যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: ভারতের মত বাংলাদেশও দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত, ঘনবসতিপূর্ণ ও কৃষিপ্রধান দেশ। ভারত একটি উন্নয়নশীল দেশ। অতএব, বাংলাদেশও একটি উন্নয়নশীল দেশ।দৃশ্যকল্প-২: সায়েম ও আবির 'এর চশমার আকৃতি, ফ্রেম ও রং একই রকম। সায়েম এর চশমার পাওয়ার +২.০০। অতএব, আবির এর চশমার পাওয়ারও+২.০০ হবে।
- ক)(1)
প্রকৃত আরোহ কী?
- খ)(2)
বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ কোন ধরনের আরোহের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
প্রকৃত আরোহের আলোকে দৃশ্যকল্প ১ ও ২ এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে আরোহ প্রক্রিয়ায় আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' বর্তমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে কয়েকটি বিশিষ্ট দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবং কার্যকারণ সম্পর্কের নিশ্চয়তার মাধ্যমে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য গঠন করা হয়। কার্যকারণ সম্বন্ধ নিশ্চিত থাকলে তার সিদ্ধান্ত কখনো মিথ্যা হতে পারে না, তাই বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এ 'সাদৃশ্যানুমান' (যৌক্তিক সাদৃশ্যানুমান বা সাধু সাদৃশ্যানুমান)-এর প্রকাশ ঘটেছে।
দুটি বস্তুর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে সাদৃশ্য লক্ষ্য করে যদি অনুমান করা হয় যে তাদের মধ্যে অন্য কোনো বিষয়েও সাদৃশ্য থাকবে, তবে তাকে সাদৃশ্যানুমান বলে। দৃশ্যকল্প-১ এ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান (দক্ষিণ এশিয়ার অন্তর্ভুক্ত), ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া এবং কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ার মতো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে যে ভারত যেহেতু উন্নয়নশীল, বাংলাদেশও উন্নয়নশীল দেশ হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থপূর্ণ সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে, যা সাধু সাদৃশ্যানুমানের দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ উভয়ই প্রকৃত আরোহের অন্তর্গত সাদৃশ্যানুমানকে নির্দেশ করে, তবে এদের গুণগত মানে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দৃশ্যকল্প-১ হলো সাধু সাদৃশ্যানুমান এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো অসাধু সাদৃশ্যানুমান।
১. সাদৃশ্যের প্রকৃতি: দৃশ্যকল্প-১ এ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থান, জনসংখ্যা এবং অর্থনীতির প্রকৃতির মতো মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য বিবেচনা করা হয়েছে। বিপরীতে, দৃশ্যকল্প-২ এ সায়েম ও আবিরের চশমার বাহ্যিক আকৃতি, ফ্রেম ও রঙের মতো তুচ্ছ ও অনাবশ্যক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে।
২. কার্যকারণ সম্বন্ধের সম্ভাবনা: দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত সাদৃশ্যগুলোর সাথে একটি দেশের উন্নয়নশীল হওয়ার গভীর ও যৌক্তিক সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু দৃশ্যকল্প-২ এ চশমার ফ্রেম বা রঙের সাথে চোখের পাওয়ারের কোনো কার্যকারণ বা যৌক্তিক সম্পর্ক নেই।
৩. সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতা: সাধু সাদৃশ্যানুমান হওয়ায় দৃশ্যকল্প-১ এর সিদ্ধান্তের সম্ভাব্যতার মাত্রা অনেক বেশি ও বাস্তবসম্মত। অপরদিকে দৃশ্যকল্প-২ অসাধু সাদৃশ্যানুমান হওয়ায় এর সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুর্বল ও ভিত্তিহীন।
অতএব, প্রকৃত আরোহের দৃষ্টিকোণ থেকে দৃশ্যকল্প-১ হলো সাধু সাদৃশ্যানুমান এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো অসাধু সাদৃশ্যানুমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও