সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

নাসরিন সুলতানা একসময় বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরেছেন ১০ বছর হলো। এলাকার জনগণের ভালবাসায় তিনি আজ ইউনিয়নের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু পরিবার ও বিভিন্ন মহল থেকে তিনি পুরোপুরি সমর্থন পাচ্ছেন না। অপরদিকে অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত নারীদের দুরবস্থাও তাকে বিচলিত করে। তাই তিনি তাদেরকে নিয়ে কিছু উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা করেন।

  1. ক)

    প্রেক্ষিত পরিকল্পনা কত বছর মেয়াদী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত শ্রেণির জন্য যে সামাজিক নীতি প্রযোজ্য তার বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    নাসরিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা হতে পারে তা সমাধানের উপায় বের করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রেক্ষিত পরিকল্পনা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী অর্থাৎ ১৫ থেকে ২০ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক নীতি হলো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন, সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে রাষ্ট্র বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গৃহীত সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা, নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা। এটি মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে পরিচালিত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত শ্রেণির নারীদের দুরবস্থা দূরীকরণের জন্য জাতীয় 'নারী উন্নয়ন নীতি' ও 'শিক্ষা নীতি' (বিশেষ করে বয়স্ক ও কারিগরি শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি) প্রযোজ্য।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির প্রধান লক্ষ্য হলো নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এ নীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
    ১. শিক্ষাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি: অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত নারীদের জন্য সাক্ষরতা কর্মসূচি, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার বিস্তার।
    ২. দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: নারীদের হস্তশিল্প, সেলাই, কুটির শিল্প ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
    ৩. অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন: প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের জন্য সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
    ৪. অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা: সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য ও শোষণ দূর করে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নাসরিন সুলতানা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে গেলে পরিবার, সমাজ ও প্রভাবশালী মহলের রক্ষণশীল মনোভাব ও অসহযোগিতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। এসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পরিবার ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি: নাসরিনকে প্রথমে তার কাজের উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সুফল সম্পর্কে পরিবার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়তা করবে।
    ২. অংশগ্রহণমূলক কর্মপদ্ধতি গ্রহণ: সমাজকর্মের দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়ে স্থানীয় জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা কাজটিকে নিজেদের উন্নয়ন হিসেবে গ্রহণ করে।
    ৩. ইউনিয়ন পরিষদের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, অন্যান্য সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় রেখে পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে নারীদের প্রকল্পগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
    ৪. স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিওর সাথে সংযোগ স্থাপন: স্থানীয় প্রশাসন (উপজেলা প্রশাসন), সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং এনজিওগুলোর সহায়তা নিয়ে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত রিসোর্স সংগ্রহ করা যেতে পারে।
    ৫. নারীদের উদ্বুদ্ধকরণ ও ক্ষমতায়ন: সুবিধাভোগী নারীদের সংগঠিত করে ছোট ছোট স্বনির্ভর দল গঠন করা, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেতন হতে পারে।

    পরিশেষে, ধৈর্য, কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বিত সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই নাসরিন সুলতানা সকল প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তার উন্নয়ন পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন