সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
গবেষণা কী?
- খ)(2)
সামাজিক দল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন দেশের সমাজকর্ম শিক্ষার স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজকর্মকে পেশার মর্যাদায় নিয়ে আসতে উত্ত দেশের অবদান বর্ণনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গবেষণা হলো কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জন বা বিদ্যমান জ্ঞানের অনুসন্ধান ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সুশৃঙ্খল, ধারাবাহিক ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক দল বলতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির এমন এক পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত সমষ্টিকে বোঝায়, যারা সাধারণ লক্ষ্য, উদ্দেশ্য বা স্বার্থ অর্জনের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে মিথস্ক্রিয়া করে। দলের সদস্যরা অভিন্ন মূল্যবোধ ও নিয়মকানুনের দ্বারা আবদ্ধ থাকে এবং পরস্পরের প্রতি 'আমরা' বা দলগত অনুভূতি (we-feeling) প্রকাশ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমাজকর্ম শিক্ষার বিকাশ ও স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সমাজকর্ম শিক্ষার বিকাশে ১৮৭৭ সালে বাফেলো শহরে 'দান সংগঠন সমিতি' (COS) প্রতিষ্ঠা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। এ সমিতির কর্মীদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থেকে ১৮৯৮ সালে নিউইয়র্ক চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি ছয় সপ্তাহের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করে। পরবর্তীতে এটি সম্প্রসারিত হয়ে ১৯০৪ সালে পূর্ণাঙ্গ 'নিউইয়র্ক স্কুল অব ফিলানথ্রপি' (বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্ক) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
উদ্দীপকের ছকে দান সংগঠন সমিতি, স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্ক, প্রশিক্ষণ কোর্স স্থাপন, পত্রিকা প্রকাশ এবং সমাজকর্ম শিক্ষার পেশাদারি মর্যাদা অর্জনের যে সামগ্রিক চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিক ও পেশাগত সমাজকর্ম শিক্ষার বিকাশ প্রক্রিয়ার সাথে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজকর্মকে একটি পূর্ণাঙ্গ পেশার মর্যাদায় উন্নীত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) অবদান সর্বাধিক ও অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা: ১৯ শতকের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দান সংগঠন সমিতি সমাজকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়। ১৮৯৮ সালের গ্রীষ্মকালীন কোর্স এবং পরবর্তীতে ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুল অব ফিলানথ্রপি সমাজকর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
২. পেশাগত সংগঠন গড়ে তোলা: সমাজকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে গঠিত হয় 'ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব সোশ্যাল ওয়ার্কার্স' (NASW)। এটি সমাজকর্মীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পেশাগত নীতি নির্ধারণ এবং পেশার মান বজায় রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
৩. পেশাগত মূল্যবোধ ও আচরণবিধি প্রণয়ন: NASW ১৯৬০ সালে সমাজকর্মের সুনির্দিষ্ট পেশাগত আচরণবিধি ও নীতিমালা (Code of Ethics) প্রণয়ন করে, যা সমাজকর্মকে একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশার চূড়ান্ত রূপ দেয়।
৪. শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ন্ত্রণ: ১৯৫২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয় 'কাউন্সিল অন সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন' (CSWE), যা সমাজকর্মের ডিগ্রি ও কারিকুলাম অনুমোদন ও মান নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. সাহিত্য ও তত্ত্বীয় জ্ঞান সৃষ্টি: মেরি রিচমন্ডের 'সোশ্যাল ডায়াগনোসিস' (১৯১৭) সহ আমেরিকান সমাজকর্মীদের তাত্ত্বিক গবেষণা সমাজকর্মের স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক ভিত্তি গড়ে তোলে।
পরিশেষে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ, সাহিত্য রচনা এবং নীতিমালার মাধ্যমেই সমাজকর্ম ঐতিহ্যগত পরোপকার থেকে আজকের বৈজ্ঞানিক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশায় রূপান্তরিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও