জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
কর্ডাটা পর্বের তৃতীয় উপপর্ব ভার্টিব্রাটা। পরিণত প্রাণীতে তাদের নটোকর্ড মেরুদণ্ডে প্রতিস্থাপিত হয়। মেরুদণ্ডীদের মধ্যে সংখ্যার দিক দিয়ে মাছের পরই পাখির অবস্থান। পাখি সুরেলা এবং সুপরিচিত প্রাণী।
- ক)(1)
নটোকর্ড কাকে বলে?
- খ)(2)
Larimeria কে Sarcopterygii বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুপরিচিত প্রাণীর শ্রেণিগত বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রাণির বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কর্ডাটা পর্বের প্রাণীদের ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন পৃষ্ঠ-মধ্যরেখা বরাবর বিদ্যমান স্থিতিস্থাপক, নমনীয় ও দণ্ডাকার ফাঁপা অক্ষীয় কাঠামোকে নটোকর্ড বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
Latimeria (ল্যাটিমেরিয়া)-কে Sarcopterygii শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কারণ এদের যুগ্ম পাখনাগুলো মাংসল বা পিন্ডাকার (lobe-finned) এবং প্রতিটি পাখনার গোড়ায় অস্থিময় অক্ষ থাকে। এছাড়া এদের দেহ কসময়েড আঁইশে আবৃত এবং অন্তঃকঙ্কাল প্রধানত অস্থিনির্মিত। মাংসল ও পদসদৃশ পাখনা থাকার এই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জন্যই Latimeria-কে সারকোপটেরিজির জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুপরিচিত প্রাণী হলো পাখি, যা কর্ডাটা পর্বের ভার্টিব্রাটা উপপর্বের 'Aves' (অ্যাভিস) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এর শ্রেণিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
১. এদের দেহ পালক (feathers) দ্বারা আবৃত থাকে এবং অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে।
২. চোয়াল দাঁতবিহীন চঞ্চুতে (beak) পরিণত হয়েছে।
৩. এদের অস্থিগুলো হালকা, শক্ত এবং বায়ুগহ্বরযুক্ত (নিউমেটিক অস্থি)।
৪. ফুসফুসের সাথে সহায়ক বায়ুথলি (air sacs) যুক্ত থাকে, যা উড়তে এবং শ্বসনে অতিরিক্ত অক্সিজেন জোগায়।
৫. হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট (দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়) এবং এরা উষ্ণরক্তবিশিষ্ট বা হোমোইওথার্মিক (homeothermic) প্রাণী।
৬. এরা ডিম পাড়ে (ওভিপ্যারাস) এবং ডিমের ওপর ক্যালসিয়াম নির্মিত শক্ত খোলস থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মেরুদণ্ডী প্রাণী হলো 'মাছ'। আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে মাছ তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বিভক্ত: Chondrichthyes, Actinopterygii এবং Sarcopterygii। এদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অন্তঃকঙ্কাল: Chondrichthyes শ্রেণির অন্তঃকঙ্কাল সম্পূর্ণ তরুণাস্থিময়; কিন্তু Actinopterygii ও Sarcopterygii শ্রেণির অন্তঃকঙ্কাল প্রধানত শক্ত অস্থিনির্মিত।
২. আঁইশের ধরন: Chondrichthyes-এ প্লাকয়েড আঁইশ থাকে; Actinopterygii-তে প্রধানত সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁইশ থাকে; এবং Sarcopterygii-তে কসময়েড আঁইশ উপস্থিত।
৩. পাখনার প্রকৃতি: Actinopterygii-এর পাখনাগুলো অস্থিময় রশ্মিযুক্ত (Ray-finned); পক্ষান্তরে Sarcopterygii-এর জোড় পাখনাগুলো মাংসল বা পিন্ডাকার (Lobe-finned)।
৪. ফুলকারন্ধ্র ও কানকো: Chondrichthyes-এ কানকো বা অপারকুলাম থাকে না এবং ৫-৭ জোড়া ফুলকারন্ধ্র উন্মুক্ত থাকে। Actinopterygii ও Sarcopterygii-তে ফুলকাগুলো কানকো দিয়ে আবৃত থাকে এবং মাথার প্রতিপাশে একটি করে ফুলকারন্ধ্র উন্মুক্ত হয়।
৫. পুচ্ছ পাখনা: Chondrichthyes-এর লেজ সাধারণত হেটারোসার্কাল ধরনের; Actinopterygii-এর লেজ হোমোসার্কাল; এবং Sarcopterygii-এর লেজ ডাইফিসার্কাল প্রকৃতির।
৬. পটকা (বায়ুথলি): Chondrichthyes-এ পটকা অনুপস্থিত; Actinopterygii-তে প্লবতারক্ষাকারী পটকা থাকে এবং Sarcopterygii-তে রক্তজালক সমৃদ্ধ পটকাটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বসনে (ফুসফুস সদৃশ) ব্যবহৃত হয়।উপসংহারে বলা যায়, অন্তঃকঙ্কালের গঠন, আঁইশ, পাখনা এবং শ্বাসযন্ত্রীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মাছের এই তিনটি শ্রেণি পরস্পর থেকে সুনির্দিষ্টভাবে পৃথক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও