সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

সহপাঠ প্রশ্ন

'বিসর্জন' নাটকে সন্তানতুল্য ছাগশিশুকে দেবীর মন্দিরে বলি দেওয়ার কারণে এক অনুপম প্রতীক।"- বিশ্লেষণ করো। শোকার্ত ভিখারী অপর্ণা। সে রাজা গোবিন্দ মাণিক্যের কাছে বিচারপ্রার্থী হয়। সন্তানহারা ভিখারীর দুঃখ রাজচিত্তকে আহত করে। রাজা রাজ্যে পশুবলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন কিন্তু তাঁর এ আদেশ মেনে নিতে পারে না রাজ-পুরোহিত রঘুপতি। তিনি রাজার অনুজ নক্ষত্র রায়কে রাজ্যলোভে বশ করে রাজাকে হত্যা করতে রাজি করান।

  1. ক)

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোথায় বন্দি হন?

    (1)
  2. খ)

    "ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়।"- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নক্ষত্র রায়ের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগমের সাদৃশ্য দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তুর আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।" তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নবাব সিরাজউদ্দৌলা ভগবানগোলায় এক ফকিরের (দানশাহ) সহায়তায় মীর কাশেমের সৈন্যদের হাতে বন্দি হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়"—কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, যারা কাপুরুষ ও বিশ্বাসঘাতক, তারা নিজেদের অসততা ও অপরাধবোধের কারণে বিপদের মুখে কখনো স্থির থাকতে পারে না এবং পালিয়ে আত্মরক্ষা করতে চায়।

    নাটকে যখন মোহনলাল ও মীরমদনের মতো বীর দেশপ্রেমিকরা পলাশীর প্রান্তরে প্রাণপণ যুদ্ধ করছিলেন, তখন অন্যদিকে স্বার্থান্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারী দল ছিল ভীতসন্ত্রস্ত। তাদের মনে সত্য বা দেশপ্রেমের কোনো ভিত্তি ছিল না। নবাবের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা সত্ত্বেও চক্রান্তকারীরা নিজেদের অপরাধ সম্পর্কে সচেতন ছিল বলেই বিপদের সামান্য আঁচেই তাদের কাপুরুষতার পরিচয় ফুটে উঠত। এই সত্যকে স্পষ্ট করতেই উক্তিটি করা হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের নক্ষত্র রায়ের সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগমের সিংহাসন বা ক্ষমতার লোভে নিজের আত্মীয় ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।

    'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ঘসেটি বেগম ছিলেন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বড় খালা। কিন্তু নবাবের প্রতি তীব্র ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং ক্ষমতার অন্ধ লোভে তিনি বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজের পতন ঘটাতে ব্রিটিশ ও মীরজাফরদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। আপন রক্ত বা সম্পর্কের চেয়ে তাঁর কাছে ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতালিপ্সা বড় হয়ে উঠেছিল।

    উদ্দীপকের নক্ষত্র রায়ও একইভাবে রাজ-পুরোহিত রঘুপতির প্ররোচনায় রাজ্যলোভে অন্ধ হয়ে নিজের আপন ভাই রাজা গোবিন্দ মাণিক্যকে হত্যা করতে রাজি হয়। ঘসেটি বেগম ও নক্ষত্র রায় উভয়েই ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে আপনজনকে ধ্বংস করার মতো নিষ্ঠুর ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। এই অন্ধ ক্ষমতালিপ্সা ও বিশ্বাসঘাতকতায় দুজনের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য বিদ্যমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তুর আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' নাটকের একটি ঘটনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে রাজ্যলোভী নক্ষত্র রায় পুরোহিতের চক্রান্তে আপন ভাই রাজাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। অর্থাৎ উদ্দীপকে কেবল ক্ষমতার লোভ এবং অভ্যন্তরীণ প্রাসাদ-ষড়যন্ত্রের দিকটি উন্মোচিত হয়েছে।

    কিন্তু সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিষয়বস্তু কেবল পারিবারিক ষড়যন্ত্র বা সিংহাসন দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই নাটকে তৎকালীন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তির বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পলাশীর যুদ্ধ, মীরজাফরদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার ট্র্যাজিক পরিণতির মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর এক মহাকাব্যিক চিত্র ফুটে উঠেছে।

    সুতরাং উদ্দীপকের নক্ষত্র রায়ের ষড়যন্ত্রের বিষয়টি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ঘসেটি বেগম কিংবা মীরজাফরের চক্রান্তের একটি ক্ষুদ্র অংশের সঙ্গে মিলে গেলেও নাটকের মূল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, জাতীয় সংকট ও সামগ্রিক ইতিহাস উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নাটকের সমগ্র বিষয়বস্তু নয়, বরং কেবল আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন