সাহিত্য পাঠ • তাহারেই পড়ে মনে • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

বাইক্কা বিলের বর্ষার সৌন্দর্য কতই না চমৎকার! কাকের চোখের মতো টলটলেজল, রঙিন শাপলা-শালুক, কলমি লতার মতো নানাবিধ ফুল, পানকৌড়ি বুনোহাঁসের মতো বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পাখি কার না ভালো লাগে। কিন্তুএমন মনোলোভা সৌন্দর্যের কাছে এসেও সেজুতি জামান আজ বিষণ্ণ। কারণকয়েক বছর আগে নৌকা করে এ বিল পার হতে গিয়েই তার দশ বছরের ছেলেআবির মারা যায়।

  1. ক)

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    ‘কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সেজুতি জামানের মনোভাব ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সাথে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকটিতে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সামগ্রিক ভাবনার সবটুকু ধরা পড়েছে বলে কি তুমি মনে কর? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘কুহেলি উত্তরীতলে মাঘের সন্ন্যাসী’ বলতে কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে শীতের নিঃস্ব, রিক্ত ও উদাসীন রূপ নিয়ে বিদায় নেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

    প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনের পূর্বে শীত তার রিক্ততা নিয়ে বিদায় নেয়। কবি সুফিয়া কামাল শীতের এই বিদায়কে এক সন্ন্যাসীর সাথে তুলনা করেছেন, যে কুয়াশার চাদর (উত্তরীয়) জড়িয়ে নিঃশব্দে চলে গেছে। কবিমনের রিক্ততা ও প্রিয়জন হারানোর বিষাদের রূপক হিসেবেও এটি তাৎপর্যপূর্ণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সেজুতি জামানের মনোভাব ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবি সুফিয়া কামালের শোকসন্তপ্ত ও নিরাসক্ত মনোভাবের সাথে গভীরভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বসন্তের অপরূপ রূপ-সৌন্দর্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লেও কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন উদাসীন ও বিষণ্ণ। কারণ তাঁর স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যু কবিমনকে রিক্ত ও আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। প্রকৃতির বিপুল সৌন্দর্যও কবির হৃদয়ের এই শূন্যতা ও হাহাকার দূর করতে পারেনি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বাইক্কা বিলের চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—টলটলে জল, রঙিন শাপলা-শালুক এবং দেশি-বিদেশি পাখির সমারোহ কাউকে মুগ্ধ না করে পারে না। কিন্তু সেজুতি জামানের কাছে এই অপার সৌন্দর্যও আনন্দ দিতে পারে না, কারণ সেখানে তাঁর দশ বছরের সন্তান আবিরের সলিলসমাধি ঘটেছিল। সন্তান হারানোর চিরন্তন শোক তাঁর মনকে বিষণ্ণতায় ঢেকে রেখেছে। কবিতার কবির ক্ষেত্রেও ঠিক একইভাবে প্রিয়জনের বিয়োগব্যথা প্রকৃতির আনন্দকে অর্থহীন করে তুলেছে। তাই প্রিয়জন হারানোর বেদনায় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপেক্ষা করার ক্ষেত্রে উভয়ের মনোভাব সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    না, উদ্দীপকটিতে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার সামগ্রিক ভাবনার সবটুকু ধরা পড়েনি; বরং কেবল শোকের একপেশে অনুভূতিটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    ‘তাহারেই পড়ে মনে’ একটি সংলাপনির্ভর ও নাটকীয় গুণসম্পন্ন কবিতা। এখানে কবি ও ভক্ত-পাঠকের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে কাহিনী এগিয়ে চলে। কবিভক্ত প্রকৃতিতে বসন্তের আগমনবার্তা জানিয়ে কবিকে বন্দনাগীতি রচনা করতে ও সাজসজ্জায় বসন্তকে বরণ করতে অনুরোধ জানান। কিন্তু কবির মনে প্রিয়জন হারানোর গভীর ক্ষত এবং শীতের রিক্ততার স্মৃতি জেগে থাকায় তিনি বসন্তকে বরণ করতে পারেন না। কবিতায় প্রকৃতির সৌন্দর্য, ভক্তের ব্যাকুলতা এবং কবির অন্তর্দহনের এক চমৎকার কাব্যিক রসায়ন ফুটে উঠেছে।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকে কেবল সেজুতি জামানের সন্তান হারানোর অতীত স্মৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিপরীতে তাঁর ব্যক্তিগত বিষণ্ণতাটুকু তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বাইক্কা বিলের সৌন্দর্য এবং সেজুতি জামানের মাতৃহৃদয়ের হাহাকারই একমাত্র বিষয়। কবিতায় যেভাবে কবিভক্তের অনুনয়-বিনয়, বসন্তের আগমনকে কেন্দ্র করে কবির আত্মপক্ষ সমর্থন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ নাটকীয় আবহ রয়েছে, উদ্দীপকে তার কোনো প্রকাশ ঘটেনি।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটিতে প্রিয়জন হারানোর বিষাদের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতার বহুমাত্রিক আঙ্গিক, সংলাপধর্মিতা ও সার্বিক বক্তব্যের সম্পূর্ণ রূপ এতে ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন