অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জামিলা খাতুন ও তার পরিবারের ৮ জন সদস্য মিলে ফুলদানি,কুুলা,ডালা,ঝাঁপি তৈরি ও বিক্রি করে। তার সল্প পুঁজি থাকায় সে ঋণের জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ও ব্যাংকে যোগাযোগ করে। জামানত দিতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলো তাকে ঋণ দেয় না। ফলে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়।
- ক)(1)
শিল্প কী ?
- খ)(2)
“পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল”- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি কোন ধরনের তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের উন্নয়নের জন্য তুমি কী কী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করো?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যাপক অর্থে, কাঁচামাল বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে অধিকতর উপযোগী চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করার অর্থনৈতিক কর্মপ্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল প্রাকৃতিক তন্তু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পাটের পণ্যের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পলিথিন ও কৃত্রিম প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বায়োডিগ্রেডেবল বা পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, যেমন—ব্যাগ, কার্পেট, জিওটেক্সটাইল ইত্যাদির ব্যাপক বাজার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ গুণগত মানের পাট উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় হওয়ায় আধুনিক বহুমুখী পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পটি হলো 'কুটির শিল্প'।
সাধারণত যে শিল্পে স্বল্প মূলধন নিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় কাঁচামাল দ্বারা হস্তচালিত বা সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে গৃহকোণে পণ্য উৎপাদিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জামিলা খাতুন তার পরিবারের ৮ জন সদস্যকে নিয়ে স্বল্প পুঁজিতে ফুলদানি, কুলা, ডালা, ঝাঁপি প্রভৃতি ঐতিহ্যবাহী দ্রব্য তৈরি ও বিক্রি করেন। এ ধরনের কাজে কোনো ভারী আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় না এবং উৎপাদন মূলত পারিবারিক শ্রম ও স্থানীয় উপাদানের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো কুটির শিল্পের অনন্য বৈশিষ্ট্য। অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি একটি আদর্শ কুটির শিল্প।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামিলা খাতুনের কুটির শিল্পের প্রধান সমস্যা হলো পুঁজির স্বল্পতা এবং জামানতের অভাবে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ না পাওয়া। এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য নিম্নোক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণের সুপারিশ করা যায়:
১. সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদান: কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক তহবিল গঠন করে জামানতবিহীন ও নামমাত্র সুদে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা: বিসিক (BSCIC) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহজ কিস্তিতে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে।
৩. আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান: পণ্যের মান বৃদ্ধি, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানোর জন্য কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
৪. কাঁচামালের সহজলভ্যতা: বাঁশ, বেত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ন্যায্যমূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. বাজারজাতকরণ ও প্রচার সুবিধা: দেশি-বিদেশি মেলা এবং ই-কমার্সের মাধ্যমে কুটির শিল্পের পণ্যের সম্প্রসারণ ও সরাসরি ক্রেতার কাছে বিক্রির প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা দরকার, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে।উপরে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে উদ্দীপকের কুটির শিল্পের আর্থিক সংকট দূর হবে এবং এ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও