পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পৌরনীতির শিক্ষক ক্লাসে বলেন ধর্মের ভিত্তিতে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশের দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন। এমতাবস্থায় ঐতিহাসিক নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনে জনাব 'ক' মুসলমানদের অধিকার সংবলিত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের ফলে ভারতবর্ষের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কি ছিল?
- খ)(2)
দ্বৈত শাসন কী? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিত দানকারী প্রস্তাবটি বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রস্তাবটির মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল -উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বৈত শাসন বলতে একই সরকারের অধীনে দুটি পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করার নীতিকে বোঝায়। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ ভারতের প্রদেশগুলোতে এ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এর অধীনে প্রাদেশিক সরকারের বিষয়গুলোকে 'হস্তান্তরিত' (Transferred) এবং 'সংরক্ষিত' (Reserved)—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। হস্তান্তরিত বিষয়গুলোর দায়িত্ব ছিল জনগণের দ্বারা নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বিষয়গুলোর দায়িত্ব ছিল ব্রিটিশ গভর্নরের নিজস্ব নির্বাহী পরিষদের হাতে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রস্তাবটি হলো ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর সম্মেলনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব'। লাহোর প্রস্তাবের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. ভৌগোলিক সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে পৃথক পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিতকরণ।
২. ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের মতো যে অঞ্চলগুলোতে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা।
৩. এই রাষ্ট্রসমূহের অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।
৪. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, স্বার্থ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানে সুস্পষ্ট রক্ষাকবচের বিধান রাখা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই মূলত স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ নিহিত ছিল—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাবে সুস্পষ্টভাবে ভারতবর্ষের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চল নিয়ে একাধিক 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠনের প্রস্তাব করেন। অর্থাৎ বাংলার জন্য একটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের ধারণাই ছিল এর মূল ভিত্তি।
কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে দিল্লির মুসলিম আইনপ্রণেতাদের কনভেনশনে জিন্নাহ চক্রান্তমূলকভাবে 'States' শব্দের পরিবর্তে 'State' লিখে একক পাকিস্তানের কথা ঘোষণা করেন। ফলে ১৯৪৭ সালে অবাস্তব ভৌগোলিক দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই পূর্ব বাংলার ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চালায়। এ শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি তাদের লাহোর প্রস্তাবের মূল দাবির দিকে বারবার ফিরে তাকায়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি—সবই মূলত লাহোর প্রস্তাবের প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌম ক্ষমতার নীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়েছিল। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই স্বায়ত্তশাসনের চেতনা থেকেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, লাহোর প্রস্তাবের 'States' প্রত্যয়টির মধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের বীজ রূপায়িত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও