বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নানা: আমার বন্ধু বিদ্যানন্দ এ বিখ্যাত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সমাজের অনেকেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে তখন ভালো চোখে দেখেননি; সহযোগিতাও করেননি। তবে তিনি দমে যাননি, তিলে তিলে গড়ে তোলেন এ বিদ্যালয়টি। কিন্তু সুনামের সবটুকু সম্মান তাঁর কপালে জুটলো না ।নাতি: তিনি কোথায়?নানা: তিনি নেই। অথচ তাঁর কর্ম পথ পেয়েছে, তাঁরই অবর্তমানে আমাদের মাঝে ।নাতি: কী নিষ্ঠুর পৃথিবীর নিয়ম!
- ক)(1)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা?
- খ)(2)
“কুলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা” - কবির এমন অনুভূতির কারণ কী?
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিদ্যানন্দ “সোনার তরী' কবিতার কার সাথে, কীভাবে সম্পর্কিত?
- ঘ)(4)
“তাঁর কর্ম পথ পেয়েছে, তাঁরই অবর্তমানে আমাদের মাঝে” - উদ্দীপকের এ উক্তির আলোকে 'সোনার তরী' কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বিশ্বভারতী’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চারপাশের প্রতিকূল পরিবেশ এবং চরম অনিশ্চয়তায় একাকী নিঃসঙ্গ অবস্থার কারণে কবির মনে এমন অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল।
‘সোনার তরী’ কবিতায় রূপকার্থে কবি বর্ষার খরস্রোতা নদীর নিঃসঙ্গ দ্বীপে তাঁর সারাজীবনের সোনার ধান (সৃষ্টিকর্ম) নিয়ে নৌকার প্রতীক্ষায় একা বসে ছিলেন। ক্ষুরধারা নদী এবং চারপাশের ঘন মেঘ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে কৃষক তথা কবি নিজেকে সম্পূর্ণ একা ও অসহায় অনুভব করেন। সৃষ্টিকর্ম রক্ষা পেলেও ব্যক্তির নশ্বর অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে কি না, সেই অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা থেকেই কবি বলেছেন— “কুলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা”।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিদ্যানন্দ ‘সোনার তরী’ কবিতার রূপক চরিত্র ‘কৃষক’-এর সাথে তাঁর সৃষ্টির অবমূল্যায়ন ও ব্যক্তি-অস্তিত্বের বিলুপ্তির দিক থেকে সম্পর্কিত।
‘সোনার তরী’ কবিতায় একজন কৃষক কঠোর পরিশ্রমে ফসল ফলিয়ে সোনার তরীতে তা তুলে দেন। তরীটি সেই সোনার ধান বহন করে নিয়ে গেলেও কৃষকের নিজের স্থান সেখানে সংকুলান হয় না। তরী তাঁর ফসল নিয়ে চলে যায়, আর কৃষক শূন্য তীরে একা পড়ে থাকেন।
উদ্দীপকের বিদ্যানন্দও বহু কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে একটি বিখ্যাত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয়টি সুনাম ও প্রতিষ্ঠা পেলেও বিদ্যানন্দ নিজে সমাজ থেকে কোনো সম্মান পাননি এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কর্ম বেঁচে থাকলেও তিনি বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যান। মহৎ কর্মের অমরতা ও ব্যক্তিমানুষের এই হারিয়ে যাওয়ার ট্র্যাজেডির দিক দিয়েই বিদ্যানন্দ ‘সোনার তরী’ কবিতার নিঃসঙ্গ কৃষকের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“তাঁর কর্ম পথ পেয়েছে, তাঁরই অবর্তমানে আমাদের মাঝে”—উদ্দীপকের এই উক্তিটি ‘সোনার তরী’ কবিতার অন্তর্নিহিত মূলভাব অর্থাৎ ‘সৃষ্টি অবিনশ্বর কিন্তু স্রষ্টা নশ্বর’—এই সত্যকে চমৎকারভাবে ধারণ করে।
‘সোনার তরী’ কবিতার মূল ভাবসত্য হলো মহাকালের অনন্ত স্রোতে মানুষের শিল্প ও সৃষ্টি টিকে থাকে, কিন্তু নশ্বর স্রষ্টাকে মহাকালের নির্মম নিয়মে বিদায় নিতে হয়। কবিতায় কৃষক নদীর তীরে সোনার ধান ফলিয়ে তা সোনার তরীতে সঁপে দেন। সোনার তরী সেই ফসল বা সৃষ্টিকে সানন্দে গ্রহণ করে মহাকালের পথে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, কিন্তু ব্যক্তি-কৃষকের স্থান সেখানে হয় না; তাকে শূন্য নদীর তীরে একা পড়ে থেকে বিলীন হতে হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, বিদ্যানন্দ নিজের শ্রম ও সাধনায় একটি বিখ্যাত বিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন। আজ তিনি ইহজগতে নেই, তাঁর ব্যক্তিগত অস্তিত্ব মুছে গেছে, কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্ম এখনও পথ পেয়ে টিকে আছে এবং আলো ছড়াচ্ছে।
অতএব, ব্যক্তিমানুষ মরণশীল হলেও তাঁর মহৎ সৃষ্টি চিরন্তন—সোনার তরী কবিতার এই দার্শনিক সত্যটিই উদ্দীপকের উল্লিখিত উক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও