জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

গ্রামের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে তারেক একটি প্রাণী দেখেছিল। প্রাণীটি আঁইশ এবং পাখনাযুক্ত, কানকো উপস্থিত। বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় এ প্রাণীর পাশাপাশি সে আঁইশবিহীন এবং পিচ্ছিল গ্রন্থিময় ত্বকবিশিষ্ট, পালকযুক্ত, লোমযুক্ত প্রাণীদের কথাও ভাবছিল।

  1. ক)

    শ্রেণিবিন্যাস কী?

    (1)
  2. খ)

    ‘সিউডোসিলোম' বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    তারেকের দেখা প্রাণীটিকে তরুণাস্থিময় মাছের সাথে তুলনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তারেকের ভাবনার অন্য প্রাণীগুলো ভিন্ন শ্রেণিভুক্ত-যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ভিত্তিতে জীবজগৎকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন দল ও উপদলে বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রাণীর দেহপ্রাচীর এবং পৌষ্টিকনালির মধ্যবর্তী গহ্বরটি মেসোডার্মাল পেরিটোনিয়াম পর্দা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে না, অর্থাৎ প্রকৃত সিলোমের মতো গঠিত নয়, তাকে সিউডোসিলোম বা অপ্রকৃত সিলোম (Pseudocoelom) বলে। এ ধরনের গহ্বর মূলত ভ্রূণীয় ব্লাস্টোসিল থেকে সৃষ্টি হয়। যেমন- নেমাটোডা (Nematoda) পর্বের প্রাণীদের দেহে সিউডোসিলোম দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তারেকের পুকুরে দেখা প্রাণীটি আঁইশ, পাখনা ও কানকোযুক্ত হওয়ায় এটি মূলত একটি অস্থিময় মাছ (শ্রেণি: Actinopterygii)। নিম্নে তরুণাস্থিময় মাছের (শ্রেণি: Chondrichthyes) সাথে এর তুলনা করা হলো:

    ১. অন্তকঙ্কাল: তারেকের দেখা মাছের অন্তকঙ্কাল সম্পূর্ণ অস্থিময়। অপরদিকে তরুণাস্থিময় মাছের অন্তকঙ্কাল তরুণাস্থি দ্বারা গঠিত।
    ২. আঁইশ: তারেকের দেখা মাছে সাইক্লয়েড, টিনয়েড বা গ্যানয়েড ধরনের সূক্ষ্ম আঁইশ থাকে। তরুণাস্থিময় মাছে প্লাকয়েড ধরনের শক্ত ও কাঁটার মতো আঁইশ থাকে।
    ৩. ফুলকারন্ধ্র ও কানকো: তারেকের দেখা মাছে ফুলকারন্ধ্রগুলো অপারকুলাম বা কানকো দিয়ে ঢাকা থাকে। তরুণাস্থিময় মাছে কানকো থাকে না এবং ৫-৭ জোড়া ফুলকারন্ধ্র উন্মুক্ত অবস্থায় বাইরে দৃশ্যমান থাকে।
    ৪. পুচ্ছ পাখনা: তারেকের দেখা মাছের পুচ্ছ পাখনা সাধারণত হোমোসার্কাল ধরনের (উভয় পাল্লা সমান)। তরুণাস্থিময় মাছের পুচ্ছ পাখনা হেটারোসার্কাল ধরনের (উভয় পাল্লা অসমান)।
    ৫. পটকা বা বায়ুথলি: তারেকের দেখা মাছে প্লবতা রক্ষার জন্য পটকা বা বায়ুথলি উপস্থিত থাকে, কিন্তু তরুণাস্থিময় মাছে কোনো বায়ুথলি থাকে না।
    ৬. মুখছিদ্রের অবস্থান: অস্থিময় মাছের মুখছিদ্র সাধারণত দেহের অগ্রপ্রান্তে অবস্থিত, অপরদিকে তরুণাস্থিময় মাছের মুখছিদ্র মস্তকের অঙ্কীয়দেশে অবস্থিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে তারেকের ভাবনার প্রাণীগুলো যথাক্রমে আঁইশবিহীন ও পিচ্ছিল গ্রন্থিময় ত্বকবিশিষ্ট, পালকযুক্ত এবং লোমযুক্ত। এই প্রাণীগুলো কর্ডাটা পর্বের মেরুদণ্ডী উপপর্বভুক্ত হলেও বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. আঁইশবিহীন এবং পিচ্ছিল গ্রন্থিময় ত্বকবিশিষ্ট প্রাণী: এরা উভচর বা Amphibia শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত (যেমন- ব্যাঙ)। এদের ত্বক ভেজা, গ্রন্থিময় এবং আঁইশবিহীন। এরা শীতলরক্তের প্রাণী এবং জীবনচক্রে জলীয় লার্ভা দশা (ব্যাঙাচি) অতিক্রম করে।

    ২. পালকযুক্ত প্রাণী: এরা পক্ষী বা Aves শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত (যেমন- কবুতর, দোয়েল)। এদের সমগ্র দেহ পালক দ্বারা আবৃত, অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত এবং চোয়াল দাঁতবিহীন চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে। এরা উষ্ণরক্তের প্রাণী এবং এদের ফুসফুসের সাথে বায়ুথলি যুক্ত থাকে।

    ৩. লোমযুক্ত প্রাণী: এরা স্তন্যপায়ী বা Mammalia শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত (যেমন- মানুষ, গরু, বিড়াল)। এদের দেহত্বক লোম দ্বারা আবৃত থাকে এবং এদের প্রধান অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো পরিণত স্ত্রী প্রাণীতে কার্যকরী স্তনগ্রন্থি থাকে যা থেকে ক্ষরিত দুধ খেয়ে শাবক প্রতিপালিত হয়। এছাড়া এদের বহিঃকর্ণে পিনা এবং অন্তকর্ণে তিনটি ক্ষুদ্রাস্থি উপস্থিত থাকে।

    উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, ত্বকের আবরণ, শ্বসনতন্ত্র, রক্তসংবহন এবং প্রজননগত স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে প্রাণীগুলো যথাক্রমে Amphibia, Aves এবং Mammalia—এই তিনটি ভিন্ন শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত। অতএব তারেকের ভাবনা সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন