অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

রুবেল তার বিদেশি বন্ধু জেমসকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও তার পূর্ববর্তী সময়ের ইতিহাস বর্ণনা করলেন। রুবেল স্পষ্ট করেই ব্যাখ্যা করলেন অতীতে বাংলাদেশ ছিল ধন-সম্পদে ভরপুর। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের শাসন ও শোষণে এদেশ পরিণত হয় একটি গরিব ও অনুন্নত রাষ্ট্রে। পাকিস্তানিদের বিমাতাসুলভ আচরণ আমাদের জাতীয় আয়, জীবনযাত্রার মান, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন আর স্থবির রাষ্ট্র নয়।

  1. ক)

    অর্থনৈতিক কাঠামো বলতে কী বোঝ?

    (1)
  2. খ)

    স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে পাকিস্তান শাসনামলের অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রুবেলের বক্তব্য- বাংলাদেশ স্থবির রাষ্ট্র নয়, ধীরে, ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, তুমি কি মনে কর, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময়? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনৈতিক কাঠামো বলতে কোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি এবং সেগুলোর সাথে সম্পর্কিত কৃষি, শিল্প, সেবা ইত্যাদি বিভিন্ন খাতের বিন্যাস ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপকে বোঝায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর, অনুন্নত এবং ঔপনিবেশিক শোষণে জর্জরিত।

    ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলে এদেশের সম্পদ систематически পশ্চিম পাকিস্তান ও ব্রিটেনে পাচার করা হতো। বিশেষ করে পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের অর্জিত সিংহভাগ বৈদেশিক মুদ্রা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো। ফলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে শিল্পায়ন, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের চরম সংকট ছিল এবং অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পাকিস্তান শাসনামলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর চাপিয়ে দেওয়া চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    পাকিস্তান শাসনামলে (১৯৪৭-১৯৭১) কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক ও বিমাতাসুলভ নীতি অনুসরণ করত। পাট ও চা রপ্তানি করে পূর্ব পাকিস্তান সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলেও সেই অর্থের সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হতো।

    উন্নয়ন বরাদ্দ, রাজস্ব ব্যয়, বৈদেশিক সাহায্য বণ্টন এবং জাতীয় আয়ের পুনর্বণ্টনে পূর্ব পাকিস্তান তীব্র বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। এছাড়া সামরিক ও বেসামরিক চাকুরিতে পূর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল নগণ্য। ফলে অর্থনৈতিকভাবে পূর্ব পাকিস্তান একটি শোষিত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে পরিণত হয়, যা উদ্দীপকে রুবেলের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি উদ্দীপকে উল্লিখিত রুবেলের বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত। বাংলাদেশ আজ আর কোনো স্থবির রাষ্ট্র নয়, বরং একটি অমিত সম্ভাবনাময় ও দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ।

    স্বাধীনতার সময় যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা এবং ঔপনিবেশিক শোষণের ক্ষত নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে কৃষি, শিল্প ও সেবা—তিনটি খাতেই রূপান্তর ঘটছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের বিকাশ, প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেছে।

    বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হওয়ার কারণসমূহ:
    ১. ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড: দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ ও কর্মক্ষম, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বড় চালিকাশক্তি।
    ২. মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন: গড় আয়ু বৃদ্ধি, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, নারী শিক্ষার হার এবং নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
    ৩. তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল খাত: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দ্রুত বিস্তার এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

    সুতরাং, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ নিকট ভবিষ্যতেই একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়ে তার পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন