অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' দেশে কয়েকটি কৃষি পণ্যের দায় নিম্নরূপ:সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া বাজার মনিটরিং করার জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

পণ্যের দাম | কৃষক পর্যায়ে দাম (প্রতি লিটার/কেজি)/টাকা | ভোক্তা পর্যায়ে দাম (প্রতি লিটার/কেজি)/টাকা
আলু | ১৫ | ৪৫
তরল দুধ | ৫০ | ৯০
টমেটো | ২০ | ৬০

  1. ক)

    কৃষিজোত কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    উন্নত বীজের ব্যবহার কীভাবে কৃষিকে প্রভাবিত করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পণ্যসমূহের মূল্যে ব্যাপক ব্যবধানের কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপ ব্যতী আর কী কী পদক্ষেপ তুমি সুপারিশ করবে?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একজন কৃষকের অধীনে চাষাবাদের উপযোগী মোট জমির পরিমাণকে কৃষিজোত বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উন্নত বীজের ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি করে। উচ্চফলনশীল ও রোগপ্রতিরোধক জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে প্রতি একক জমিতে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন খরচ হ্রাস পায় এবং ফসলের গুণগত মান বাড়ে। এর ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায় এবং সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে যে আলু, তরল দুধ ও টমেটোর ক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ে প্রাপ্ত মূল্য এবং ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় মূল্যের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান বিদ্যমান। যেমন—আলুর দাম কেজিতে ১৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ভোক্তাপর্যায়ে ৪৫ টাকা, দুধ লিটারে ৫০ টাকা থেকে ৯০ টাকা এবং টমেটো ২০ টাকা থেকে ৬০ টাকা হয়। কৃষি পণ্যের মূল্যে এই ব্যাপক ব্যবধানের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: কৃষক এবং চূড়ান্ত ভোক্তার মাঝে ফড়িয়া, পাইকার, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় থাকে। প্রতিটি স্তরে তাদের মুনাফা যোগ হওয়ায় ভোক্তার পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যায়।
    ২. সংরক্ষণাগারের অভাব: আলু, দুধ ও টমেটোর মতো পচনশীল পণ্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত আধুনিক হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজের অভাবে কৃষক ফসল কাটার সাথে সাথে স্বল্প মূল্যে তা বিক্রি করতে বাধ্য হয়।
    ৩. পরিবহন ও বিপণন ব্যয়: যোগাযোগ উন্নত হলেও পণ্য খালাস, পরিবহন ভাড়া, টোল ও বিভিন্ন চাঁদাবাজির কারণে বিপণন খরচ বৃদ্ধি পায়।
    ৪. তথ্যের অভাব ও কৃষকের আর্থিক দুর্বলতা: কৃষকদের সরাসরি বাজারজাতকরণের ক্ষমতা ও তাৎক্ষণিক বাজারদর সংক্রান্ত তথ্যের সীমাবদ্ধতা থাকায় তারা উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বাজার মনিটরিংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও স্বার্থরক্ষায় এই পদক্ষেপগুলো ছাড়াও আরও যেসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, তা নিচে সুপারিশ করা হলো:
    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা হ্রাস ও সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা: কৃষক যাতে সরাসরি ভোক্তার কাছে বা পাইকারি বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারে সেজন্য 'কৃষক বাজার' স্থাপন এবং সমবায় বিপণন ব্যবস্থা জোরদার করা।
    ২. পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপন: আলু, দুধ এবং টমেটোর মতো পচনশীল পণ্যের জন্য গ্রামপর্যায়ে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও চিলিং সেন্টার স্থাপন করা, যাতে কৃষক অফ-সিজনেও ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারে।
    ৩. সরকারিভাবে সরাসরি সংগ্রহ ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ: মৌসুমে সরকার কর্তৃক কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (Support Price) পণ্য ক্রয় নিশ্চিত করা।
    ৪. সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে কৃষিঋণ প্রদান: কৃষকদের ফসল তোলার সাথে সাথেই অর্থসংকটে পড়ে কম দামে বিক্রি করা ঠেকাতে সহজ শর্তে শস্য-বন্ধকী ঋণ প্রদান করা।
    ৫. আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা: অতিরিক্ত উৎপাদিত টমেটো বা দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য এগ্রো-প্রসেসিং কারখানা স্থাপন করা।
    পরিশেষে বলা যায়, কার্যকর বিপণন অবকাঠামো ও সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য দেওয়া এবং তাদের স্বার্থরক্ষা করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন