অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

"X" দেশের বিভিন্ন বছরের জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের পরিমাণ নিম্নরূপ :

  1. ক)

    স্থূল জন্মহার কি?

    (1)
  2. খ)

    জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন মানবসম্পদ উন্নয়নকে প্রভাবিত করে - ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ছক তোমার বইয়ের কোন তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত তত্ত্ব অনুযায়ী জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে ব্যবধান দূর করার ক্ষেত্রে তুমি কি কি উপায় সুপারিশ করবে? বিশ্লেষণ কর

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি হাজার জনসংখ্যায় মোট যতজন জীবন্ত শিশু জন্মগ্রহণ করে, তাকে স্থূল জন্মহার (Crude Birth Rate - CBR) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন মানবসম্পদকে আরও দক্ষ, উৎপাদনশীল ও কর্মক্ষম করে তোলে। সুস্থ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ ও শারীরিক শক্তির সাথে কাজ করতে সক্ষম হয়, যার ফলে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ভগ্ন স্বাস্থ্য কর্মক্ষমতা হ্রাস করে এবং চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ বাড়ায়। সুতরাং, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ছকটি অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের (Malthusian Theory of Population) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ম্যালথাসের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (যেমন: ১, ২, ৪, ৮, ১৬...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক বা সমান্তর হারে (যেমন: ১, ২, ৩, ৪, ৫...)। এছাড়া প্রতি ২৫ বছরে জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার প্রবণতা থাকে।

    উদ্দীপকের 'X' দেশে দেখা যায়, প্রতি ২৫ বছর পর (১৯৭০, ১৯৯৫ ও ২০২০ সাল) জনসংখ্যা যথাক্রমে ১ কোটি, ২ কোটি ও ৪ কোটি হয়েছে, অর্থাৎ জনসংখ্যা দ্বিগুণ হারে (জ্যামিতিক প্রগতিতে) বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে একই সময়ে খাদ্য উৎপাদন যথাক্রমে ১, ২ ও ৩ লাখ মেট্রিক টন হয়েছে, যা গাণিতিক প্রগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের এই বৃদ্ধিধারা সরাসরি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্বের মূল ধারণাকে প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব অনুযায়ী জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যে বিদ্যমান অসম ব্যবধান দূর করার ক্ষেত্রে ম্যালথাস নির্দেশিত এবং আধুনিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিম্নলিখিত উপায়গুলো সুপারিশ করা যায়:

    ১. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ (Preventive Checks): ম্যালথাসের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য মানুষের স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এর মধ্যে রয়েছে দেরিতে বিয়ে করা (বিলম্বিত বিবাহ), কৌমার্য বা সংযম অবলম্বন এবং আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ব্যাপক প্রচার ও প্রয়োগ।

    ২. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি: জনগণকে ছোট পরিবারের সুফল সম্পর্কে সচেতন করা এবং নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা, যা জন্মহার হ্রাসে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

    ৩. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি: খাদ্য উৎপাদনকে শুধু গাণিতিক হারে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল (HYV) ও হাইব্রিড বীজের ব্যবহার, সেচ সুবিধার প্রসার এবং রাসায়নিক ও জৈব সারের সুষম প্রয়োগ নিশ্চিত করে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

    ৪. কৃষি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার: ভূমির ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে উন্নত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটানো প্রয়োজন।

    পরিশেষে বলা যায়, ম্যালথাস প্রকৃতির নির্মম প্রতিশোধ বা 'প্রাকৃতিক নিরোধ' (Positive Checks)-এর মাধ্যমে খাদ্য ও জনসংখ্যার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার কথা বললেও, উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল মানবিক উপায়ে এ ব্যবধান দূর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন