পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনামলে ক্রমাগত শাসনতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জন্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর একটি আইন প্রণীত হয়। আইনটির ব্যর্থতার কারণে ১৬ বছর পর আরও একটি আইন প্রণীত হয়। প্রথমটির তুলনায় দ্বিতীয় আইনটি অপেক্ষাকৃত উত্তম হলেও শেষ পর্যন্ত এই আইনটির কার্যকারীতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়।
- ক)(1)
সর্বপ্রথম কোন আইনে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় আইনটির বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আইনটির কার্যকারিতা কেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সর্বপ্রথম ১৯০৯ সালের 'মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনে' (ভারতীয় পরিষদ আইন, ১৯০৯) মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বৈত শাসন বলতে মূলত একই সরকারের অধীনে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় দুটি ভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। ব্রিটিশ ভারতে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রদেশগুলোতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়, যেখানে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (জনগণের নির্বাচিত মন্ত্রীদের অধীন) এবং 'সংরক্ষিত' (গভর্নর ও তাঁর কার্যনির্বাহী পরিষদের অধীন) - এই দুই ভাগে ভাগ করে পরিচালনা করা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম আইনটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন (প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রণীত) এবং এর ১৬ বছর পর প্রণীত দ্বিতীয় আইনটি হলো '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'।
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন: ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলো এবং যোগদানে ইচ্ছুক দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
২. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা: ১৯১৯ সালের আইনের ব্যর্থ দ্বৈত শাসন প্রদেশগুলো থেকে বিলুপ্ত করে প্রদেশগুলোতে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন চালু করা হয়।
৩. কেন্দ্রে দ্বৈত শাসন প্রবর্তন: প্রাদেশিক স্তরে দ্বৈত শাসন বিলোপ করে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত বিষয়ের মাধ্যমে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
৪. ক্ষমতা বণ্টন: আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে কেন্দ্র ও প্রদেশগুলোর মধ্যে তিনটি তালিকায় ভাগ করা হয়—ফেডারেল (কেন্দ্রীয়) তালিকা, প্রাদেশিক তালিকা এবং যৌথ তালিকা।
৫. যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালত (Federal Court) স্থাপন: সংবিধানের ব্যাখ্যা এবং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি ফেডারেল আদালত গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি পূর্ববর্তী আইনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে উন্নত ও বিস্তারিত হলেও বিভিন্ন বাস্তব ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এর কার্যকারিতা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার প্রধান কারণসমূহ:
১. যুক্তরাষ্ট্র গঠনের ব্যর্থতা: আইনে সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠনের বিধান থাকলেও দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর এতে যোগদান ঐচ্ছিক করা হয়েছিল। অধিকাংশ দেশীয় রাজ্য যোগদানে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রস্তাবিত ফেডারেল ব্যবস্থা কোনোদিনই কার্যকর হতে পারেনি।
২. কেন্দ্রে গভর্নরের ও ভাইসরয়ের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা: কেন্দ্রে স্বায়ত্তশাসনের কোনো প্রকৃত অধিকার দেওয়া হয়নি। ভাইসরয়ের হাতে বিশেষ দায়িত্ব এবং ভেটো বা নাকচ করার একচ্ছত্র ক্ষমতা বহাল থাকায় কেন্দ্রীয় আইনসভা ছিল মূলত ক্ষমতাহীন।
৩. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের সীমাবদ্ধতা: প্রদেশগুলোতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার দাবি করা হলেও প্রাদেশিক গভর্নরের হাতে বিপুল 'বিচক্ষণমূলক ক্ষমতা' (Discretionary Powers) এবং বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল, যা নির্বাচিত মন্ত্রিসভাকে কার্যত পুতুলে পরিণত করে।
৪. রাজনৈতিক দলগুলোর অসন্তোষ: প্রধান রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়ই এই আইন প্রত্যাখ্যান করে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এটিকে 'শক্তিশালী ব্রেকযুক্ত কিন্তু ইঞ্জিনহীন একটি যান' এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ একে 'মৌলিকভাবেই পচা ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যায়িত করেন।
৫. দায়িত্বশীল সরকারের অনুপস্থিতি: কেন্দ্রে দায়িত্বশীল শাসনব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণও ব্রিটিশদের হাতে কুক্ষিগত ছিল।সুতরাং, প্রকৃত গণতন্ত্র ও দায়িত্বশীল শাসনের অভাব এবং ভারতীয়দের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পারায় ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও