পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
সোহানা এ বছর মাধ্যমিক পাস করেছে এবং কলেজে ভর্তি হবে। তার পিতা-মাতা তাকে বলল, কলেজে ভর্তি হয়ে তুমি এমন একটি বিষয় অধ্যয়ন করবে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র, সরকার, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যাবে এবং মা তোমাকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
- ক)(1)
'Civis' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
সুশাসন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানার পিতা-মাতা তাকে কোন বিষয়টি অধ্যয়নের কথা বলেছে? এর পরিধি ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের অধ্যয়ন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক" তুমি কি একমত। যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Civis' (সিভিস) শব্দের অর্থ হলো নাগরিক (Citizen)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুশাসন (Good Governance) বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে সরকারের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, বৈধতা এবং জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এটি রাষ্ট্র ও সমাজের সার্বিক কল্যাণে পরিচালিত একটি জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়সঙ্গত শাসন প্রক্রিয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহানার পিতা-মাতা তাকে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি অধ্যয়নের কথা বলেছেন।
পৌরনীতি ও সুশাসন হলো নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান, যার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। এর প্রধান প্রধান পরিধি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নাগরিকতা বিষয়ক আলোচনা: এটি নাগরিকের অধিকার, কর্তব্য, গুণাবলী ও দায়িত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করে।
২. রাষ্ট্র ও সরকারের রূপরেখা: রাষ্ট্রের উৎপত্তি, উপাদান, প্রকৃতি এবং সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও রূপভেদ নিয়ে আলোচনা করে।
৩. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ: সংবিধান, রাজনৈতিক দল, জনমত, নির্বাচন ব্যবস্থা ইত্যাদি এ বিষয়ের অন্যতম পাঠ্য।
৪. অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: নাগরিক ও রাষ্ট্রের অতীত এবং বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের রূপরেখা প্রদান করে।
৫. আন্তর্জাতিক সংস্থা: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন এবং বিশ্বজনীন প্রেক্ষাপটে নাগরিকের ভূমিকা এর আওতাভুক্ত। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের অধ্যয়ন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক"— উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
পৌরনীতি ও সুশাসন অধ্যয়নের মাধ্যমে নাগরিকগণ তাদের অধিকার সম্পর্কে যেমন সচেতন হয়, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি তাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ হয়। এর ফলে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সোহানার পিতা-মাতা তাকে এমন একটি বিষয় অধ্যয়নের পরামর্শ দেন যা তাকে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিম্নলিখিত উপায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে:
১. সচেতনতা বৃদ্ধি: এটি নাগরিককে সৎ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের গুরুত্ব বুঝতে শেখায় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন করে।
২. আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুশাসন অসম্ভব। এ বিষয়টি নাগরিকদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।
৩. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সরকারের কাজকর্মে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নাগরিকের গঠনমূলক সমালোচনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৪. পরমতসহিষ্ণুতা ও নাগরিক চেতনা: এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পরমতসহিষ্ণুতার বিকাশ ঘটায় যা একটি জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।অতএব, বলা যায় যে পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান ছাড়া সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি সম্ভব নয়, আর সুনাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। তাই বিষয়টি অধ্যয়ন নিঃসন্দেহে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সহায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও