জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • কোষ রসায়ন • Combined Board • যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
রমজান মাসে ইফতারে সবাই চিনির সরবত ও তেলেভাজা নানা ধরনের মুখরোচক খাবার খেতে পছন্দ করে ।
- ক)(1)
নিউক্লিওটাইড কাকে বলে?
- খ)(2)
লাইসোজোমকে আত্মঘাতি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
সরবতে মিষ্টি প্রদানকারী উপাদানের রাসায়নিক গঠন লেখো ।
- ঘ)(4)
মুখরোচক খাবার তৈরিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানটির মানবদেহে ক্ষতিকারক দিক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক অণু পেন্টোজ শ্যুগার, এক অণু নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক এবং এক অণু অজৈব ফসফেট সমন্বয়ে গঠিত জৈব যৌগকে নিউক্লিওটাইড বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা (Suicidal bag) বলা হয়, কারণ এতে প্রায় ৪০-৫০ ধরনের তীব্র আর্দ্রবিশ্লেষী বা হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে। সাধারণ অবস্থায় একটি ঝিল্লি দ্বারা এনজাইমগুলো আবৃত থাকে। কিন্তু তীব্র খাদ্যাভাব, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা অক্সিজেনের অভাবে এর ঝিল্লি ফেটে যায় এবং এনজাইমগুলো মুক্ত হয়ে কোষের ভেতরের অঙ্গাণুগুলোকে পরিপাক করে সম্পূর্ণ কোষটিকেই ধ্বংস করে দেয় (অটোলাইসিস)। এই কারণে লাইসোজোমকে আত্মঘাতী বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে চিনির সরবতে মিষ্টি প্রদানকারী মূল উপাদানটি হলো সুক্রোজ (C12H22O11), যা একটি ডাইস্যাকারাইড। এটি এক অণু α-D-গ্লুকোজ এবং এক অণু β-D-ফ্রুক্টোজের সমন্বয়ে গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
রাসায়নিক গঠন:
সুক্রোজ গঠনের সময় α-D-গ্লুকোজের ১ নম্বর কার্বনের হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রুপ এবং β-D-ফ্রুক্টোজের ২ নম্বর কার্বনের হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রুপের মধ্যে ঘনীভবন বিক্রিয়ায় এক অণু পানি (H2O) অপসারিত হয় এবং α-1,2-গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন গঠিত হয়।গঠন বিন্যাস:
α-D-গ্লুকোজ + β-D-ফ্রুক্টোজ → সুক্রোজ + H2O
সুক্রোজে গ্লুকোজের মুক্ত অ্যালডিহাইড গ্রুপ এবং ফ্রুক্টোজের কিটোন গ্রুপ গ্লাইকোসাইডিক বন্ধনে যুক্ত থাকায় কোনো মুক্ত বিজারক গ্রুপ অবশিষ্ট থাকে না। ফলে সুক্রোজ একটি অবিজারক শর্করা (non-reducing sugar)। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুখরোচক খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উদ্দীপকের উপাদানটি হলো তেল বা চর্বি (লিপিড)। তেলে ভাজা খাবার অধিক পরিমাণে গ্রহণ মানবদেহের জন্য বিভিন্নভাবে ক্ষতিকর:
১. স্থূলতা বা মেদবহুলতা: তেলে ভাজা খাবার উচ্চ ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় শরীরে অতিরিক্ত চর্বি হিসেবে জমা হয়, যা স্থূলতা তৈরি করে।
২. হৃদরোগ ও এথেরোস্ক্লেরোসিস: ভোজ্য তেল অতিরিক্ত উত্তপ্ত করলে এতে ট্রান্স ফ্যাট এবং সম্পৃক্ত চর্বি তৈরি হয়, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বৃদ্ধি করে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) কমায়। এর ফলে রক্তনালির প্রাচীরে প্লাক জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় (এথেরোস্ক্লেরোসিস), যা উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়।
৩. পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা: তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি এবং আলসারের মতো রোগ সৃষ্টি করে।
৪. লিভারের ক্ষতি: অতিরিক্ত তেল-চর্বি গ্রহণের ফলে যকৃতে চর্বি জমে ফ্যাটি লিভার সৃষ্টি হতে পারে, যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।
৫. ক্যান্সারের ঝুঁকি: তেল বারবার উচ্চ তাপমাত্রায় ফুটালে তাতে এক্রাইলামাইডসহ বিভিন্ন কার্সিনোজেনিক উপাদান তৈরি হয়, যা মানবদেহে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।অতএব, তেলে ভাজা খাবার অতিরিক্ত গ্রহণ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও