বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ভয়ংকর এক সড়ক দুর্ঘটনায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা রায়হানকে পাশের বস্তিরমেয়ে জাহানারা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। স্মৃতি ফিরে পেলে রায়হান জানতে পারেতার জীবন বাঁচিয়েছে ঐ মেয়েটি। দীর্ঘদিন সেবা-যত্নের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়েওঠে সে। রায়হান মেয়েটির প্রতি কৃজ্ঞতাবোধ থেকে তাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়েআসে। তার বাবা জাহানারাকে মেনে নেয় না। কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে তাকে বিদায়করে দিতে চাইলে রায়হানও জাহানার সাথে বস্তিতেই চলে যায় এবং সেখানেই সুখেসংসার বাঁধে।
- ক)(1)
‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম কী?
- খ)(2)
“ওরে বাপরে! আমি একলা থাকতে পারব না।” উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের রায়হান এবং ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই মানবিকতার মূর্ত প্রতীক।” উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বিলাসী’ গল্পের গল্পকথকের নাম ন্যাড়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি গল্পকথক ন্যাড়ার আন্তরিক ভীতি ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে।
মৃত্যুঞ্জয় মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় একা একা পড়ে ছিল। বিলাসী সেখানে এসে পরম যত্নে মৃত্যুঞ্জয়ের শুশ্রূষা করছিল। ন্যাড়া যখন মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে যায় এবং বিলাসীকে তার জাত ও পরিচয়ের কথা জিজ্ঞেস করে, তখন বিলাসী জানায় সে সাপুড়ের মেয়ে। এমন সময় ন্যাড়া ভয় পেয়ে যায় এবং একা থাকতে অপারগতা প্রকাশ করে মন্তব্যটি করে। তীব্র অসুখ ও মৃত্যুভয়ের পরিবেশ এবং অন্ধকার রাতের নির্জনতায় একা থাকার আতঙ্ক থেকেই ন্যাড়া এ কথা বলেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রের সাথে ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর নিঃস্বার্থ সেবা, শুশ্রূষা এবং মানবপ্রেমের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় যখন মারাত্মক কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিল, তখন বিলাসী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত সেবা করে তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে। জাত-পাত, সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সে কেবল মানবতার টানে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে আপন করে নেয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, জাহানারা বস্তির একটি মেয়ে হয়েও সড়ক দুর্ঘটনায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকা রায়হানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। দীর্ঘদিন পরম সেবা ও যত্নের মাধ্যমে সে রায়হানকে সুস্থ করে তোলে। বিলাসীর মতো জাহানারাও কোনো প্রতিদানের আশা না করে এক মুমূর্ষু মানুষকে জীবনদান করেছে। উভয় চরিত্রেই নিঃস্বার্থ পরোপকারিতা, সেবাপরায়ণতা এবং মানবিক মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে। তাই উদ্দীপকের জাহানারা চরিত্রটি ‘বিলাসী’ গল্পের বিলাসীর সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রায়হান এবং ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয় উভয়েই জাত-শ্রেণিভেদের সামাজিক সংকীর্ণতাকে উপেক্ষা করে মানবিকতাকে সর্বোচ্চে স্থান দিয়েছে—এ বিবেচনায় উক্তিটি যথার্থ।
‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় সমাজের তথাকথিত উচ্চবর্ণের ছেলে হয়েও জাতপাতের কৃত্রিম ভেদাভেদকে পাত্তা দেয়নি। অসুস্থাবস্থায় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী যেভাবে তাকে জীবন দিয়ে বাঁচিয়ে তুলেছিল, সুস্থ হয়ে মৃত্যুঞ্জয় সেই ঋণ স্বীকার করেছে। সে সমাজের মানুষের তীব্র নিন্দা, জাতচ্যুত হওয়ার ভয় এবং আত্মীয়-স্বজনের অত্যাচার অগ্রাহ্য করে বিলাসীকেই ভালোবেসে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিল। এভাবে সে মানবতাকে সামাজিক কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়।
উদ্দীপকের রায়হানও একইভাবে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য সে জাহানারাকে কেবল ধন্যবাদ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি, বরং সামাজিক মর্যাদার ব্যবধান ভুলে কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে জাহানারাকে বিয়ে করে। তার বাবা জাহানারাকে অর্থ দিয়ে তাড়িয়ে দিতে চাইলে রায়হান সেই অন্যায় মেনে নেয়নি। বাবার বিত্ত-বৈভব ত্যাগ করে সে জাহানারার সাথে বস্তিতে সাধারণ জীবন বেছে নেয়।
সুতরাং দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় এবং রায়হান উভয়েই জাত, ধর্ম, ধনী-দরিদ্রের শ্রেণিভেদ কিংবা সামাজিক সামাজিক সুবিধাবাদিতার চেয়ে ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং মানবিক কর্তব্যকে বড় করে দেখেছে। স্বার্থপর সমাজের মুখে চপেটাঘাত করে তারা উভয়েই মানবিকতার জয়গান গেয়েছে। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও