ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ১ম পত্র প্রশ্ন
হাসান লিমিটেড বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে গত অর্থবছরে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। লোকসান হওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি সঞ্চিতি তহবিল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের ১০% লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শেয়ারের বাজার মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
ব্যবসায় অর্থায়ন কী?
- খ)(2)
বৈচিত্র্যায়ণ নীতি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হাসান লিমিটেড-এর অর্থায়নের কোন লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করার কারণ কী? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য তহবিল সংগ্রহ, সুষ্ঠু বণ্টন এবং তার সঠিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রমকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বৈচিত্র্যায়ণ নীতি হলো এমন একটি অর্থায়ন কৌশল, যেখানে সব তহবিল একটি মাত্র প্রকল্পে বা সম্পদে বিনিয়োগ না করে একাধিক ভিন্ন ধরনের লাভজনক প্রকল্পে বণ্টন করে বিনিয়োগ করা হয়।
এর মূল উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকি হ্রাস করা। একটি সম্পদে লোকসান হলেও যাতে অন্য প্রকল্পের লাভ দিয়ে তা সমন্বয় করা যায়, সেজন্যই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহ ঝুঁকি কমানোর কৌশল হিসেবে এই নীতি অনুসরণ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাসান লিমিটেড-এর অর্থায়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য 'সম্পদ সর্বাধিকরণ' অর্জিত হয়েছে।
অর্থায়নের মূল দুটি লক্ষ্য হলো মুনাফা সর্বাধিকরণ এবং সম্পদ সর্বাধিকরণ। সম্পদ সর্বাধিকরণ বলতে বোঝায় শেয়ারের বর্তমান বাজার মূল্য বা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি নিট বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি করা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হাসান লিমিটেড গত অর্থবছরে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও সঞ্চিতি তহবিল ব্যবহার করে শেয়ারহোল্ডারদের ১০% লভ্যাংশ প্রদান করেছে। এর ফলে বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারের বাজার মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। শেয়ারের বাজার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সরাসরি সম্পদ সর্বাধিকরণের লক্ষ্য অর্জনের বহিঃপ্রকাশ। অতএব, প্রতিষ্ঠানটিতে সম্পদ সর্বাধিকরণ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে হাসান লিমিটেড বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্টি ধরে রাখা, বাজারে শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার জন্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করেছে।
একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূল মালিক হলেন শেয়ারহোল্ডারগণ বা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানে মূলধন বিনিয়োগ করেন নিয়মিত লভ্যাংশ এবং শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির আশায়। প্রতিষ্ঠান লোকসান করলেও যদি নিয়মিত লভ্যাংশ নীতি বজায় রাখা যায়, তবে বাজারে শেয়ারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট থাকে, যা শেয়ারের চাহিদা বৃদ্ধি করে এবং কোম্পানির বাজার সুনাম বাড়ায়।
উদ্দীপকে হাসান লিমিটেড বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিজস্ব সঞ্চিতি তহবিল থেকে শেয়ারহোল্ডারদের ১০% লভ্যাংশ দিয়েছে। এর ফলে শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা বজায় থেকেছে, প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শেয়ারের বাজার মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। কোম্পানিটি যদি লভ্যাংশ না দিত, তবে বিনিয়োগকারীরা অসন্তুষ্ট হয়ে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়াত, যার ফলে শেয়ারের দাম হ্রাস পেত এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতো।
সুতরাং, দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির টিকে থাকা, শেয়ারের বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও