জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রস্বেদন কী?

    (1)
  2. খ)

    TCA চক্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক M এ প্রদর্শিত প্রক্রিয়ার আধুনিক মতবাদ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক 'N' প্রদর্শিত অঙ্গ খোলা ও বন্ধ হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ (প্রধানত পাতা) থেকে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বাইরে নির্গত হয়, তাকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন (Transpiration) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    TCA চক্রের পূর্ণরূপ হলো ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র (Tricarboxylic Acid Cycle), যা ক্রেবস চক্র (Krebs cycle) নামেও পরিচিত।

    সবাত শ্বসনের এই ধাপে পাইরুভিক অ্যাসিড থেকে উৎপন্ন অ্যাসিটাইল Co-A বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে জারিত হয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড, ATP এবং বিজারিত কো-এনজাইম (NADH + H⁺, FADH₂) উৎপন্ন করে। এই চক্রে উৎপন্ন প্রথম যৌগটি হলো সাইট্রিক অ্যাসিড, যাতে তিনটি কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) উপস্থিত থাকে। এজন্য একে ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র বা TCA চক্র বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'M'-এ কোষঝিল্লি ভেদ করে কোষের বাইরে থেকে ভেতরে খনিজ লবণ প্রবেশ বা লবণ পরিশোষণ প্রক্রিয়া প্রদর্শিত হয়েছে। সক্রিয় লবণ পরিশোষণের আধুনিক ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদটি হলো পিটার মিচেল (Peter Mitchell)-এর প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট বা কেমিঅসমোটিক মতবাদ (Chemiosmotic model)।

    এ মতবাদ অনুযায়ী পরিশোষণ প্রক্রিয়াটি নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. প্রোটন পাম্পের সক্রিয়তা: কোষঝিল্লিতে অবস্থিত একটি প্রোটন পাম্প (H⁺-ATPase) কোষের ভেতরের ATP ভেঙে শক্তি ব্যবহার করে ভেতরের H⁺ আয়নকে বাইরের দ্রবণে পাম্প করে দেয়।
    ২. প্রোটন মোটিভ ফোর্স সৃষ্টি: এর ফলে ঝিল্লির বাইরের দিকে ধনাত্মক চার্জ এবং প্রোটনের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়, যার ফলে একটি বৈদ্যুতিক বিভব পার্থক্য ও pH নতিমাত্রা তৈরি হয়। একে সামগ্রিকভাবে প্রোটন মোটিভ ফোর্স (Proton Motive Force) বলা হয়।
    ৩. ক্যাটায়নের প্রবেশ: বাইরের ধন্যাত্মক চার্জের আধিক্য ও ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল নতিমাত্রার কারণে বাইরের ক্যাটায়নসমূহ (যেমন: K⁺) কোষঝিল্লির নির্দিষ্ট চ্যানেল বা বাহক প্রোটিনের মাধ্যমে খুব সহজেই কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।
    ৪. অ্যানায়নের প্রবেশ (কো-ট্রান্সপোর্ট): উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান (বাহির) থেকে H⁺ আয়ন যখন নতিমাত্রার অনুকূলে পুনরায় কোষে প্রবেশ করতে চায়, তখন তার সাথে একটি করে অ্যানায়ন (যেমন: Cl⁻ বা NO₃⁻) সহ-পরিবহণ বা সিম্পোর্ট (Symport) প্রক্রিয়ায় কোষের ভেতরে প্রবেশ করে।

    এভাবে বিপাকীয় শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষে খনিজ লবণের অ্যানায়ন ও ক্যাটায়ন পরিশোষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'N'-এ প্রদর্শিত অঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র (Stoma)। এটি দুটি অর্ধচন্দ্রাকার রক্ষীকোষ (Guard cells) দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। রক্ষীকোষের স্ফীতি ও সংকোচনই পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আধুনিক প্রোটন প্রবাহ মতবাদ (Proton Flow Hypothesis - Levitt, 1974) অনুযায়ী এর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পত্ররন্ধ্র খোলা হওয়ার কারণ:

    • দিনের বেলা আলোর উপস্থিতিতে রক্ষীকোষে সালোকসংশ্লেষণ ঘটে এবং নীল আলো রক্ষীকোষের প্লাজমামেমব্রেনের প্রোটন পাম্পকে সক্রিয় করে।
    • ফলে রক্ষীকোষ থেকে H⁺ আয়ন সক্রিয়ভাবে পার্শ্ববর্তী সহকারী কোষে বের হয়ে যায়।
    • এর সমতা রক্ষার্থে সহকারী কোষ থেকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আয়ন (K⁺) এবং ক্লোরাইড আয়ন (Cl⁻) রক্ষীকোষের ভেতর প্রবেশ করে।
    • রক্ষীকোষে K⁺ ও ম্যালেট আয়নের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ (Osmotic pressure) বৃদ্ধি পায়।
    • পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষে পানি প্রবেশ করায় রক্ষীকোষ স্ফীত (turgid) হয়। রক্ষীকোষের ভেতরের প্রাচীর পুরু এবং বাইরের প্রাচীর পাতলা ও স্থিতিস্থাপক হওয়ায় বাইরের প্রাচীর প্রসারিত হয়ে ভেতরের প্রাচীরকে টেনে ধরে, ফলে পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়।

    ২. পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়ার কারণ:

    • আলো অপসারিত হলে বা অন্ধকারের শুরুতে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায় এবং কোষের প্রোটন পাম্প নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
    • উদ্ভিদে অ্যাবসিসিক অ্যাসিড (ABA) হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা K⁺ আয়নকে রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে।
    • ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ কমে যায় এবং বহিঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি রক্ষীকোষ থেকে পার্শ্ববর্তী কোষে চলে যায়।
    • পানি হারানোর ফলে রক্ষীকোষ দুটি শিথিল (flaccid) হয়ে তাদের পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে এবং পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়।

    সুতরাং, রক্ষীকোষে পানির অন্তঃঅভিস্রবণ ও বহিঃঅভিস্রবণের কারণে সৃষ্ট স্ফীতি ও শিথিলতাই পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার মূল কারণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন