জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
রক্ত কী?
- খ)(2)
শিরা ও ধমনির মধ্যে পার্থক্য দেখাও।
- গ)(3)
ধারাবাহিকভাবে তীর চিহ্নিত গতিপথগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মানদেহে 'G' অকেজো হয়ে পড়লে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উহার চিকিৎসা সম্ভব – বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রক্ত হলো সামান্য ক্ষারীয়, লবণাক্ত, তরল যোজক কলা, যা রক্তকণিকা ও রক্তরস নিয়ে গঠিত এবং রক্তনালির মাধ্যমে সমগ্র দেহে সংবহিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিরা ও ধমনির মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. উৎপত্তি ও সমাপ্তি: ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত হয়; পক্ষান্তরে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে উৎপন্ন হয়ে হৃদপিণ্ডে এসে শেষ হয়।
২. রক্তের প্রকৃতি: ধমনি সাধারণত অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবহন করে (ব্যতিক্রম: পালমোনারি ধমনি); অন্যদিকে শিরা সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত পরিবহন করে (ব্যতিক্রম: পালমোনারি শিরা)।
৩. কপাটিকা: ধমনিতে সাধারণত কপাটিকা থাকে না; কিন্তু শিরায় কপাটিকা উপস্থিত থাকে।
৪. প্রাচীর ও গহ্বর: ধমনির প্রাচীর পুরু, স্থিতিস্থাপক এবং এর লুমেন বা গহ্বর ছোট; শিরার প্রাচীর তুলনামূলক পাতলা, কম স্থিতিস্থাপক এবং গহ্বর বড়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্রে হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহের গতিপথ দেখানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে তীর চিহ্নিত গতিপথগুলো নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. ঊর্ধ্ব ও নিম্ন মহাশিরা (P ও Q) দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত ডান অলিন্দে প্রবেশ করে।
২. ডান অলিন্দের সংকোচনের ফলে ট্রাইকাসপিড কপাটিকা খুলে যায় এবং রক্ত ডান নিলয়ে প্রবেশ করে।
৩. ডান নিলয় সংকুচিত হলে রক্ত পালমোনারি ধমনির (R) মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায় এবং সেখানে গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন হয় (অক্সিজেন গ্রহণ ও CO2 ত্যাগ)।
৪. ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত পালমোনারি শিরার (T) মাধ্যমে বাম অলিন্দে ফিরে আসে।
৫. বাম অলিন্দের সংকোচনের পর বাইকাসপিড কপাটিকা দিয়ে রক্ত বাম নিলয়ে প্রবেশ করে।
৬. বাম নিলয় সংকুচিত হলে মহাধমনি বা অ্যাওর্টার (S) মাধ্যমে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সমগ্র দেহে ছড়িয়ে পড়ে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিহ্নিত 'G' হলো হৃদপিণ্ডের ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN), যা হৃদস্পন্দন সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাকৃতিক পেসমেকার (Pacemaker) হিসেবে পরিচিত।
যদি মানবদেহে 'G' অর্থাৎ SAN অকেজো হয়ে পড়ে, তবে হৃদস্পন্দনের ছন্দপতন (অ্যারিদমিয়া) ঘটে এবং পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহের অভাবে জীবন বিপন্ন হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এর সফল চিকিৎসা সম্ভব:
১. কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপন: প্রাকৃতিক পেসমেকার কাজ না করলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বুকে বা পেটের ত্বকের নিচে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা 'কৃত্রিম পেসমেকার' স্থাপন করা হয়।
২. গঠন ও কার্যপদ্ধতি: এই কৃত্রিম পেসমেকারে একটি লিথিয়াম ব্যাটারি, কম্পিউটারাইজড জেনারেটর এবং সংবেদনশীল সেন্সরযুক্ত ইলেকট্রোড বা তার থাকে। ইলেকট্রোডগুলো শিরার মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের প্রাচীরের সাথে যুক্ত থাকে।
৩. হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ: হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গ বন্ধ হলে বা কমে গেলে কৃত্রিম পেসমেকারটি বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠিয়ে মায়োকার্ডিয়ামে নিয়মিত সংকোচন-প্রসারণ ঘটায়, ফলে স্বাভাবিক হৃদস্পন্দন ও রক্ত সংবহন বজায় থাকে।অতএব, উপযুক্ত সময়ে কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপনের মাধ্যমে 'G' অকেজো হলেও মানুষ স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও