জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্যবহারিক ক্লাসে পর্যবেক্ষিত দুটি নমুনার বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:নমুনা P : ভাস্কুলার বান্ডল অরিও এবং ৬ এর অধিক। নমুনা Q : ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত এবং বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- ক)(1)
ভাজক টিস্যু কাকে বলে?
- খ)(2)
কেন্দ্রীয় ভাস্কুলার বান্ডল বলতে কি বুঝায়
- গ)(3)
নমুনা P দ্বারা নির্দেশিত উদ্ভিদাংশের অন্তর্গঠনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন কর।
- ঘ)(4)
নমুনা P ও Q দ্বারা নির্দেশিত উদ্ভিদাংশের অন্তর্গঠনের পার্থক্যসমূহ লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ ও কলা সৃষ্টি করে, তাকে ভাজক টিস্যু (Meristematic tissue) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে ভাস্কুলার বান্ডলে জাইলেম বা ফ্লোয়েমের যেকোনো একটি কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে এবং অপরটি তাকে চারপাশ থেকে সম্পূর্ণভাবে বেষ্টন করে রাখে, তাকে কেন্দ্রিক বা কেন্দ্রীয় ভাস্কুলার বান্ডল (Concentric vascular bundle) বলে।
এটি দুই প্রকার:
১. জাইলেম-কেন্দ্রিক (Hadrocentric): জাইলেম কেন্দ্রে এবং ফ্লোয়েম পরিধিতে থাকে (যেমন: Pteris)।
২. ফ্লোয়েম-কেন্দ্রিক (Leptocentric): ফ্লোয়েম কেন্দ্রে এবং জাইলেম পরিধিতে থাকে (যেমন: Dracaena)। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নমুনা P-তে ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় এবং সংখ্যায় ৬-এর অধিক হওয়ায় এটি একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলকে (Monocot root) নির্দেশ করে।
একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলের (যেমন: মূলের প্রস্থচ্ছেদ) চিহ্নিত চিত্র নিম্নরূপ অংশসমূহ নিয়ে গঠিত:
১. মূলরোম ও এপিব্লেমা (বহিঃত্বক)
২. কর্টেক্স (বহুকোষী প্যারেনকাইমা স্তর)
৩. অন্তঃত্বক (Endodermis) ও ক্যাসপেরিয়ান পট্টি
৪. পরিচক্র (Pericycle)
৫. ভাস্কুলার বান্ডল (অরীয় প্রকৃতির, ৬-এর অধিক জাইলেম ও ফ্লোয়েম গুচ্ছ পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে সজ্জিত)
৬. মজ্জা (Medulla - কেন্দ্রস্থলে সুগঠিত ও বৃহৎ আকার বিশিষ্ট)[পরীক্ষার্থীদের খাতায় একবীজপত্রী মূলের অন্তর্গঠনের পরিষ্কার চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে যেখানে এপিব্লেমা, কর্টেক্স, এন্ডোডার্মিস, পরিচক্র, অরীয় ভাস্কুলার বান্ডল ও বৃহৎ মজ্জা স্পষ্টভাবে নির্দেশিত থাকবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নমুনা P হলো 'একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূল' এবং নমুনা Q হলো 'একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ড'। এদের অন্তর্গঠনের তুলনামূলক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
১. ত্বকীয় বৈশিষ্ট্য: P (মূল)-এর বহিরাবরণকে এপিব্লেমা বলে, এতে কিউটিকল অনুপস্থিত এবং এককোষী মূলরোম উপস্থিত। অন্যদিকে Q (কাণ্ড)-এর বহিরাবরণকে এপিডার্মিস বলে, এতে পুরু কিউটিকল উপস্থিত এবং রোম সাধারণত অনুপস্থিত থাকে।
২. অধস্ত্বক (Hypodermis): P-তে কোনো অধস্ত্বক থাকে না। কিন্তু Q-তে এপিডার্মিসের নিচে স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু নির্মিত সুনির্দিষ্ট অধস্ত্বক উপস্থিত।
৩. কর্টেক্স ও গ্রাউন্ড টিস্যু: P-এর কর্টেক্স সুনির্দিষ্ট, বহুস্তরবিশিষ্ট এবং অন্তঃত্বক ও পরিচক্র সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান। কিন্তু Q-তে কর্টেক্স, অন্তঃত্বক ও পরিচক্রের সুস্পষ্ট বিভাজন নেই; সম্পূর্ণ অংশটি গ্রাউন্ড টিস্যু হিসেবে বিস্তৃত।
৪. ভাস্কুলার বান্ডলের বিন্যাস: P-এর ভাস্কুলার বান্ডল বৃত্তাকারে নির্দিষ্ট স্থানে সাজানো থাকে। কিন্তু Q-এর ভাস্কুলার বান্ডলগুলো গ্রাউন্ড টিস্যুতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো থাকে।
৫. ভাস্কুলার বান্ডলের প্রকার: P-এর ভাস্কুলার বান্ডল অরীয় (Radial)। পক্ষান্তরে Q-এর ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় এবং বদ্ধ (Conjoint, Collateral and Closed)।
৬. জাইলেমের প্রকৃতি: P-এর জাইলেম এক্সার্ক (Exarch - প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে)। কিন্তু Q-এর জাইলেম এন্ডার্ক (Endarch - প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধির দিকে) এবং জাইলেম ভেসেলগুলো ইংরেজি 'Y' বা 'V' অক্ষরের মতো সজ্জিত।
৭. মজ্জা: P-তে সুস্পষ্ট ও বৃহৎ মজ্জা বিদ্যমান। কিন্তু Q-তে সুনির্দিষ্ট কোনো মজ্জা গঠিত হয় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও