যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিমা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। তার হাত পা অবশ হয়ে গেল, তাকে গ্রাম্য চিকিৎসকের নিকট নেয়া হল। কোনো পরীক্ষা না করে, চিকিৎসক তাকে ঔষধ দিলেন। কিন্তু রোগ ভাল হলো না। পরবর্তীতে তাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট নেয়া হলো, ডাক্তার তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে দিলেন। দেখা গেল, রহিমা ব্রেন স্ট্রোক করেছে। ডাক্তার তাকে সে অনুযায়ী ঔষধ দিলেন।

  1. ক)

    পরীক্ষণ কী?

    (1)
  2. খ)

    কাকতালীয় অনুপপত্তি কিভাবে হয়?

    (2)
  3. গ)

    গ্রাম্য চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন দিকটি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে চিকিৎসার যে দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে কোনো বিষয় বা ঘটনাকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে নিরীক্ষণ করাকে পরীক্ষণ (Experimentation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো প্রকার কার্যকর সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাদের পরপর সংঘটিত হওয়ার ভিত্তিতে একটিকে অপরটির কারণ বলে মনে করলে 'কাকতালীয় অনুপপত্তি' (Post hoc ergo propter hoc) ঘটে। কারণ ছাড়া কোনো কার্য সংঘটিত হতে পারে না; কিন্তু যখনই কোনো পূর্ববর্তী আকস্মিক বা সমাপতিত ঘটনাকে পরবর্তী ঘটনার কারণ হিসেবে দাবি করা হয়, তখন এ জাতীয় অনুপপত্তি দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গ্রাম্য চিকিৎসকের রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতিটি যুক্তিবিদ্যার 'নিরীক্ষণ' বা যথাযথ কার্যকারণ সম্পর্ক না খুঁজে বাহ্যিক বা অপরীক্ষিত অনুমানের দিকটিকে নির্দেশ করে।

    প্রকৃতির কোনো ঘটনাকে কোনো রূপ পরিবর্তন না ঘটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশে সরাসরি প্রত্যক্ষ করাকে নিরীক্ষণ বলে। নিরীক্ষণে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের অভাব থাকে বিধায় কার্যকারণ নির্ণয়ে ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    উদ্দীপকে গ্রাম্য চিকিৎসক কোনো প্রকার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রহিমার হাত-পা অবশ হওয়া দেখে কেবল সাধারণ পর্যবেক্ষণ বা অনুমানের ভিত্তিতে ঔষধ প্রদান করেন, যা সঠিক রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়। নিরীক্ষণের মাধ্যমে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে দুর্বলতা রয়েছে, গ্রাম্য চিকিৎসকের পদ্ধতিতে সেই দিকটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রহিমার চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো আরোহের বস্তুগত ভিত্তি—'নিরীক্ষণ' (গ্রাম্য চিকিৎসকের পদ্ধতি) এবং 'পরীক্ষণ' (বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ্ধতি)। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এদের মূল্যায়ন নিম্নে তুলে ধরা হলো:

    ১. গ্রাম্য চিকিৎসকের পদ্ধতি (নিরীক্ষণ): প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষ করাই নিরীক্ষণ। গ্রাম্য চিকিৎসক কোনো কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ বা ল্যাবরেটরি টেস্ট ছাড়াই শুধু বাহ্যিক লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দিয়েছেন। নিরীক্ষণের পরিধি ব্যাপক হলেও এতে কার্যকর সম্পর্ক নিশ্চিত করা কঠিন এবং এতে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনা থাকে, যার কারণে রোগ নিরাময় হয়নি।

    ২. বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পদ্ধতি (পরীক্ষণ): কৃত্রিম ও সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করাই পরীক্ষণ। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগীকে বিভিন্ন ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বিশ্লেষণ করে সঠিকভাবে 'ব্রেন স্ট্রোক' শনাক্ত করেন। পরীক্ষণে শর্তগুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করা যায় বলে এর সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত ও যথার্থ হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক সত্য উদঘাটন ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নিরীক্ষণের চেয়ে পরীক্ষণ অনেক বেশি নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন