সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

মাস্টার পাড়ার ছোট শিশু রাবিত হাসান। সে জানায় তার দাদা, মা-বাবা, ভাই-বোন মিথ্যা কথা বলে না। তারা তাকে শিখিয়েছেন-অপরাধ করা পাপ, বড়দের দেখলে সালাম দিতে হয়। আরও শিখিয়েছেন বিয়ের সময় যৌতুক নেওয়া, অল্প বয়সে বিয়ে করা ও শান্তি বিনষ্টকারী জঙ্গিবাদকে ঘৃণা করতে।

  1. ক)

    পরিবার কী?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে কোন সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সামাজিক প্রতিষ্ঠানটির আরও ভূমিকা রয়েছে-মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবার হলো বিবাহ, রক্ত বা দত্তক সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ এমন একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা দল, যেখানে সদস্যরা একটি সাধারণ আবাসস্থলে একত্রে বসবাস করে এবং পারস্পরিক দায়িত্ব পালন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে মানবসমাজের এমন এক সুসংহত রূপ ও স্থায়ী কর্মপ্রণালীকে বোঝায়, যা মানুষের মৌলিক সামাজিক চাহিদা পূরণ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত। এটি সমাজস্বীকৃত আচার-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি ও বিধিব্যবস্থার সমষ্টি (যেমন: পরিবার, বিবাহ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'পরিবার'-এর ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিবার হলো মানবজাতির আদিম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যা শিশুর প্রাথমিক সামাজিকীকরণ নিশ্চিত করে। পরিবারেই একটি শিশুর মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা ও আচরণের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাবিত হাসান তার দাদা, মা-বাবা এবং ভাই-বোনদের কাছ থেকে সত্যবাদিতা, বড়দের শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন শিখেছে। পরিবার তাকে অপরাধ, যৌতুক, বাল্যবিয়ে এবং জঙ্গিবাদের মতো সামাজিক সমস্যার কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছে। সুতরাং, এসব সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে উদ্দীপকে 'পরিবার' নামক প্রতিষ্ঠানের সামাজিকীকরণ ও নীতিশিক্ষাদানের ভূমিকা প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি অর্থাৎ পরিবারের নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিকীকরণের বাইরেও সমাজে বহুবিধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    পরিবার কেবল নীতিশিক্ষা দেয় না, বরং মানুষের অস্তিত্ব ও সমাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বহুমুখী দায়িত্ব পালন করে। পরিবারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. জৈবিক কাজ: মানব প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন পরিবারের মৌলিক কাজ।
    ২. অর্থনৈতিক ভূমিকা: পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রদান করা।
    ৩. শিক্ষাদান ও বিনোদনমূলক কাজ: শিশুর প্রাথমিক বর্ণমালা ও জ্ঞানচর্চার ভিত্তি তৈরি হয় পরিবারে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের অবসর যাপন ও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম এটি।
    ৪. মনস্তাত্ত্বিক ও আবেগীয় নিরাপত্তা: পরিবার সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা, স্নেহ ও সহমর্মিতার বন্ধন তৈরি করে মানসিক তৃপ্তি জোগায়।
    ৫. সামাজিক অবস্থান নির্ধারণ: জন্মের মাধ্যমে ব্যক্তি একটি সুনির্দিষ্ট পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা লাভ করে।

    অতএব, দেখা যায় যে সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ ও সংহতি রক্ষায় পরিবারের ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন