সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নবোপলীয় বিপ্লব কী?

    (1)
  2. খ)

    "চাকার আবিষ্কার সভ্যতা বিকাশের অন্যতম ভিত্তি”- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের কোন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসকে ধারণ করে"- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নব্যপ্রস্তর যুগে কৃষির আবিষ্কার ও স্থায়ী বসবাসের ফলে মানুষের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে যে সুদূরপ্রসারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে ঐতিহাসিক ভি. গর্ডন চাইল্ড 'নবোপলীয় বিপ্লব' (Neolithic Revolution) বলে অভিহিত করেছেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাকার আবিষ্কার মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে।

    চাকা আবিষ্কারের পূর্বে মানুষকে হেঁটে বা পশুর পিঠে চড়ে যাতায়াত করতে হতো এবং ভারী মালামাল পরিবহন ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। চাকা আবিষ্কারের ফলে পরিবহন ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুততর হয়। দূর-দূরান্তের সাথে যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে চাকার ব্যবহার মৃৎশিল্পে চাকাচালিত যন্ত্র এবং কৃষি ও শিল্পোৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির বিকাশে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এভাবে গতিশীলতা ও প্রযুক্তির প্রসারের মাধ্যমে চাকা সভ্যতা বিকাশের অন্যতম মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান 'মহাস্থানগড়'-কে নির্দেশ করছে।

    বগুড়া জেলার করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার মৌর্য, শুঙ্গ, গুপ্ত, পাল ও সেন আমলের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী নগরী 'পুণ্ড্রনগর' হিসেবে পরিচিত। উদ্দীপকে চারটি নিদর্শনের কথা বলা হয়েছে: গন্ধেশ্বরীর মন্দির, তাম্র ও শিলালিপি, প্রস্তর মূর্তি এবং মুদ্রা।

    মহাস্থানগড়ের বৈরাগীর ভিটার দক্ষিণ-পূর্বে করতোয়া নদীর তীরে গন্ধেশ্বরী দেবীর একটি প্রাচীন মন্দির অবস্থিত। এছাড়া খননকাজের মাধ্যমে এখানে ব্রাহ্মী লিপিতে উৎকীর্ণ মহাস্থান ব্রাহ্মী শিলালিপি, তাম্রশাসন, পোড়ামাটির ফলক, পাথরের খোদাই করা বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রস্তর মূর্তি এবং মৌর্য-গুপ্ত আমলের রৌপ্য ও তাম্রমুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে। উদ্দীপকের এই সকল উপাদান স্পষ্টভাবে মহাস্থানগড়ের নিদর্শনাবলীর সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং, নিদর্শনগুলো মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের নিদর্শনসমূহ বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসকে ধারণ করে"— উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো মহাস্থানগড়ের, যা প্রাচীন বাংলার আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক উজ্জ্বল দলিল। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, বিশ্বাস, অর্থনৈতিক বিনিময় ও সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়।

    প্রথমত, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'গন্ধেশ্বরীর মন্দির' ও 'প্রস্তর মূর্তি' থেকে তৎকালীন সমাজের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং শিল্পকলার বিকাশ লক্ষ্য করা যায়। এখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সহাবস্থান দেখা গেছে, যা সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় উদারতার পরিচয় দেয়।

    দ্বিতীয়ত, আবিষ্কৃত 'তাম্র ও শিলালিপি' থেকে প্রাচীন বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, সামাজিক শ্রেণি ও বিভিন্ন শাসনামলের রাষ্ট্রীয় নীতি জানা যায়।

    তৃতীয়ত, খননকাজে প্রাপ্ত 'মুদ্রা' প্রমাণ করে যে সে সময় সমাজে মুদ্রাভিত্তিক অর্থনীতি ও সমৃদ্ধ ব্যবসা-বাণিজ্য প্রচলিত ছিল। আন্তঃআঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ফলে এক মিশ্র ও সমৃদ্ধ নগর সংস্কৃতির বিকাশ ঘটেছিল।

    অতএব, মন্দির, শিলালিপি, মূর্তি ও মুদ্রার মতো নিদর্শনগুলো প্রাচীন বাংলার মানুষের সামাজিক কাঠামো, ধর্মাচরণ, শিল্পরুচি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে মূর্ত করে তোলে। তাই বলা যায়, এ নিদর্শনসমূহ সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের সামাজিক ইতিহাসকে ধারণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন