ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কত মাস স্থায়ী হয়েছিল?
- খ)(2)
মৌলিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত কাঠামোটি কোন সরকারের? উত্ত সরকারের কার্যাবলি আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
স্বাধীনতা যুদ্ধে এই সরকারের নেতৃত্ব মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ প্রায় ৯ মাস স্থায়ী হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান তাঁর ক্ষমতাকে সুসংহত ও দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে সীমিত নির্বাচকমণ্ডলীভিত্তিক শাসনব্যবস্থা চালু করেন, তাকে 'মৌলিক গণতন্ত্র' (Basic Democracy) বলা হয়। এ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি ভোটাধিকার হরণ করে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৪০,০০০ করে মোট ৮০,০০০ জন নির্বাচিত স্থানীয় প্রতিনিধির (মৌলিক গণতন্ত্রী) হাতে রাষ্ট্রপতি ও আইনসভার সদস্য নির্বাচনের ক্ষমতা অর্পণ করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত কাঠামোটি ১৯৭১ সালে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা 'মুজিবনগর সরকার'-এর।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণকারী এ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি নিম্নরূপ:
১. মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও মুক্তিবাহিনী গঠন: মুজিবনগর সরকার পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে এবং ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করে সুসংগঠিতভাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে। কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।
২. কূটনৈতিক তৎপরতা: বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও স্বীকৃতি আদায়ে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মিশন স্থাপন এবং বিশেষ প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হয়।
৩. শরণার্থী ব্যবস্থাপনা: পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন থেকে বাঁচতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীর খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় রক্ষা করা।
৪. বেসামরিক প্রশাসন ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: যুদ্ধকালীন সময়ে বেসামরিক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা, তহবিল সংগ্রহ এবং 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র'-এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জোগানো ও মুক্তিকামী জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত কার্যকর, দূরদর্শী ও অনন্য।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে গঠিত এই সরকার তাঁর অনুপস্থিতিতেই মুক্তিযুদ্ধকে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে।
এই সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দিকগুলো হলো:
১. মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ভিত্তি: ১০ এপ্রিল 'স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' জারি করে সরকার মুক্তিযুদ্ধের একটি আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ভিত্তি তৈরি করে, যা মুক্তিযুদ্ধকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন না বলে জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২. সামরিক সমন্বয় ও গেরিলা যুদ্ধ: সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় সাধন করে নিয়মিত বাহিনী ও গেরিলা বাহিনী (মুক্তিবাহিনী) পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সাথে যৌথ কমান্ড গঠন করে চূড়ান্ত বিজয় ত্বরান্বিত করা হয়।
৩. বহুপাক্ষিক রাজনৈতিক ঐক্য ও বিশ্ব জনমত: অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারতসহ আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়।অতএব, উপযুক্ত দিকনির্দেশনা, সঠিক রণকৌশল এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও চূড়ান্তভাবে সফল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও