সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
১৯৭৪ সালে "ব" দেশের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে একটি সরকারি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এ কর্মসূচির অধীনে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত 'ঋণ, মাতৃকেন্দ্র, সাক্ষরতা দান ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। সমাজসেবার এ সরকারি কর্মসূচিটি গ্রামের জনগণের দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখছে।
- ক)(1)
UCD কী?
- খ)(2)
শহর সমাজসেবা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন সরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম। উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত কর্মসূচিটি "বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে"- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UCD-এর পূর্ণরূপ হলো Urban Community Development, যার বাংলা অর্থ শহর সমাজ উন্নয়ন বা শহর সমষ্টি উন্নয়ন কার্যক্রম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শহর সমাজসেবা (বা শহর সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম) বলতে শহরের সুবিধাবঞ্চিত, বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর বহুমুখী সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত সরকারি সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে বোঝায়। ১৯৫৫ সালে তৎকালীন ঢাকায় এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শহরবাসীর স্বাবলম্বন ও টেকসই সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সরকারি সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত 'পল্লী সমাজসেবা' (Rural Social Service বা RSS) কার্যক্রমকে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে 'পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম' শুরু হয়। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার করে গ্রামীণ দরিদ্র, ভূমিহীন ও অনগ্রসর মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটানো।
উদ্দীপকের 'ব' দেশে ১৯৭৪ সালে গৃহীত কর্মসূচিটির প্রধান কার্যক্রম হিসেবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ও সুদমুক্ত ঋণ, মাতৃকেন্দ্র স্থাপন, সাক্ষরতা দান ইত্যাদির উল্লেখ রয়েছে, যা সমাজসেবা অধিদপ্তরের 'পল্লী সমাজসেবা' (RSS) কার্যক্রমের হুবহু প্রতিচ্ছবি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামের নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজের প্রশিক্ষণ এবং সুদমুক্ত ঘূর্ণায়মান ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী করা হয়। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত কার্যক্রমটি হলো পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম' (RSS) বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে— উক্তিটি যথার্থ।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং এর সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচিটি নিচের ক্ষেত্রগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও আত্মকর্মসংস্থান: পল্লী সমাজসেবা কর্মসূচির অধীনে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়, যা ব্যবহার করে তারা হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূর করতে পারে।
২. মানবসম্পদ উন্নয়ন: বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ফলে গ্রামীণ বেকার ও অদক্ষ জনগোষ্ঠী দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়।
৩. নারী ক্ষমতায়ন ও মাতৃকল্যাণ: 'মাতৃকেন্দ্র' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের সংগঠিত করে স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি সচেতনতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়, যা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৪. শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি: সাক্ষরতা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।পরিশেষে বলা যায়, পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন নিশ্চিত করে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের টেকসই জাতীয় উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও