জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে দু'জন বিজ্ঞানীর ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ। একজন বংশগতির সূত্রাবলী আবিষ্কার করেন এবং অপরজন বিবর্তন সম্পর্কিত প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ প্রদান করেন।

  1. ক)

    বিবর্তন কী?

    (1)
  2. খ)

    “পাখি একটি মহিমান্বিত সরীসৃপ”- ব্যাখ্যা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রথম উল্লিখিত বিজ্ঞানী প্রদত্ত একটি বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মৌলিক সূত্রটির ব্যাখ্যা দাও ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শেষে উল্লিখিত বিজ্ঞানী প্রদত্ত মতবাদটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত নয়-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধীর, ধারাবাহিক ও গতিশীল পরিবর্তনের মাধ্যমে সরল পূর্বপুরুষ থেকে অপেক্ষাকৃত জটিল ও উন্নত নতুন প্রজাতির উদ্ভব হওয়াকে বিবর্তন (Evolution) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিখ্যাত জীববিজ্ঞানী থমাস হেনরি হাক্সলি পাখিকে 'মহিমান্বিত সরীসৃপ' (Glorified reptile) বলে অভিহিত করেছেন। কারণ পাখিদের উৎপত্তি ঘটেছে মেসোজোয়িক যুগের সরীসৃপ জাতীয় পূর্বপুরুষ থেকে। গঠনগতভাবে পাখিদের দেহে সরীসৃপের বহু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান; যেমন—পাখির পশ্চাৎপদে এপিডার্মাল আঁইশ থাকা, করোটিতে একটিমাত্র অক্সিপিটাল কন্ডাইল থাকা, ডিমের বহিরাবরণী ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ হওয়া এবং কঙ্কালের মৌলিক মিল। পরবর্তীতে সরীসৃপ থেকে উদ্ভূত হয়ে উড়ার ক্ষমতা, উষ্ণরক্ত ও পালকের মতো মহিমান্বিত অভিযোজন লাভ করায় পাখিকে মহিমান্বিত সরীসৃপ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রথম উল্লিখিত বিজ্ঞানী হলেন গ্রেগর জোহান মেন্ডেল। একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাঁর প্রদত্ত মৌলিক সূত্রটি হলো মেন্ডেলের ১ম সূত্র বা 'পৃথকীকরণ সূত্র' (Law of Segregation)।

    সূত্রটির বিবৃতি:
    "সংকর জীবে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টরগুলো (বা জিনগুলো) মিশ্রিত বা পরিবর্তিত না হয়ে পাশাপাশি অবস্থান করে এবং জননকোষ (গ্যামেট) সৃষ্টির সময় পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে ভিন্ন ভিন্ন গ্যামেটে প্রবেশ করে।"

    ব্যাখ্যা:
    ধরা যাক, মটরশুঁটির বিশুদ্ধ লম্বা কাণ্ডের অ্যালিল T এবং বিশুদ্ধ খর্ব কাণ্ডের অ্যালিল t।
    প্যারেন্ট (P1): বিশুদ্ধ লম্বা (TT) × বিশুদ্ধ খর্ব (tt)
    গ্যামেট: T এবং t
    প্রথম বংশধর (F1): Tt (সকল সংকর লম্বা)
    F1 জনুর উদ্ভিদে সংকর লম্বা ফিনোটাইপ দেখা গেলেও এদের মধ্যে খর্ব বৈশিষ্ট্যের অ্যালিল (t) অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে।
    F1 জনুর দুটি উদ্ভিদের মধ্যে স্ব-পরাগায়ণ ঘটালে গ্যামেট তৈরির সময় T ও t আলাদা হয়ে যায়। ফলে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত পাওয়া যায় ৩টি লম্বা : ১টি খর্ব (জিনোটাইপিক অনুপাত ১:২:১)। এটিই পৃথকীকরণ সূত্রের সত্যতা প্রমাণ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শেষে উল্লিখিত বিজ্ঞানী হলেন চার্লস ডারউইন, যিনি বিবর্তন সম্পর্কিত 'প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ' (Darwinism) প্রদান করেন। ডারউইনের এ তত্ত্ব আধুনিক জীববিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি রয়েছে, যার কারণে মতবাদটি পুরোপুরি প্রশ্নাতীত নয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. প্রকরণের উৎপত্তি সম্পর্কে অজ্ঞতা: ডারউইন প্রকরণকে বিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করলেও প্রকরণ কীভাবে সৃষ্টি হয় তা জেনেটিক্সের জ্ঞানের অভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
    ২. যোগ্যতমের টিকে থাকা বনাম আবির্ভাব: ডারউইনের মতবাদ উপযুক্তদের টিকে থাকা (survival of the fittest) ব্যাখ্যা করতে পারলেও নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব বা উৎপত্তি (arrival of the fittest) ব্যাখ্যায় ব্যর্থ হয়েছে।
    ৩. অবিচ্ছিন্ন ও বিচ্ছিন্ন প্রকরণ: ডারউইন ছোট ছোট অবিচ্ছিন্ন প্রকরণকে বিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি মনে করেছিলেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বৃহৎ ও বংশানুসরণযোগ্য মিউটেশন বা বিচ্ছিন্ন প্রকরণই বিবর্তনে প্রধান ভূমিকা রাখে।
    ৪. নিষ্ক্রিয় বা ক্ষতিকর অঙ্গের উপস্থিতি: প্রকৃতিতে বহু জীবে অপ্রয়োজনীয় বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গ (vestigial organs) কীভাবে টিকে থাকে, প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব তা সন্তোষজনকভাবে তুলে ধরতে পারে না।
    ৫. অঙ্গের অতিরিক্ত বিকাশ: আইরিশ হরিণের অতিবৃহৎ শিং বা ম্যামথের দাঁতের মতো অতিরিক্ত বিকাশশীল ক্ষতিকর অঙ্গ প্রাকৃতিক নির্বাচনের নিয়ম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়নি।

    অতএব, বিবর্তনের প্রথম কার্যকর বৈজ্ঞানিক পথপ্রদর্শক হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক জিনতত্ত্ব, পরিব্যক্তিবাদ (Mutation theory) ইত্যাদির আলোকে চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদটি সার্বিকভাবে ত্রুটিমুক্ত বা প্রশ্নাতীত নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন