জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপকের চিত্রগুলো লক্ষ করো:

  1. ক)

    গাঁজন কী?

    (1)
  2. খ)

    লিমিটিং ফ্যাক্টর বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত S এর খোলা ও বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে একটি আধুনিক মতবাদ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে R দ্বারা নির্দেশিত পাতার পানি নির্গমন অঙ্গের সাথে S অঙ্গের তুলনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে অবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় অণুজীবের (যেমন— ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া) নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে জটিল শর্করা বা জৈব যৌগ আংশিক জারিত হয়ে অ্যালকোহল বা জৈব এসিড ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি করে এবং সামান্য শক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন (Fermentation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যখন কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তখন যে প্রভাবকটির পরিমাণ সবচেয়ে কম বা সর্বাপেক্ষা ধীরগতিতে কার্যক্ষম থাকে এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়ার গতি নির্ধারণ করে, তাকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (Limiting factor) বা সীমাস্থ প্রভাবক বলে। ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী এফ. এফ. ব্ল্যাকম্যান তাঁর 'Law of Limiting Factors' এ এটি ব্যক্ত করেন। উদাহরণস্বরূপ, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য আলো, তাপমাত্রা, কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রভৃতির প্রয়োজন হয়; এদের মধ্যে যেটির পরিমাণ কাম্য মাত্রার চেয়ে সর্বাপেক্ষা কম থাকে, সালোকসংশ্লেষণের গতি মূলত সেই প্রভাবক দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত ও সীমাবদ্ধ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদর্শিত 'S' চিত্রটি হলো উদ্ভিদের পত্ররন্ধ্র (Stoma)। পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার আধুনিক ও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদটি হলো বিজ্ঞানী লেভিট (Levitt, 1974) প্রবর্তিত 'প্রোটন প্রবাহ বা আয়ন পরিবহন মতবাদ' (Proton transport hypothesis)। পরবর্তীতে এটি বোম্যান (Bowman, 1981) কর্তৃক আরও সমর্থিত ও বিস্তৃত হয়।

    ১. পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হওয়া:

    • দিনের বেলায় নীল আলোর উপস্থিতিতে রক্ষীকোষের প্লাজমামেমব্রেনে থাকা প্রোটন পাম্প সক্রিয় হয়।
    • এটি রক্ষীকোষ থেকে সক্রিয়ভাবে হাইড্রোজেন আয়নকে (H+H^+) সহকারী বা পার্শ্ববর্তী কোষে বের করে দেয়।
    • ফলে রক্ষীকোষের অভ্যন্তরে ঋণাত্মক আধান সৃষ্টি হয় এবং তা প্রশমিত করতে পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে পটাশিয়াম আয়ন (K+K^+) ও ক্লোরাইড আয়ন (Cl−Cl^-) রক্ষীকোষে প্রবেশ করে।
    • রক্ষীকোষে K+K^+ এর ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিস্রবণিক চাপ (osmotic pressure) বেড়ে যায়।
    • পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় রক্ষীকোষে জল প্রবেশ করে। ফলে রক্ষীকোষদ্বয় স্ফীত হয় এবং তাদের স্থিতিস্থাপকতার পার্থক্যের কারণে বহিঃপ্রাচীর বাইরের দিকে প্রসারিত হয়ে রন্ধ্রটি উন্মুক্ত হয়।

    ২. পত্ররন্ধ্র বন্ধ হওয়া:

    • রাতের বেলায় বা আলোর অনুপস্থিতিতে প্রোটন পাম্প নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
    • রক্ষীকোষ থেকে K+K^+ ও Cl−Cl^- আয়ন বাইরে নিষ্ক্রান্ত হয়।
    • রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ হ্রাস পায় এবং বহিঃঅভিস্রবণের মাধ্যমে পানি রক্ষীকোষ থেকে বের হয়ে যায়।
    • রক্ষীকোষ শিথিল বা শ্লথ (flaccid) হয়ে পড়ে এবং এর ফলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে অ্যাবসিসিক এসিডের (ABA) প্রভাবেও প্রোটন পাম্প বাধাগ্রস্ত হয়ে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়।
  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'R' দ্বারা নির্দেশিত পানি নির্গমন অঙ্গ হলো পানি পত্ররন্ধ্র বা হাইড্রাথোড (Hydathode) এবং 'S' দ্বারা নির্দেশিত অঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র বা স্টোমাটা (Stomata)। নিচে এদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:

    ১. অবস্থান: হাইড্রাথোড প্রধানত পাতার কিনারার বা অগ্রভাগের শিরাপ্রান্তে অবস্থান করে (যেমন— কচু, টমেটো, ঘাস ইত্যাদি)। পক্ষান্তরে, পত্ররন্ধ্র পাতার ঊর্ধ্ব ও নিম্নত্বকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করে।

    ২. গঠন: হাইড্রাথোড একটি ক্ষুদ্র ছিদ্র, গহ্বর এবং এপিথেম (Epithem) নামক প্যারেনকাইমা কোষগুচ্ছ নিয়ে গঠিত। অপরদিকে, পত্ররন্ধ্র একজোড়া অর্ধচন্দ্রাকার রক্ষীকোষ ও সহকারী কোষ দ্বারা গঠিত।

    ৩. নির্গমন রূপ: হাইড্রাথোডের মাধ্যমে পানি তরল বিন্দু আকারে নির্গত হয়, যাকে গাটেশন (Guttation) বলে। অন্যদিকে, পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে পানি বাষ্পাকারে নির্গত হয় (প্রস্বেদন)।

    ৪. নির্গত পানির প্রকৃতি: হাইড্রাথোড থেকে নির্গত পানিতে বিভিন্ন অজৈব লবণ ও জৈব যৌগ দ্রবীভূত থাকে। পক্ষান্তরে, পত্ররন্ধ্র দিয়ে নির্গত পানি বিশুদ্ধ জলীয় বাষ্প।

    ৫. খোলা ও বন্ধের নিয়ন্ত্রণ: হাইড্রাথোড সবসময় উন্মুক্ত থাকে, এর খোলা বা বন্ধ হওয়া রক্ষীকোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। অন্যদিকে, পত্ররন্ধ্র রক্ষীকোষের স্ফীতি ও শিথিলতার ওপর নির্ভর করে নিয়মিত খোলা ও বন্ধ হয়।

    ৬. কার্যকাল ও কারণ: হাইড্রাথোড সাধারণত রাতে বা ভোরে এবং অতিরিক্ত আর্দ্র অবস্থায় মূলজ চাপের কারণে সক্রিয় হয়। অপরদিকে, পত্ররন্ধ্র প্রধানত দিনের আলোতে সূর্যের তাপে ও প্রস্বেদন টানের মাধ্যমে কার্যকর থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন