ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
শফিক, আজিম ও রনি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একটি গৃহনির্মাণ ফার্ম গঠন করার পরিকল্পনা করে। তারা উক্ত ফার্মে প্রকৌশলী রফিকের সুনাম ব্যবহার করার জন্য তাকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। চুক্তি অনুযায়ী তিনি উক্ত ব্যবসায়ে মূলধন, শ্রম বা দক্ষতা কিছুই বিনিয়োগ করেন না কিন্তু মুনাফা ভোগ করেন এবং তিনি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দায় বহন করবেন। তিন বছর পর আজিম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। তার ১৫ বছর বয়সী সন্তান তামীমকে তারা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করে। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির দশ লক্ষ টাকা দায় সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও মূলধনসহ মোট দুই লক্ষ টাকা দায় মিটানো সম্ভব। অবশিষ্ট দায় মিটানোর জন্য শফিক ও রনি দুই লক্ষ টাকা করে চার লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং জনাব রফিক ও তামীমকে দুই লক্ষ টাকা করে প্রদান করার জন্য চিঠি দেন।
- ক)(1)
ঘুমন্ত অংশীদার কী?
- খ)(2)
চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়ের ধরন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে দায় মেটানোর জন্য রফিক ও তামীমকে প্রদত্ত চিঠির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদার ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করে, লাভ-লোকসানের অংশ গ্রহণ করে এবং দায় বহন করে, কিন্তু ব্যবসায়ের দৈনন্দিন পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে না, তাকে ঘুমন্ত অংশীদার (Sleeping or Dormant Partner) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অংশীদারি ব্যবসায় মূলত চুক্তির মাধ্যমেই সৃষ্টি ও পরিচালিত হয় বলে চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূলভিত্তি বলা হয়।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, চুক্তির ফলেই অংশীদারি সম্পর্ক তৈরি হয়, মর্যাদা বা পদমর্যাদার ভিত্তিতে নয়। অংশীদারদের অধিকার, দায়িত্ব, মুনাফা বণ্টনের হার, মূলধনের পরিমাণ এবং ব্যবসায় পরিচালনার যাবতীয় নিয়মাবলি চুক্তিতে নির্ধারণ করা থাকে। চুক্তির অবর্তমানে কোনো অংশীদারি ব্যবসায়ের অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। তাই চুক্তিকেই এর মূলভিত্তি বিবেচনা করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অংশীদারি ব্যবসায়টি একটি 'সীমিত অংশীদারি ব্যবসায়' (Limited Partnership)।
যে অংশীদারি ব্যবসায়ে অন্তত একজন অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ থাকে এবং অন্যূন একজন অংশীদারের দায় অসীম থাকে, তাকে সীমিত অংশীদারি ব্যবসায় বলে। এ ধরনের ব্যবসায়ে সীমিত অংশীদার চুক্তি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত দায় বহন করে।
উদ্দীপকে শফিক, আজিম ও রনি মিলে গৃহনির্মাণ ফার্ম গঠন করেন এবং প্রকৌশলী রফিককে অংশীদার হিসেবে নেন। চুক্তি অনুযায়ী রফিক মূলধন বা শ্রম না দিলেও মুনাফা পান এবং তার দায় সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থাৎ ব্যবসায়টিতে রফিকের দায় নির্দিষ্ট অঙ্কে সীমাবদ্ধ হওয়ায় এবং অন্যদের সাধারণ দায় থাকায় এটি একটি সীমিত অংশীদারি ব্যবসায় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবশিষ্ট দায় মেটানোর জন্য জনাব রফিক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক তামীমকে দুই লক্ষ টাকা করে প্রদানের চিঠি দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক ও আইনসঙ্গত নয়।
অংশীদারি আইনের বিধান মতে, কোনো অংশীদারের দায় যদি চুক্তি অনুযায়ী সীমিত থাকে, তবে তিনি সেই নির্ধারিত সীমার বাইরে এক টাকাও অতিরিক্ত দায় বহন করতে বাধ্য নন। অন্যদিকে, আইনের ৩০ ধারা অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো ব্যক্তি কখনোই সাধারণ অংশীদার হতে পারে না। তাকে কেবল অংশীদারদের সর্বসম্মত সম্মতিতে ব্যবসায়ের সুবিধার্থে লাভের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা যায়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কোনো ব্যক্তিগত দায় থাকে না; ব্যবসায়ে তার যতটুকু আর্থিক স্বার্থ বা শেয়ার রয়েছে কেবল সেটুকুই দায়ের জন্য প্রযোজ্য হয়।
উদ্দীপকে প্রকৌশলী রফিকের সাথে চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, তিনি সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দায় বহন করবেন। ফলে তাকে দুই লক্ষ টাকার দায় পরিশোধের চিঠি দেওয়া চুক্তি ও আইনের পরিপন্থী। অপরদিকে, তামীমের বয়স ১৫ বছর, অর্থাৎ সে অপ্রাপ্তবয়স্ক। অংশীদারি আইনানুযায়ী সে পূর্ণ অংশীদার নয় এবং ব্যবসায়ের দেনার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে দুই লক্ষ টাকা দাবি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। অতএব, রফিক ও তামীম উভয়ের ক্ষেত্রেই দুই লক্ষ টাকা করে পরিশোধের প্রেরিত চিঠি আইনগত ও যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও