অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আনিস উদ্দীন আমার বন্ধু। কঠোর পরিশ্রম ও বুদ্ধিমত্তার গুণে দারিদ্র্য দূর করে সে আজ সমাজে প্রতিষ্ঠিত। ২০০০ সালে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা ও পরিবারের সদস্য নিয়ে সে একটি শিল্প গড়ে তোলে। ২০১০ সালে তার পুঁজি বেড়ে হয় ৫০ লক্ষ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক বেড়ে হয় ১৫ জন। ২০১৫ সালে তার শিল্প প্রতিষ্ঠানের পুঁজি বেড়ে হয় ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক বেড়ে হয় ৯০ জন।

  1. ক)

    রপ্তানিমুখী শিল্প কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সরকার সম্প্রতি পলিথিনের ব্যবহার রোধ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    আনিস উদ্দীনের ২০০০, ২০১০ এবং ২০১৫ সালের শিল্পগুলো কী ধরনের ছিল?

    (3)
  4. ঘ)

    "পিপিপি (PPP) এর মাধ্যমে আনিস উদ্দীন এর মতো বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হলে অর্থনীতির ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।"- মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী যখন প্রধানত বিদেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়, তখন সেই শিল্পকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পলিথিন একটি অপচনশীল পদার্থ, যা পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটায়। এটি মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এবং নদী ও জলাশয়ের তলদেশে জমা হয়ে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। এছাড়া বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার পলিথিনের ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী স্থায়ী পুঁজি ও নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যার ভিত্তিতে আনিস উদ্দীনের বিভিন্ন সালের শিল্পগুলোর ধরন নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ২০০০ সালে: আনিস উদ্দীন মাত্র ৫ লক্ষ টাকা পুঁজি ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিল্প শুরু করেন। যে শিল্পে পরিবারের সদস্যরা প্রধানত শ্রম দেন এবং বিনিয়োগ অত্যন্ত কম, তাকে কুটির শিল্প বলে। সুতরাং ২০০০ সালে এটি ছিল কুটির শিল্প।

    ২. ২০১০ সালে: তাঁর প্রতিষ্ঠানের পুঁজি বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা হয় ১৫ জন। শিল্পনীতি অনুযায়ী উৎপাদনের ক্ষেত্রে জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ লক্ষ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং ৩১ থেকে ১২০ জন শ্রমিক থাকলে তা ক্ষুদ্র শিল্প (বা সেবা/উৎপাদনভেদে ক্ষুদ্র শিল্পের অন্তর্ভুক্ত) হয়। ৫০ লক্ষ টাকা পুঁজি ও ১৫ জন শ্রমিক নিয়ে এটি ক্ষুদ্র শিল্পের আওতাভুক্ত।

    ৩. ২০১৫ সালে: তাঁর পুঁজি বেড়ে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ৯০ জন হয়। উৎপাদনমুখী খাতে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১৫ কোটি টাকার নিচে কিন্তু শ্রমিক সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জনের মধ্যে হলে তা মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং ২০১৫ সালের শিল্পটি মাঝারি শিল্পের রূপ ধারণ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পিপিপি (Public-Private Partnership) বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আনিস উদ্দীনের মতো বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সাথে সরকারের যৌথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    পিপিপি হলো অবকাঠামো নির্মাণ, সেবা প্রদান বা বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এককভাবে সরকারের পক্ষে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দর বা শিল্পাঞ্চল নির্মাণ করা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কঠিন। উদ্দীপকে দেখা যায় আনিস উদ্দীন একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দূরদর্শী উদ্যোক্তা, যিনি কুটির শিল্প থেকে মাঝারি শিল্পে প্রতিষ্ঠানকে সফলভাবে রূপান্তর করেছেন।

    আনিস উদ্দীনের মতো অভিজ্ঞ ও উদ্ভাবনী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, প্রযুক্তি ও পুঁজি এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী সহায়তা ও জমি বা সুযোগ-সুবিধা একত্রিত হলে:
    ১. দ্রুত ও মানসম্মত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হবে।
    ২. সরকারি অর্থের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বেসরকারি অলস পুঁজির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
    ৩. প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে যা দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে।
    ৪. শিল্পায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় আয় (জিডিপি) ও রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।

    অতএব, পিপিপি মডেল দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ত্বরান্বিত করার জন্য একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন