পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
মরিয়ম একজন কলেজ ছাত্রী। সে সবার সাথে উত্তম আচরণ করে। নববর্ষে ও অন্যান্য উৎসবে সবাইকে সালাম ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। সে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের নিয়ম-কানুন মেনে বড়দের সম্মান এবং ছোটদের স্নেহ করে। সমাজের কিশোর-কিশোরীরা তাকে অনুসরণ করে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী রহিম রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলে, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালন করে। তার মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতাও বিদ্যমান। উভয়ের শিক্ষক জনাব হাবিবুল্লাহ বললেন, "এ ধরনের আচরণ সমাজও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশা করে।"
- ক)(1)
মূল্যবোধ কী?
- খ)(2)
'সুয়োগ-সুবিধার সমতাই হলো সাম্য' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মরিয়ম ও কিশোর-কিশোরীদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে কোন ধরনের মূল্যবোধ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো। 2
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর উদ্দীপকের রহিমের আচরণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার সহায়ক? মতামত দাও। ৪
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্প মানুষের সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, তাকে মূল্যবোধ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'সুযোগ-সুবিধার সমতাই হলো সাম্য'—উক্তিটি দ্বারা নাগরিক জীবনের অধিকার ভোগ এবং আত্মবিকাশের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ প্রদানকে বোঝানো হয়েছে।
সাধারণ অর্থে সাম্য বলতে সবার সমান অবস্থানকে বোঝায়। কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাম্য বলতে কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি এবং মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সবার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি করাকে বোঝায়। সমাজ ও রাষ্ট্রে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল নাগরিক যেন সমান সুযোগ পেয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশ করতে পারে, তাই হলো সাম্য। সুতরাং, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই হলো প্রকৃত সাম্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মরিয়ম ও কিশোর-কিশোরীদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে 'সামাজিক মূল্যবোধ' ফুটে উঠেছে।
যেসব চিন্তা, ভাবনা, আচার-আচরণ ও আদর্শ সমাজকে সুশৃঙ্খল রাখে এবং যার ভিত্তিতে সমাজের ভালো-মন্দ নির্ধারিত হয়, তাকে সামাজিক মূল্যবোধ বলে। যেমন—বড়দের শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা, শিষ্টাচার প্রদর্শন করা এবং সমাজের প্রথা ও রীতিনীতি মেনে চলা ইত্যাদি সামাজিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে মরিয়ম সবার সাথে উত্তম আচরণ করে, বিভিন্ন উৎসবে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করে। সে তার প্রতিষ্ঠানের এবং সমাজের নিয়ম-কানুন মেনে বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করে। সমাজের কিশোর-কিশোরীরাও তার এই শিষ্টাচারপূর্ণ ইতিবাচক আচরণ দেখে তাকে অনুসরণ করছে। মরিয়মের এ সমস্ত কর্মকাণ্ড মূলত সমাজ স্বীকৃত শিষ্টাচার, ভদ্রতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ। অতএব, মরিয়ম ও কিশোর-কিশোরীদের এসব আচরণের মধ্য দিয়ে সামাজিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের রহিমের আচরণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার মূল শর্ত হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, পরমতসহিষ্ণুতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক সচেতনতা। রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করা প্রতিটি সুনাগরিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নাগরিকদের নৈতিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া রাষ্ট্রে আইনের শাসন বা সুশাসন কায়েম হতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিক্ষার্থী রহিম রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে। পাশাপাশি তার মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার মতো মহৎ গুণাবলি বিদ্যমান। কোনো সমাজে বা রাষ্ট্রে আইন মানার প্রবণতা এবং বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় থাকলে সেখানে সংঘাত কমে আসে এবং সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক গড়ে উঠলে দুর্নীতি হ্রাস পায়, বৈষম্য দূর হয় এবং সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
রহিমের এই ইতিবাচক আচরণগুলো একজন আদর্শ নাগরিকের পরিচায়ক, যা রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। সুতরাং, উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, রহিমের এ ধরনের দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান ও অন্যতম সহায়ক শক্তি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও