অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'B' দেশ কয়েক দশক আগেও পাট, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া, চা, নিউজপ্রিন্ট কাগজ ইত্যাদি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করত। কিন্তু বর্তমানে দেশটির শাকসবজি, হিমায়িত মাছ, তৈরি পোশাক, তাজা ফুল, মৌসুমি ফল, পান, সুপারি, মশলা, হোসিয়ারি দ্রব্য ও হস্তশিল্পের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া 'B' দেশের সরকার বেশ কয়েকটি 'রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল' গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যে সেখানে বেশ কয়েকটি বড় বড় দেশি ও বিদেশি কোম্পানি বৃহদায়তনে উৎপাদন করছে।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে B দেশের অপ্রচলিত ও প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যসমূহের তালিকা তৈরি করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে সরকারের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কিরূপ ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দুই বা ততোধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যে নিজ নিজ দেশের আইন ও বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী দ্রব্য ও সেবার যে ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেন সম্পন্ন হয়, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের বৈচিত্র্য, জলবায়ুর তারতম্য, প্রযুক্তিগত পার্থক্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় ভিন্ন হয়। তুলনামূলক ব্যয় সুবিধা তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি দেশ যে পণ্য উৎপাদনে অপেক্ষাকৃত কম খরচে সুবিধা পায়, সে পণ্যটি উৎপাদন ও রপ্তানি করে এবং যে পণ্য উৎপাদনে খরচ বেশি তা আমদানি করে। ফলে পারস্পরিক সুবিধা ও জনগণের সার্বিক কল্যাণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব পণ্য কোনো দেশ ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘকাল ধরে বিদেশে রপ্তানি করে আসছে সেগুলোকে প্রচলিত রপ্তানি পণ্য এবং সাম্প্রতিককালে যেসব নতুন পণ্য রপ্তানি তালিকায় স্থান পেয়ে খ্যাতি অর্জন করেছে সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য বলা হয়।
উদ্দীপকের আলোকে 'B' দেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যসমূহের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যসমূহ:
- পাট
- পাটজাত দ্রব্য
- চামড়া
- চা
- নিউজপ্রিন্ট কাগজ ইত্যাদি।
২. অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্যসমূহ:
- তৈরি পোশাক
- হিমায়িত মাছ
- শাকসবজি
- তাজা ফুল
- মৌসুমি ফল
- পান ও সুপারি
- মশলা
- হোসিয়ারি দ্রব্য
- হস্তশিল্প ইত্যাদি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'B' দেশের সরকারের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (EPZ) গড়ে তোলার উদ্যোগ রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যুগান্তকারী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি: ইপিজেডগুলোতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা এবং ট্যাক্স হলিডে পাওয়ার কারণে বড় বড় বিদেশি কোম্পানি বৃহদায়তনে পুঁজি ও প্রযুক্তি নিয়ে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়।
২. শিল্পায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: বৃহদায়তন উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে।
৩. পণ্যের বহুমুখীকরণ ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা: ইপিজেডে নতুন নতুন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অপ্রচলিত শিল্পদ্রব্য (যেমন: তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, হোসিয়ারি) উৎপাদিত হয়, যা রপ্তানি ঝুড়িকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করে।
৪. কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: শিল্প-কারখানা সম্প্রসারণের ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং প্রস্তুতকৃত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করে।
সুতরাং, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা 'B' দেশের পণ্যের বহুমুখীকরণ ঘটিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যকে বহুলাংশে সম্প্রসারণ করতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও