বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
"তরুণ নামের জয়-মকুট শুধু তাহারই যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উৎসাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে।"
- ক)(1)
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
"তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা।"—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ভাবার্থের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার সাদৃশ্য নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
"তারুণ্যই সমাজ বিনির্মাণের চালিকাশক্তি।"-উদ্দীপক এবং 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"তাজা তাজা প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা" বলতে আঠারো বছর বয়সের তরুণদের সংবেদনশীল মনে চারপাশের অন্যায়, শোষণ ও সামাজিক অসংগতি দেখে যে তীব্র মানসিক পীড়ন ও বেদনাবোধ তৈরি হয়, তাকে বোঝানো হয়েছে।
এ বয়সে তরুণরা অন্যায় ও বৈষম্যকে সহজে মেনে নিতে পারে না। তাদের আত্মমর্যাদাবোধ প্রখর থাকে এবং পরাধীনতা ও শোষণের বিরুদ্ধে তাদের রক্ত টগবগ করে ফোটে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা পঙ্কিলতা ও মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে তাদের সংবেদনশীল হৃদয়ে তীব্র যাতনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ভাবার্থের সাথে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার তরুণদের অদম্য শক্তি, দুর্বার গতি ও অফুরন্ত প্রাণশক্তির দিকটির গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তারুণ্যের অসীম তেজ ও ইতিবাচক শক্তির বন্দনা করেছেন। আঠারো বছর বয়সে পদার্পণকারী তরুণরা অটল সাহসে দুর্যোগ-ঝঞ্ঝার মুখোমুখি হয়। তারা রক্তদানের পুণ্য অর্জনে ভয় পায় না এবং মৃত্যুকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে যেকোনো বিপদের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকেও দেখা যায় তারুণ্যের মহিমা বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে—তরুণের শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার মতো, তেজ দ্বিপ্রহরের সূর্যের মতো এবং মৃত্যু তাদের মুঠোর মধ্যে। কবিতার মতোই উদ্দীপকে তারুণ্যের অফুরন্ত প্রাণশক্তি, নির্ভীক পথচলা ও অটল সাধনার জয়গান গাওয়া হয়েছে। উভয় স্থানেই তারুণ্যের অমিত তেজ ও সাহসিকতার দিকটি প্রধান হয়ে ওঠায় এদের মধ্যে স্পষ্ট সাদৃশ্য প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"তারুণ্যই সমাজ বিনির্মাণের চালিকাশক্তি"—মন্তব্যটি উদ্দীপক এবং 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আলোকে অত্যন্ত যথার্থ।
ইতিহাস সাক্ষী, জরাজীর্ণ সমাজব্যবস্থা ভেঙে নতুন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন কীভাবে তরুণরা সব ভীরুতা ও বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যায়। তাদের আত্মত্যাগ ও শপথে সমাজ থেকে অন্যায়ের অবসান ঘটে। কবি তাই কামনা করেছেন এই দেশের বুকে আঠারোর নির্ভীক তারুণ্য যেন বারবার নেমে আসে এবং সমাজকে নতুন করে বিনির্মাণ করে।
উদ্দীপকেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তরুণের আশা বিপুল, উৎসাহ ক্লান্তিহীন, ঔদার্য বিরাট এবং সাধনা অটল। তরুণরা তাদের অপরিসীম প্রাণশক্তি দিয়ে মৃত্যুকেও জয় করার স্পর্ধা রাখে। একটি অনগ্রসর বা ঘুণে ধরা সমাজকে সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে হলে যে ক্লান্তিহীন উদ্যম ও অটল সংকল্পের প্রয়োজন হয়, তা কেবল তরুণ সমাজের পক্ষেই ধারণ করা সম্ভব।
অতএব, উদ্দীপক ও কবিতার সমন্বিত আলোচনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তারুণ্যের নির্ভীকতা, গতিশীলতা ও ত্যাগই যেকোনো ইতিবাচক রূপান্তর ও সমাজ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও