যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় পড়াশোনার বিষয় নির্ধারণ করতে গিয়ে সাজিদ বলল, জীবজগত ও জড়জগতের যে কোনোটিতে বিশেষ জ্ঞান লাভের সুযোগ আছে, এমন বিষয় আমি পড়তে চাই। এ কথা শুনে সুজন বলল, শুধু বিশেষ জ্ঞান লাভ নয় বরং যে বিশেষ জ্ঞানকে বাস্তব বা ব্যবহারিক কাজে লাগানো যায় এমন বিষয় আমি পড়তে চাই। সাজিদ ও সুজনের কথা শুনে ফারিহা বলল, বিশেষ জ্ঞান এবং সে জ্ঞানকে ব্যবহারিক কাজে লাগানো যায়, সেরূপ কোনো বিষয়কে আমি বেছে নেব।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে?
- খ)(2)
যুক্তিবিদ্যাকে আকারগত বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাজিদের বক্তব্যে কোন বিষয়ের ইঙ্গিত আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
পাঠ্যপুস্তকের আলোকে সুজন ও ফারিহার বক্তব্যে যে বিষয় প্রকাশ করছে তাদের সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ব্যবহারিক বিজ্ঞান সঠিক যুক্তিপদ্ধতি বা অনুমান এবং এর সহায়ক প্রক্রিয়াগুলো আলোচনা করে সত্যকে অর্জন এবং ভুল বা ভ্রান্তিকে পরিহার করতে সাহায্য করে, তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তিবিদ্যা চিন্তার উপাদানগত সত্যতার চেয়ে আকারগত সত্যতার ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করে। অর্থাৎ, যুক্তি কীভাবে গঠিত হলো এবং এর কাঠামো বা আকার যুক্তিবিদ্যার নিয়মাবলি অনুসরণ করছে কি না—এটিই যুক্তিবিদ্যার প্রধান বিবেচ্য। বিষয়বস্তুর বাস্তব সত্যতা নির্বিশেষে যুক্তির বৈধ আকার বা নিয়ম নির্ধারণ করে বলেই যুক্তিবিদ্যাকে আকারগত বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সাজিদের বক্তব্যে 'বিজ্ঞান' (Science)-এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বিজ্ঞান হলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে নিয়মতান্ত্রিক, সুশৃঙ্খল ও প্রমাণভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান। বিজ্ঞান মূলত প্রকৃতির কোনো নির্দিষ্ট বিভাগ যেমন জীবজগত কিংবা জড়জগত নিয়ে অনুসন্ধান চালায় এবং এর উদ্দেশ্য থাকে সত্যের উদঘাটন বা তত্ত্ব আবিষ্কার করা। বিজ্ঞান মূলত আবিষ্কারমূলক এবং এটি বিষয়ভিত্তিক সত্য অনুসন্ধান করে।
উদ্দীপকে সাজিদ বলেছে, সে এমন একটি বিষয় পড়তে চায় যেখানে জীবজগত ও জড়জগতের যেকোনোটিতে 'বিশেষ জ্ঞান' লাভের সুযোগ আছে। বিশেষ ও পদ্ধতিগত জ্ঞানের এই ধারণা বিজ্ঞানের মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব, সাজিদের বক্তব্যে বিজ্ঞানের স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুজনের বক্তব্য 'কলা' (Art) এবং ফারিহার বক্তব্য 'যুক্তিবিদ্যা'-কে নির্দেশ করে; কারণ যুক্তিবিদ্যা একই সাথে বিজ্ঞান ও কলা উভয়ই। নিম্নে এদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হলো:
সুজন কেবল বিশেষ জ্ঞান নয়, বরং তা বাস্তব বা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগের কথা বলেছে, যা 'কলা'র বৈশিষ্ট্য। কোনো জ্ঞানকে যখন বাস্তবে প্রয়োগ করে কোনো কর্ম সম্পাদন করা হয়, তখন তাকে কলাবিদ্যা বলা হয়। অন্যদিকে, ফারিহা বিশেষ জ্ঞান এবং তার ব্যবহারিক প্রয়োগ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছে। যুক্তিবিদ্যায় যেমন যুক্তির আকারগত নিয়মাবলি (বিজ্ঞানসুলভ তাত্ত্বিক জ্ঞান) আলোচনা করা হয়, তেমনই বাস্তব জীবনে শুদ্ধভাবে চিন্তা করার ক্ষেত্রে সেই নিয়মাবলির প্রায়োগিক কলাকৌশলও শেখানো হয়। এজন্য যুক্তিবিদ মিল ও হোয়েটলি যুক্তিবিদ্যাকে বিজ্ঞান ও কলা উভয় রূপেই আখ্যায়িত করেছেন।
সুতরাং, কলাবিদ্যা এবং যুক্তিবিদ্যার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। যুক্তিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান হওয়ার পাশাপাশি একটি বিশিষ্ট কলাবিদ্যাও বটে। কলা যেমন ব্যবহারিক নিয়ম শিক্ষা দেয়, যুক্তিবিদ্যাও তেমনি সঠিক চিন্তার নিয়মাবলি বাস্তবে প্রয়োগ করতে সহায়তা করে সত্যতা অর্জনে পথপ্রদর্শন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও