যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: জনাব রহমান একজন ফল বিক্রেতা। ক্রেতাদের নিকট তিনি একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। কারণ তিনি সবসময় সঠিক ওজনে, ভেজালমুক্ত ফল বিক্রয় করেন।দৃষ্টান্ত-২: জনাব জলিল তার গ্রামে একজন সম্মানীয় ব্যাপ্তি। গ্রামের সব মানুষই তার পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করেন। কারণ তিনি একজন আবেগ, কুসংস্কার ও পক্ষপাত মুক্ত মানুষ। যে কোনো ঘটনাকেই তিনি যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করে থাকেন।

  1. ক)

    আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান কী?

    (1)
  2. খ)

    যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ এর ঘটনাটিকে পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-১ ও দৃষ্টান্ত-২ এর মধ্যকার সম্পর্ক পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে বিজ্ঞান কোনো একটি নির্দিষ্ট আদর্শের নিরিখে বা মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর ভালো-মন্দ বা উচিত-অনুচিত বিচার করে, তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তিবিদ্যা চিন্তা বা যুক্তির বৈধতা ও অবৈধতা নিয়ে আলোচনা করে এবং সত্য অর্জনের উদ্দেশ্যে মনন বা চিন্তার নিয়মাবলি নির্দেশ করে। যুক্তিবিদ্যা আমাদের চিন্তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার নিয়ম ও পদ্ধতি শিক্ষা দেয় বলেই যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান বা 'Science of Thought' বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এর ঘটনাটি নীতিবিদ্যার (Ethics) বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে।

    জনাব রহমান একজন ফল বিক্রেতা, যিনি ক্রেতাদের কাছে সৎ ও পরিশ্রমী হিসেবে সুপরিচিত। তিনি ভেজালমুক্ত ফল বিক্রি করেন এবং ওজনে সঠিক দেন। মানুষের আচরণে কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কোনটা সততা এবং সমাজের প্রতি কর্তব্য—এগুলো নীতিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয়। নীতিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যার মূল আদর্শ হলো 'পরম কল্যাণ' বা 'শিব' (Goodness)। জনাব রহমানের এই সততা, ন্যায়নীতিনির্ভর কর্ম এবং নৈতিক দায়িত্ববোধ নীতিবিদ্যার আদর্শ ও বাস্তব প্রতিফলনেরই রূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ নির্দেশ করে 'নীতিবিদ্যা' এবং দৃষ্টান্ত-২ নির্দেশ করে 'যুক্তিবিদ্যা'। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক পরিপূরক।

    ১. উভয়েই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান: নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো 'সত্য' (Truth) এবং নীতিবিদ্যার আদর্শ হলো 'পরম কল্যাণ' বা 'শুভ' (Goodness)। যুক্তিবিদ্যা সত্য অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে আর নীতিবিদ্যা সত্যভিত্তিক ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় নির্দেশনা দেয়।

    ২. পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা: জনাব জলিল (দৃষ্টান্ত-২) যুক্তিবাদী মানুষ হয়ে অন্ধবিশ্বাস ও আবেগ পরিহার করে যৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যুক্তিবিদ্যা মানুষকে যে নির্ভুল চিন্তাশক্তি দেয়, তার মাধ্যমেই মানুষ সমাজে নীতিবান হতে পারে। অন্যদিকে জনাব রহমানের (দৃষ্টান্ত-১) সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ যৌক্তিক চিন্তাভাবনারই ফলশ্রুতি। অযৌক্তিক মানুষ প্রকৃতপক্ষে নীতিবান হতে পারে না।

    ৩. উদ্দেশ্যগত ঐক্য: ব্যক্তি ও সমাজকে সুন্দর, পরিশীলিত এবং নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উভয় বিদ্যার সমমর্যাদা রয়েছে। জলিল সাহেবের মতো যৌক্তিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা রহমান সাহেবের মতো সৎ ও নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

    অতএব, দৃষ্টান্ত-১ (নীতিবিদ্যা) এবং দৃষ্টান্ত-২ (যুক্তিবিদ্যা) মানবজীবনের দুটি অবিচ্ছেদ্য দিক নির্দেশ করে, যেখানে একটি ছাড়া অন্যটির যথার্থ বিকাশ সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন