ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৫
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. কেরি একটি পোশাক কারখানার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাজের সাথে জড়িত। কারখানাটি ২০১৫ সালে ১২ লক্ষ পিস শার্ট তৈরির এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। নিয়োজিত শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৪ লক্ষ পিস শার্ট তৈরিতে সক্ষম হয়। পরিচালনা পর্ষদ কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো অবহেলার প্রমাণ খুঁজে পাননি। এমতাবস্থায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কর্তৃপক্ষ চিন্তিত।
- ক)(1)
পরিকল্পনা কী?
- খ)(2)
“পরিকল্পনা একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. কেরি কোন স্তরের ব্যবস্থাপক? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নির্ধারিত সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে কী করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করাই হলো পরিকল্পনা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিকল্পনা হলো একটি চলমান বা নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া; কারণ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা মেয়াদের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার পর কিংবা পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে নতুন করে পুনরায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব যতদিন বিদ্যমান থাকে, ততদিন প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য একের পর এক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম চক্রাকারে চলতে থাকে। তাই পরিকল্পনাকে একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. কেরি উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপক।
যে স্তরের ব্যবস্থাপকগণ প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ, নীতি নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজে নিয়োজিত থাকেন, তাদেরকে উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপক বলা হয়। যেমন— পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ইত্যাদি।
উদ্দীপকে উল্লেখ আছে, মি. কেরি পোশাক কারখানাটির সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজের সাথে জড়িত। কারখানাটির বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মতো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কাজের সাথে তিনি সম্পৃক্ত। সামগ্রিক পরিকল্পনা ও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপকের ওপরই ন্যস্ত থাকে। সুতরাং, মি. কেরি উচ্চ স্তরের ব্যবস্থাপক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবসম্মত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অথবা বাস্তবতার আলোকে লক্ষ্যমাত্রা পুনঃনির্ধারণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৫ সালে কারখানাটি ১২ লক্ষ পিস শার্ট তৈরির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বছরের অর্ধেক সময় (৩০ জুন) অতিবাহিত হওয়ার পর শ্রমিকদের দিনরাত পরিশ্রম সত্ত্বেও মাত্র ৪ লক্ষ পিস শার্ট তৈরি সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ বাকি ৬ মাসে আরও ৮ লক্ষ পিস শার্ট তৈরি করতে হবে, যা বর্তমান সক্ষমতায় অসম্ভব। অথচ কর্মকর্তা বা শ্রমিকদের কোনো অবহেলাও নেই, যা প্রমাণ করে যে লক্ষ্যমাত্রাটি বাস্তবসম্মত বা অর্জনযোগ্য ছিল না।
এমতাবস্থায় নির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বা কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে প্রতিষ্ঠানটির করণীয় পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ:
১. সক্ষমতা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত শিফট চালু করে দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ওভারটাইম কাজের ব্যবস্থা করে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করা যেতে পারে।
২. উপ-চুক্তি (Sub-contracting): কারখানার বাইরে অন্য কোনো উপযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে চুক্তির ভিত্তিতে অবশিষ্ট কাজের একটি অংশ তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
৩. লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন (Revision of Target): যদি অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি বা উপ-চুক্তি সম্ভব না হয়, তবে বাস্তবতার আলোকে বিদ্যমান লক্ষ্যমাত্রাকে সংশোধন করে বাস্তবসম্মত মানে নামিয়ে আনা উচিত।অতএব, পরিকল্পনা অনমনীয় না রেখে পরিস্থিতির আলোকে কার্যকর সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই প্রতিষ্ঠানটি সংকটের সমাধান করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও