অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সাজ্জাদ সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি পেনশন থেকে প্রাপ্ত টাকা কোথায় বিনিয়োগ করবেন সেই বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন। তার সহকর্মীরা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। পরিশেষে তিনি কিছু টাকা ব্যাংকে রাখলেন এবং অবশিষ্ট টাকায় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ড ক্রয় করলেন।
- ক)(1)
অর্থায়ন বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
নিজস্ব অর্থায়নের সুবিধা উল্লেখ করো।
- গ)(3)
সাজ্জাদ সাহেব কোন খাত থেকে নির্দিষ্ট এবং সুনিশ্চিত মুনাফা পাবেন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কোন বিনিয়োগ খাত থেকে মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিত কিন্তু সব থেকে অধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ, এর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনশীল খাতে লাভজনক বিনিয়োগের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে অর্থায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব অর্থায়নের প্রধান সুবিধা হলো এতে কোনো আর্থিক দায় বা নির্দিষ্ট সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকে না।
এছাড়া উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে তহবিল ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং ব্যবসায় লোকসান হলেও বহিঃস্থ পাওনাদারের দেউলিয়া করার মতো ঝুঁকি সৃষ্টি হয় না। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাজ্জাদ সাহেব ‘ব্যাংক আমানত’ এবং ‘বন্ড’ থেকে নির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত মুনাফা (সুদ) পাবেন।
অর্থায়নের মূলনীতি অনুযায়ী, ব্যাংক স্থায়ী বা মেয়াদি আমানতে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত সুদ প্রদান করে থাকে, যেখানে মূলধন হারানোর ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে। একইভাবে বন্ড হলো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণপত্র, যাতে বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি নির্দিষ্ট সময় পরপর পূর্বনির্ধারিত হারে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ প্রদান করতে আইনত বাধ্য থাকে। কোম্পানির লাভ বা লোকসান যাই হোক না কেন, বন্ডহোল্ডার ও ব্যাংক আমানতকারীদের চুক্তি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট মুনাফা বা সুদ প্রদান করা হয়।
সুতরাং, সাজ্জাদ সাহেব তাঁর সঞ্চিত অর্থের যে অংশ ব্যাংকে জমা রেখেছেন এবং যেসব বন্ড ক্রয় করেছেন, সেই খাতগুলো থেকেই একটি নির্দিষ্ট ও ঝুঁকিমুক্ত সুনিশ্চিত আয় লাভ করবেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিনিয়োগ খাতগুলোর মধ্যে ‘কোম্পানির শেয়ার’ (সাধারণ শেয়ার) থেকে মুনাফা পাওয়া অনিশ্চিত হলেও এতে সর্বাধিক মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। নিম্নে এর সপক্ষে বিশ্লেষণ করা হলো:
কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে বিনিয়োগকারী কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করেন। শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানি অর্জিত নিট মুনাফার ওপর লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড পেয়ে থাকেন। তবে এই মুনাফা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে কোম্পানির ব্যবসায়িক সাফল্য বা মুনাফা অর্জনের ওপর। কোম্পানি লোকসান করলে শেয়ারহোল্ডাররা কোনো লভ্যাংশ পান না এবং বাজারে শেয়ারের মূল্য কমে গিয়ে মূলধনি ক্ষতির (capital loss) ঝুঁকি থাকে। ঋণপত্র বা বন্ডের সুদ এবং ব্যাংকের সুদের মতো শেয়ারের লভ্যাংশ পূর্বনির্ধারিত বা বাধ্যতামূলক নয়; ফলে এখান থেকে মুনাফা প্রাপ্তি অত্যন্ত অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।
কিন্তু অর্থায়নে একটি স্বীকৃত নীতি হলো—"অধিক ঝুঁকি, অধিক লাভ" (High risk, high return)। কোম্পানি যদি ভালো ব্যবসা করে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করে, তবে অন্যান্য দেনা পরিশোধের পর অবশিষ্ট সমস্ত মুনাফার দাবিদার হন সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা। এছাড়া বাজারে কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেলে তা বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ মূলধনি লাভ (capital gain) অর্জন করা সম্ভব হয়, যা ব্যাংক আমানত বা বন্ডের সীমিত আয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি হতে পারে।
অতএব, সাজ্জাদ সাহেবের বিনিয়োগের খাতগুলোর মধ্যে শেয়ারেই অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, কিন্তু একই সাথে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের সুযোগও এই খাতেই সর্বাধিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও