‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    নওয়াব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    'ক' ছকে যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লক্ষণীয় শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'খ' ছকে যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব লক্ষণীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল (ভাইসরয়) ছিলেন লর্ড কার্জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উত্তর ভারতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেমন পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে আধুনিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করার অগ্রদূত ছিলেন, তেমনি বাংলায় নওয়াব আবদুল লতিফ বাঙালি মুসলমানদের ইংরেজি ও আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৮৬৩ সালে 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বাঙালি মুসলমানদের মাঝে শিক্ষা ও রাজনৈতিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেন। মুসলমানদের জাগরণে উত্তর ভারতে সৈয়দ আহমদ খানের মতো বাংলায় একই ধরনের অবদানের জন্য নওয়াব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' ছকে 'কৃষক প্রজা আন্দোলন' ও 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি গঠন' নির্দেশ করায় ব্যক্তিত্বটি হলেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

    শিক্ষা বিস্তারে এ. কে. ফজলুল হকের অবদান অপরিসীম। তিনি ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শিক্ষা প্রসারে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর প্রধান অবদানগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. নিখরচায় প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন: তিনি গরিব কৃষক-প্রজার সন্তানদের শিক্ষার আওতায় আনতে অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বিল পাস করেন।
    ২. বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন: তিনি নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে কলকাতায় লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া ঢাকার ইডেন কলেজ, ফজলুল হক মুসলিম হল, মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ, চাখারের ফজলুল হক কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় প্রত্যক্ষ অবদান রাখেন।
    ৩. মুসলমানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণ: উচ্চশিক্ষায় মুসলমান শিক্ষার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেন।

    সুতরাং, অনগ্রসর বাঙালি সমাজের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'খ' ছকে 'অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী' ও 'যুক্তফ্রন্টের অবিসংবাদিত নেতা' হিসেবে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    উপমহাদেশ ও তৎকালীন পাকিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রশংসনীয়। নিচে তাঁর ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. রাজনৈতিক অধিকার ও বিরোধী দল গঠন: পাকিস্তানের সূচনালগ্নে যখন মুসলিম লীগ একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার দিকে যাচ্ছিল, তখন সোহ্‌রাওয়ার্দী বিরোধী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) গঠনে নেতৃত্ব দেন, যা পাকিস্তানে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভিত গড়ে তোলে।
    ২. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও মওলানা ভাসানীকে সাথে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনে নেতৃত্ব দেন এবং নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটান।
    ৩. ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়ন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের প্রথম কার্যকর সংবিধান (১৯৫৬) প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যাতে সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।
    ৪. সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম: জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসন ও এ্যাবডো (EBDO)-র বিরুদ্ধে সোহ্‌রাওয়ার্দী আজীবন লড়াই করে যান এবং ১৯৬২ সালে গঠিত গণতান্ত্রিক জাতীয় ফ্রন্ট (NDF)-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দেন।

    গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপসহীন সংগ্রামের জন্যই তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন