গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ • বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রীমা খাদ্য গ্রহণে খুব সচেতন। সে কারণে সে একজন পুষ্টিবিদের কাছে যান। পুষ্টিবিদ তাকে সুষম খাদ্য গ্রহণের জন্য সকল শ্রেণিভুক্ত খাদ্যের পরিবেশন পরিমাণ এবং কতগুলো নিয়ম অনুসরণ করে খাদ্য তালিকা প্রস্তুতির পরামর্শ দেন।
- ক)(1)
খাদ্য গুদামজাতকরণ কী?
- খ)(2)
“সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হলে কতগুলো বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়”-বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
পুষ্টিবিদ সকল শ্রেণিভুক্ত খাদ্য এবং তাদের পরিবেশন পরিমাণ বলতে কী বুঝিয়েছেন তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
পুষ্টিবিদ রীমাকে খাদ্য তালিকা প্রস্তুতির যে নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভবিষ্যতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্যকে তার গুণগত মান ও পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ বা মজুত করে রাখাকে খাদ্য গুদামজাতকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুষম খাদ্য হলো এমন খাদ্য যা ব্যক্তির ক্যালরির চাহিদা পূরণ করে এবং এতে খাদ্যের ছয়টি পুষ্টি উপাদানই সঠিক অনুপাতে উপস্থিত থাকে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হলে ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, দৈহিক ওজন ও উচ্চতা, শারীরিক শ্রমের প্রকৃতি (পরিশ্রমী বা অলস জীবনযাত্রা), জলবায়ু বা ঋতু এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করতে হয়। কারণ ভিন্ন ভিন্ন বয়সে এবং ভিন্ন কাজের জন্য পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা ভিন্ন হয়ে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পুষ্টিবিদ সকল শ্রেণিভুক্ত খাদ্য বলতে মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর অন্তর্গত বিভিন্ন খাদ্য বিভাগকে বুঝিয়েছেন। সাধারণত খাদ্যকে প্রধান মৌলিক গ্রুপ বা শ্রেণিতে ভাগ করা হয়; যেমন— শস্য ও শস্যজাত খাদ্য (শর্করা), শাকসবজি ও ফলমূল (ভিটামিন ও খনিজ লবণ), মাছ, মাংস, ডাল ও বাদাম (প্রোটিন), দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য (ক্যালসিয়াম ও আমিষ), এবং তেল বা চর্বি।
'পরিবেশন পরিমাণ' (Serving size) বলতে একজন ব্যক্তির একবারে বা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কোনো খাদ্যদল থেকে কী পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করা উচিত তার প্রমাণ মাপকে বোঝায়। পুষ্টিবিদ রীমাকে বুঝিয়েছেন যে, সুস্থ থাকার জন্য কেবল যেকোনো খাবার খেলেই হবে না, বরং প্রতিটি শ্রেণি থেকে নির্দিষ্ট পরিবেশন পরিমাণ (সার্ভিং) অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করে দৈনিক সুষম খাদ্যের সমন্বয় ঘটাতে হবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে পুষ্টিবিদ রীমাকে খাদ্য তালিকা প্রস্তুতের যে নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন, তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্যালরি বা শক্তির চাহিদা নির্ধারণ: ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, ওজন, উচ্চতা এবং দৈনিক শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ক্যালরির চাহিদা নির্ণয় করতে হবে।
২. খাদ্যের ছয়টি উপাদানের অন্তর্ভুক্তি: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পর্যাপ্ত পানি—এ ছয়টি উপাদান সঠিক অনুপাতে রাখতে হবে।
৩. মৌলিক খাদ্যদলের সমন্বয়: খাদ্য তালিকা করার সময় প্রতিটি মৌলিক শ্রেণিভুক্ত খাদ্য (যেমন- খাদ্যশস্য, ডাল/মাংস, শাকসবজি, ফল ইত্যাদি) থেকে খাদ্য নির্বাচন করতে হবে।
৪. পরিবেশন পরিমাণের সঠিকতা: অতিরিক্ত বা ঘাটতি এড়াতে প্রতিটি শ্রেণি থেকে নির্দিষ্ট পরিবেশন সংখ্যা মেনে খাবার নির্ধারণ করতে হবে।
৫. বৈচিত্র্য আনয়ন: খাদ্যে একঘেয়েমি দূর করতে একই খাদ্য উপাদানের জন্য বিভিন্ন বিকল্প খাদ্য নির্বাচন করা প্রয়োজন।
৬. সহজলভ্যতা, ঋতুভিত্তিক ও অর্থনৈতিক দিক: ঋতুভিত্তিক তাজা ফল ও শাকসবজি এবং পারিবারিক বাজেট বিবেচনা করে খাদ্য তালিকা প্রণয়ন করা জরুরি।সুতরাং, পুষ্টিবিদের উল্লেখিত এই নিয়মগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলেই রীমা একটি আদর্শ ও বিজ্ঞানসম্মত সুষম খাদ্য তালিকা প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও