ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
পিতার মৃত্যুর পর গৃহশিক্ষক আসিফের তত্ত্বাবধানে নাবালক মুর্তজা সিংহাসনে বসেন। কিন্তু অল্প দিনেই আসিফ লোভী ও ক্ষমতালিপ্স হয়ে উঠলে তাকে গুপ্তচর মারফৎ হত্যা করে মুর্তজা নিজ হাতে পরিপূর্ণ। ক্ষমতা গ্রহণ করেন। মুর্তজা তার রাজ্যে প্রশাসনিক কাজকর্ম রাতে করার সিদ্ধান্ত নেন। দোকানপাট, স্কুল মাদ্রাসাসহ সকল প্রতিষ্ঠান। রাতে খোলা রাখার নির্দেশ দেন। আর দিনে সকলকে আরাম করতে বলেন। নির্জন গৃহে তিনি একাকী থাকতে পছন্দ করতেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় ও জনকল্যাণে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন।
- ক)(1)
জওহর কে ছিলেন?
- খ)(2)
'আল-কাহিরা' বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মুর্তজার ক্ষমতা গ্রহণের সাথে কোন ফাতেমি খলিফার ক্ষমতা গ্রহণের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মুর্তজার মতোই উক্ত খলিফাও বিচিত্র সব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন— উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জওহর ছিলেন ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের একজন সুযোগ্য সেনাপতি, যিনি মিশর বিজয় করে কায়রো নগরী ও আল-আজহার মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আল-কাহিরা' অর্থ 'বিজয়িনী'। সেনাপতি জওহর ৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে ফাতেমি খলিফা আল-মুইজের নির্দেশে মিশরে একটি নতুন নগরীর ভিত্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল-মুইজ এই নগরীর নামকরণ করেন 'আল-কাহিরা' (বর্তমান কায়রো)। এই নগরী ফাতেমি খিলাফতের রাজধানী এবং জ্ঞানবিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মুর্তজার ক্ষমতা গ্রহণের সাথে ফাতেমি খলিফা আল-হাকিমের ক্ষমতা গ্রহণের সাদৃশ্য রয়েছে।
ফাতেমি খলিফা আল-আজিজের মৃত্যুর পর মাত্র এগারো বছর বয়সে তাঁর পুত্র আল-হাকিম সিংহাসনে বসেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁর গৃহশিক্ষক ও অভিভাবক বারজাওয়ান রাষ্ট্রের যাবতীয় ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করেন। বারজাওয়ান ক্রমে উদ্ধত, বিলাসী ও ক্ষমতালিপ্সু হয়ে ওঠলে খলিফা আল-হাকিম তাঁকে গুপ্তঘাতক দিয়ে হত্যা করেন এবং সম্পূর্ণ শাসনক্ষমতা নিজের হাতে গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, নাবালক মুর্তজা তাঁর গৃহশিক্ষক আসিফের তত্ত্বাবধানে সিংহাসনে বসেন। আসিফ লোভী ও ক্ষমতালিপ্সু হয়ে ওঠায় মুর্তজা তাকে গুপ্তচর মারফত হত্যা করে নিজের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা নেন। খলিফা আল-হাকিমও একইভাবে বারজাওয়ানকে হত্যা করে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন। তাই উভয়ের ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মুর্তজার মতোই ফাতেমি খলিফা আল-হাকিম বিচিত্র ও খামখেয়ালি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন— উক্তিটি যথার্থ।
খলিফা আল-হাকিম ছিলেন এক রহস্যময় ও খেয়ালি চরিত্রের শাসক। তিনি এমন কিছু বৈচিত্র্যময় ও অদ্ভুত আদেশ জারি করেছিলেন যা জনজীবনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। তিনি রাতে কাজকর্ম ও দোকানপাট খোলা রাখার এবং দিনে ঘুমানোর নির্দেশ জারি করেছিলেন। এছাড়াও তিনি নারীদের বাইরে বের হওয়া নিষিদ্ধ করেন এবং জুতো নির্মাতাদের নারীদের জুতো তৈরি করতে নিষেধ করেন। তিনি কুকুর হত্যা, নির্দিষ্ট কিছু শাকসবজি ও মাছ খাওয়া নিষিদ্ধকরণসহ বহু আজব আইন জারি করেন। তিনি নির্জনতা পছন্দ করতেন এবং গাধার পিঠে চড়ে একাকী ঘুরে বেড়াতেন। এসব কারণে অনেক ঐতিহাসিক তাঁকে 'উন্মাদ খলিফা' বলেও আখ্যায়িত করেছেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি 'দারুল হিকমাহ' প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও জনকল্যাণেও অনন্য ভূমিকা রাখেন।
উদ্দীপকের মুর্তজাও রাতে প্রশাসনিক কাজকর্ম, দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা এবং দিনে বিশ্রামের নির্দেশ দেন, নির্জন গৃহে একাকী থাকতে পছন্দ করতেন এবং জ্ঞানচর্চায় অবদান রাখেন। খলিফা আল-হাকিমের বিচিত্র কার্যকলাপের সাথে মুর্তজার কর্মকাণ্ডের হুবহু মিল রয়েছে। সুতরাং, বলা যায় উক্ত উক্তিটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও