ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
ভূঅভ্যন্তরীণ স্তরসমূহ—ক— সবচেয়ে উপরের স্তরখ- আয়তন সর্বাধিকগ- সর্বনিম্ন স্তর, এই স্তরের অপর নাম NiFe স্তর।
- ক)(1)
ভূত্বক কাকে বলে?
- খ)(2)
মোহোবিযুক্তি রেখা কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্তরের বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
জীবজগতের উপর 'ক' স্তরের গাঠনিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের কঠিন ও পাতলা শিলাময় আবরণকে ভূত্বক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূত্বক এবং এর নিচে অবস্থিত গুরুমণ্ডলের সংযোগস্থলে যে সীমানা বা তল ভূত্বককে গুরুমণ্ডল থেকে পৃথক করেছে, তাকে মোহোবিযুক্তি রেখা (Mohorovičić discontinuity) বলে। বিজ্ঞানী আন্দ্রিজা মোহোরোভিচিচ ১৯০৯ সালে ভূকম্পন তরঙ্গের গতিবেগের আকস্মিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এই বিযুক্তিতল আবিষ্কার করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' স্তরটি হলো 'গুরুমণ্ডল' (Mantle), যা পৃথিবীর অভ্যন্তরে আয়তনে সর্বাধিক (পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় ৮৪%) স্থান দখল করে আছে।
গুরুমণ্ডলের বর্ণনা নিম্নরূপ:
১. অবস্থান ও বিস্তার: ভূত্বকের নিচে মোহোবিযুক্তি রেখা থেকে শুরু করে কেন্দ্রমণ্ডলের বহিঃসীমা (প্রায় ২,৮৮৫ থেকে ২,৯০০ কিমি গভীরতা) পর্যন্ত স্তরটি গুরুমণ্ডল নামে পরিচিত।
২. গঠন উপাদান: এ স্তরটি মূলত সিলিকন, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা ও অন্যান্য ভারী খনিজ দ্বারা গঠিত। এজন্য এর প্রধান অংশকে সীমা (SiMa) স্তরও বলা হয়।
৩. স্তরভেদ: গুরুমণ্ডল মূলত দুটি অংশে বিভক্ত—
ক. ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল: প্রায় ৭০০ কিমি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি অংশ সান্দ্র বা অর্ধগলিত অবস্থায় থাকে, যাকে অ্যাসথেনোস্ফিয়ার (Asthenosphere) বলে। এখানে পরিচলন স্রোত উৎপন্ন হয় এবং টেকটনিক প্লেটগুলো এর উপরেই ভাসমান।
খ. নিম্ন গুরুমণ্ডল: ৭০০ কিমি থেকে প্রায় ২,৯০০ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত, যা প্রধানত লোহা ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ কঠিন ও ভারী শিলা দ্বারা গঠিত।
এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ১০০০° সেলসিয়াস থেকে ৩০০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সবচেয়ে উপরের 'ক' স্তরটি হলো 'ভূত্বক' (Crust)। সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্ব ও টিকে থাকার পেছনে ভূত্বকের গাঠনিক গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রত্যক্ষ বাসস্থান: মানুষসহ সমগ্র উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের একমাত্র প্রত্যক্ষ বাসস্থান হলো ভূত্বক। ভূত্বকের উপরিভাগেই বনভূমি, তৃণভূমি ও বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছে।
২. মাটির সৃষ্টি ও কৃষিকাজ: ভূত্বকের শিলা আবহবিকার ও বিচূর্ণীভবনের মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মাটির সৃষ্টি করে। এই মাটিতেই খাদ্যশস্য, উদ্ভিদ ও বিভিন্ন গাছপালা জন্মে, যা জীবজগতের পুষ্টি ও বেঁচে থাকার প্রাথমিক উৎস।
৩. পানির আধার: ভূত্বকের গঠনগত বৈশিষ্ট্যই এর ওপর সাগর, নদী, হ্রদ এবং ভূগর্ভস্থ পানি ধারণ করতে সাহায্য করে। এই পানি সমগ্র জীবমণ্ডলের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
৪. খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস: সভ্যতার বিকাশ এবং মানুষের জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় শক্তি ও খনিজ সম্পদ (যেমন—কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, লোহা, তামা ইত্যাদি) ভূত্বকের মধ্যেই সঞ্চিত থাকে।
৫. স্থলভাগের গঠন: ভূত্বকের ভূ-গাঠনিক সঞ্চালনের ফলেই পাহাড়-পর্বত, মালভূমি ও সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্যের সৃষ্টি ও সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।সুতরাং, ভূত্বক কেবল একটি শিলাময় স্তর নয়, বরং জীবজগতের জীবনধারণের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের ভিত্তিপ্রস্তর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও