‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

গ্রামের দুস্থ মহিলারা সমিতি গঠন করে আয় বর্ধনমূলক কাজের জন্য সরকার অনুমোদিত বিদেশি সাহায্যনির্ভর প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে । সমিতির সদস্যগণ নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিয়ে সঞ্চয় তহবিল গঠন করে। এরকম প্রতিষ্ঠানের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে A দেশের অনেক এলাকার জনগণ শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়নসহ অন্যান্য কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সচেতন হচ্ছে এবং নিজেদের উন্নয়নে সচেষ্ট হচ্ছে।

  1. ক)

    স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কী?

    (1)
  2. খ)

    সংগঠককে কেন উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির কর্মক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী গঠিত হয়ে সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে নিজস্ব নীতি ও পরিচালন পর্ষদের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়, সেগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ যথা—ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে একত্রিত করে সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় সাধন ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠক। শুধু উপকরণ থাকলেই উৎপাদন সম্ভব হয় না; ব্যবসা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, ঝুঁকি গ্রহণ এবং অনিশ্চয়তা মোকাবিলার কাজ সংগঠককেই করতে হয়। সংগঠনের সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া উৎপাদনের চাকা সচল রাখা সম্ভব নয় বলেই সংগঠককে উৎপাদনের প্রধান চালিকাশক্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার অনুমোদিত এবং বিদেশি সাহায্যনির্ভর প্রতিষ্ঠানটি মূলত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও (NGO)। উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির কর্মক্ষেত্রগুলো নিম্নরূপ:

    ১. ক্ষুদ্রঋণ ও সঞ্চয় কার্যক্রম: গ্রামীণ দুস্থ মহিলাদের সংগঠিত করে সমিতি তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান এবং সঞ্চয় তহবিল গঠনের মাধ্যমে মূলধন সৃষ্টি করা।
    ২. আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ড: মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প, সেলাই প্রভৃতি আয়বর্ধক কাজে সহায়তা প্রদান।
    ৩. শিক্ষা ও জনসচেতনতা: অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান এবং জনগণের মধ্যে নানা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
    ৪. জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি: নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সেবা প্রদান।
    ৫. সামাজিক উন্নয়ন: গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক সামাজিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত এনজিও বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে আসছে।

    ভূমিকা বিশ্লেষণ:
    ১. ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম: প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকগুলো জামানত ছাড়া ঋণ না দিলেও এনজিওগুলো গ্রামীণ দরিদ্র মানুষদের জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ দেয়। এই ঋণ দিয়ে তারা গবাদিপশু পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, মৎস্য চাষ ও কৃষিকাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে, যা সরাসরি দারিদ্র্য দূরীকরণে সাহায্য করছে।
    ২. কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান: এনজিওগুলো বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকার জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তোলে এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের দুস্থ মহিলাদের মতো লাখ লাখ মানুষ আজ স্বনির্ভর।
    ৩. নারীর ক্ষমতায়ন: বাংলাদেশে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল স্রোতে নিয়ে আসার পেছনে এনজিওগুলোর ভূমিকা অগ্রগণ্য। নারীদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবারে দারিদ্র্য হ্রাস পাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মান বাড়ছে।
    ৪. স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন করে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক।

    সুতরাং, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন