বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

মালেকের ঘর তালেব পুড়িয়ে দেয়। মালেক প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তৎপর হয়। কিন্তু পরে তার এই স্পৃহা পরিবর্তিত হয়। তাকে ক্ষমা করে দেয়। এতে তালেব খুশি হয়ে মালেকের নতুন ঘর বেঁধে দেয়।

  1. ক)

    ‘প্রতিদান' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    কবি দীঘল রজনী জেগে থাকেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে মালেকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য কতটুকু? আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের চেতনা এবং ‘প্রতিদান' কবিতার মর্মকথা প্রায় একই।”—তুমি কি মনে কর? সপক্ষে যুক্তি দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'প্রতিদান' শব্দের আভিধানিক অর্থ প্রত্যুপকার বা কোনো কাজের পরিবর্তে অন্য কাজ করা, তবে কবিতায় এটি অপকারের বদলে উপকার করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে ব্যক্তি কবির ঘর ভেঙে দিয়েছে এবং পথের বিরাগী করেছে, কবি তার উপকারের জন্য এবং তার বাসযোগ্য ঘর বাঁধার চিন্তায় অনিদ্রায় দীঘল রজনী জেগে থাকেন।

    কবি জসীমউদ্দীন তাঁর 'প্রতিদান' কবিতায় পরম মানবপ্রেম ও পরোপকারের আদর্শ ব্যক্ত করেছেন। সমাজে যে তাঁকে অনিষ্ট করে বা অনিকেত করে দেয়, কবি তার অনিষ্ট চিন্তা না করে বরং তার মঙ্গল কামনা করেন এবং তার ঘর বাঁধার আশায় নির্ঘুম রাত কাটান।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মালেকের মধ্যে 'প্রতিদান' কবিতার ক্ষমাশীলতা ও অপকারের পরিবর্তে অপকার না করার মানসিকতার দিক থেকে যথেষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।

    'প্রতিদান' কবিতায় কবি আঘাতের বিপরীতে আঘাত না করে বরং ভালোবাসা দিয়ে শত্রুভাবাপন্ন মানুষকে আপন করে নেওয়ার কথা বলেছেন। কবির মূল লক্ষ্য অনিষ্টকারীর ক্ষতি না করে ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে সংশোধন করা।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তালেব মালেকের ঘর পুড়িয়ে দিলে মালেক প্রথমে প্রতিশোধপরায়ণ হলেও পরে নিজের ক্রোধ সংবরণ করে এবং তাকে ক্ষমা করে দেয়। এই প্রতিশোধস্পৃহা ত্যাগ করে শত্রুকে ক্ষমা করার মানসিকতা 'প্রতিদান' কবিতার উদার মানবতাবোধ ও ক্ষমার আদর্শের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চেতনা এবং ‘প্রতিদান’ কবিতার মর্মকথা প্রায় একই—এই মন্তব্যের সাথে আমি একমত।

    'প্রতিদান' কবিতায় কবি হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিশোধের বিপরীতে ভালোবাসা, পরোপকার ও ক্ষমার মহত্ত্ব প্রচার করেছেন। কবি বিশ্বাস করেন, ক্ষমার শক্তি ও অনিষ্টকারীর প্রতি ভালোবাসাই পারে শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে। যে কবিকে আঘাত করে, কবি তাকে প্রতিদানে ভালোবাসার উপহার দেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, মালেকের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও সে প্রতিশোধ না নিয়ে তালেবকে ক্ষমা করে দিয়েছে। মালেকের এই ক্ষমাসুন্দর আচরণ তালেবের মনোজগতে পরিবর্তন আনে এবং সে খুশি হয়ে মালেককে নতুন ঘর বেঁধে দেয়। অর্থাৎ হিংসার জবাব ক্ষমার মাধ্যমে দেওয়ার ফলেই সেখানে ইতিবাচক পরিণতি ঘটেছে।

    সুতরাং দেখা যায়, অপকারের বদলে প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা ও ভালোবাসার মাধ্যমে শত্রুকে জয় করাই উদ্দীপক ও কবিতা উভয়ের মূল উপজীব্য। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চেতনা এবং 'প্রতিদান' কবিতার মর্মকথা মূলত একই দর্শনে প্রতিষ্ঠিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন