেও প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে রবিন সাহেবের কমলালেবু উৎপাদনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হলো (যেখানে প্রতি বছর বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫০,০০০ টাকা):
১. ২০১৭ সাল: বিনিয়োগ ৫,০০,০০০ টাকা, মোট উৎপাদন = ৭ মে. টন।
২. ২০১৮ সাল: অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগে মোট উৎপাদন ৮ মে. টন; প্রান্তিক উৎপাদন = (৮ - ৭) = ১ মে. টন।
৩. ২০১৯ সাল: অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগে মোট উৎপাদন ৯.২ মে. টন; প্রান্তিক উৎপাদন = (৯.২ - ৮) = ১.২ মে. টন।
৪. ২০২০ সাল: অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগে মোট উৎপাদন ১০ মে. টন; প্রান্তিক উৎপাদন = (১০ - ৯.২) = ০.৮ মে. টন।
৫. ২০২১ সাল: অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা বিনিয়োগে মোট উৎপাদন ১০.১৫ মে. টন; প্রান্তিক উৎপাদন = (১০.১৫ - ১০) = ০.১৫ মে. টন।দেখা যাচ্ছে, শুরুতে প্রান্তিক উৎপাদন সামান্য বাড়লেও (১ মে. টন থেকে ১.২ মে. টন) পরবর্তীতে তা ক্রমাগতভাবে হ্রাস পেয়ে যথাক্রমে ০.৮ মে. টন এবং ০.১৫ মে. টনে নেমে এসেছে।
সুতরাং, ভূমির সীমাবদ্ধতার কারণে একই জমিতে অতিরিক্ত মূলধন ও শ্রম নিয়োগ করার ফলে শেষ পর্যন্ত প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে, যা ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিকে যথার্থভাবে প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও