ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলার ইতিহাসে সংসারত্যাগী সাধক মানুষের বসবাস দীর্ঘদিনের। হিন্দু, মুসলিম দুই সম্প্রদায়েই এ ধরনের মানুষ দেখা যায়। এক সময় তারা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলে।
- ক)(1)
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কবে বাংলার দেওয়ানি লাভ করে?
- খ)(2)
দ্বৈতশাসন কী? সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর, 'এই আন্দোলন পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ প্রদর্শক?'- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে বাংলার দেওয়ানি লাভ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৭৬৫ সালে লর্ড ক্লাইভ কর্তৃক প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে দ্বৈতশাসন বলা হয়। এই ব্যবস্থার ফলে কোম্পানির হাতে ছিল দায়িত্বহীন ক্ষমতা (রাজস্ব আদায় ও সামরিক প্রতিরক্ষা বা দেওয়ানি) এবং নবাবের হাতে ছিল ক্ষমতাহীন দায়িত্ব (প্রশাসন পরিচালনা ও বিচারকার্য বা নিজামত)। এতে একই সাথে দুজন শাসকের উপস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলার সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর থেকেই বাংলার ওপর চরম অর্থনৈতিক শোষণ, অতিরিক্ত কর আরোপ এবং জমিদারি দখলের প্রক্রিয়া শুরু করে। বাংলার চিরাচরিত সংসারত্যাগী মুসলিম ফকির এবং হিন্দু সন্ন্যাসীরা ধর্মীয় তীর্থভ্রমণ ও ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনযাপন করতেন। কোম্পানি সরকার তাঁদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তীর্থকর ধার্য করে। এর ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে মজনু শাহ এবং ভবানী পাঠকের নেতৃত্বে ফকির ও সন্ন্যাসীরা অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে (১৭৬০-১৮০০ খ্রি.) ব্রিটিশ শাসন ও তাদের দোসর দেশীয় জমিদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ গড়ে তোলেন। উদ্দীপকের সংসারত্যাগী সাধক মানুষদের সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়টি সরাসরি ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন পরবর্তী ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথপ্রদর্শক ছিল।
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে বাংলা তথা ভারতবর্ষে প্রথম যে ধারাবাহিক সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, তা হলো ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ। এই আন্দোলনের তাৎপর্য নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ: কোম্পানি শাসনের তীব্র শোষণ, তীর্থকর আরোপ ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে এই সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষেরাই প্রথম গর্জে উঠেছিল।
২. হিন্দু-মুসলিম ঐক্য: ফকির ও সন্ন্যাসীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী একটি অভিন্ন সংগ্রামের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, যা ভবিষ্যতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনগুলোর প্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।
৩. গেরিলা কৌশলের শিক্ষা: আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত কোম্পানির সুপ্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ও গেরিলা আক্রমণ পদ্ধতি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন টিকে থাকার কৌশল এই আন্দোলন থেকেই শুরু হয়।
৪. পরবর্তী আন্দোলনের অনুপ্রেরণা: ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ পরবর্তী তিতুমীরের আন্দোলন, ফরায়েজী আন্দোলন, সাঁওতাল বিদ্রোহ এমনকি ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।অতএব, সীমিত সম্পদ নিয়েও যে ঔপনিবেশিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়, ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন সেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছিল বলেই একে পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথপ্রদর্শক বলা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও