পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • চট্টগ্রাম কলেজ • চট্টগ্রাম কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই কৃতিত্ব সারা দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের। কিন্তু এই কৃষকরা বাজারে পণ্যের ন্যায্য দাম পায় না। অথচ মধ্য-স্বত্বভোগকারীরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই লাভরান হয়। প্রকৃতপক্ষে কৃষকরা লাভবান না হলে কৃষির অব্যাহত উন্নয়ন ধরে রাখা সম্ভব না।
- ক)(1)
তথ্য অধিকার কী?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কৃষকরা কী ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
কৃষকদের উক্ত অধিকার রক্ষায় কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনগণের পক্ষ থেকে সরকারি বা বেসরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য জানার সুযোগ বা অধিকারকে তথ্য অধিকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সংবিধানে স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত আবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধাকে মৌলিক অধিকার বলা হয়। এই অধিকারগুলো রাষ্ট্র দ্বারা নিশ্চিত করা হয় এবং এগুলো আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে নাগরিক আদালতের আশ্রয় নিতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কৃষকরা 'অর্থনৈতিক অধিকার' থেকে বঞ্চিত।
অর্থনৈতিক অধিকার বলতে এমন সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায় যা নাগরিকের জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ন্যায্য পারিশ্রমিক বা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত হলে একজন ব্যক্তি তার শ্রম ও মেধার যথাযথ মূল্যায়ন পায় এবং উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, খাদ্য উৎপাদনে কৃষকরা অসামান্য অবদান রাখা সত্ত্বেও বাজারে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পায় না। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীরা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে। এর ফলে কৃষকরা তাদের শ্রমের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা মূলত অর্থনৈতিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষায় এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নিম্নোক্ত বহুমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস: কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর জন্য সমবায় বাজার বা কৃষক বাজার গড়ে তুলতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ হয়।
২. সরকারি ক্রয় কেন্দ্র ও সরাসরি সংগ্রহ: সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও অন্যান্য শস্য নির্ধারিত সহায়ক মূল্যে ক্রয় করার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. সংরক্ষণাগার ও হিমাগার স্থাপন: কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার ও আধুনিক গুদাম নির্মাণ করতে হবে, যাতে কৃষকরা মৌসুমে বাধ্য হয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি না করে।
৪. সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও ভর্তুকি: কৃষকদের মহাজন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ঋণের ফাঁদ থেকে মুক্ত রাখতে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে প্রাতিষ্ঠানিক কৃষিঋণ দিতে হবে এবং সার ও বীজে পর্যাপ্ত ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে।
৫. বাজার পর্যবেক্ষণ ও আইন প্রয়োগ: সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম মূল্যহ্রাস রোধে বাজার মনিটরিং এবং কৃষি বিপণন আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।
সুতরাং, উপর্যুক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকদের অর্থনৈতিক অধিকার সংরক্ষণ এবং কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও