পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. রায়হান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত' আছেন। তার পরিচালনাধীন বিভাগ সরকারি নীতি প্রণয়ন, জনমত গঠন ও বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধান ও তল্লাশী কার্যক্রম করে থাকে। সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে উক্ত বিভাগের গুরুত্ব অপরিসীম।
- ক)(1)
রাষ্ট্রের উপাদান কোনটি?
- খ)(2)
গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রায়হান কোন বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত? উক্ত বিভাগের গঠন লেখো। ৩
- ঘ)(4)
সুশাসন ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুতকরণে উত্ত বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো। 8
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্রের উপাদান চারটি: নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব। (সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সর্বপ্রধান বা মুখ্য উপাদান)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. ক্ষমতার উৎস ও মালিকানা: গণতন্ত্রে ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালিত হয়। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্রে একজন ব্যক্তি বা একটি দলের হাতে শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং জনগণের ইচ্ছার কোনো মূল্য থাকে না।
২. জবাবদিহিতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা: গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকে। পক্ষান্তরে, একনায়কতন্ত্রে শাসকের কোনো জবাবদিহিতা থাকে না এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ভিন্নমত কঠোরভাবে দমন করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. রায়হান সরকারের আইন বিভাগের (আইনসভা বা জাতীয় সংসদ) সাথে সম্পৃক্ত।
আইন বিভাগের গঠন:
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সাধারণত এক-কক্ষ অথবা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আইনসভা এক-কক্ষবিশিষ্ট, যা 'জাতীয় সংসদ' নামে পরিচিত।
১. আসন সংখ্যা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত।
২. সাধারণ আসন: এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য দেশের ৩০০টি একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন।
৩. সংরক্ষিত মহিলা আসন: অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত, যা সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়।
৪. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার: সংসদের প্রথম অধিবেশনে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন, যাঁরা সংসদের কার্য পরিচালনা করেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুতকরণে আইন বিভাগের (আইনসভা) স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিভাগটি সরকারি নীতি প্রণয়ন, জনমত গঠন, সরকারের অনুসন্ধান কার্যক্রম এবং সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কাজ করে, যা মূলত একটি স্বাধীন আইনসভার প্রধান ভূমিকা।
আইন বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সংসদীয় গণতন্ত্রে শাসন বিভাগকে তাদের প্রতিটি কাজের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে হয়। আইনসভা স্বাধীন থাকলে সংসদ সদস্যরা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে, মুলতবি প্রস্তাব বা অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ করতে পারেন।
২. জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও কার্যকর আইন প্রণয়ন: একটি স্বাধীন আইনসভা কোনো প্রকার চাপমুক্ত হয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখে কার্যকর ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে পারে।
৩. জাতীয় অর্থ তহবিলের নিয়ন্ত্রণ: শাসন বিভাগের রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের ওপর কার্যকর তদারকি বজায় রাখতে এবং জাতীয় অর্থের অপচয় বা দুর্নীতি রোধে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও আইনসভার স্বাধীনতা অপরিহার্য।
৪. সুশাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা: সরকারের অন্যান্য বিভাগের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণ থেকে আইনসভা মুক্ত থাকলে ক্ষমতার সুষম ভারসাম্য রক্ষিত হয় এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়।সুতরাং, শাসন বিভাগের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব রোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে আইন বিভাগের নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও